কাপড় বা শরীর কি নাপাক হয়েছে
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন: শরীর চুলকানোর ফলে সামান্য শিশির বিন্দুর মতো স্বচ্ছ তরল বের হয়েছিল, গোসল করার সাথে সাথে তা গামছা দিয়ে মুছে ফেলি এবং সেই গামছা দিয়েই না ধুয়ে পুরো শরীর মুছে ফেলি। এখন আমার শরীর বা কাপড় কি নাপাক হয়েছে?
উত্তর
১. তরলটি প্রবাহিত হয়েছে কি না তার ওপর নির্ভর করে শরয়ী হুকুম:*
- প্রবাহিত না হলে: শরীর চুলকানোর পর যদি তরলটি সামান্য শিশির বিন্দুর মতো বের হয়ে ওখানেই অবস্থান করে এবং নিজ থেকে গড়িয়ে বা প্রবাহিত হয়ে ক্ষতস্থানের মুখ অতিক্রম না করে, তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে ঐ তরলটি পবিত্র (পাক)।
- প্রবাহিত হলে: যদি তরলটি শিশির বিন্দুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হতো এবং নিজ থেকে গড়িয়ে শরীরের অন্য কোনো অংশে ছড়িয়ে পড়ত (যাকে ফিকহের পরিভাষায় 'সাইল' বা প্রবাহিত হওয়া বলে), তবে তা নাপাক হিসেবে গণ্য হতো।
২. আপনার বর্তমান অবস্থার ফয়সালা:
- শরীর ও কাপড়ের হুকুম: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, তরলটি ছিল "সামান্য শিশির বিন্দুর মতো"। সাধারণত এ ধরনের তরল নিজে নিজে প্রবাহিত হয় না ]। যেহেতু এটি প্রবাহিত হয়নি, সেহেতু এটি নাপাক নয় । সুতরাং এই পবিত্র তরল মোছার কারণে আপনার গামছা নাপাক হয়নি এবং ঐ গামছা দিয়ে পুরো শরীর মোছার কারণে আপনার শরীরও নাপাক হয়নি। আপনার শরীর এবং কাপড় উভয়ই সম্পূর্ণরূপে পবিত্র রয়েছে।
- অযু বা গোসলের হুকুম: যেহেতু তরলটি প্রবাহিত হয়নি, তাই এর দ্বারা আপনার ওযু ভাঙেনি এবং আপনার করা গোসলও নষ্ট হয়নি।
৩. ফিকহী মূলনীতি:
হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো—শরীর থেকে নির্গত রক্ত, পুঁজ বা এ জাতীয় স্বচ্ছ তরল তখনই নাপাক হয় এবং ওযু ভঙ্গ করে, যখন তা ক্ষতস্থানের মুখ থেকে প্রবাহিত হয়ে গড়িয়ে পড়ে। যদি তা বের হয়ে ওখানেই জমে থাকে এবং প্রবাহিত না হয়, তবে তা নাপাক নয়। ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি ক্ষতস্থান থেকে সামান্য রক্ত বা তরল বের হয় এবং তা মুছে ফেলা হয়, কিন্তু তা এমন পরিমাণে ছিল না যে নিজে থেকে গড়িয়ে পড়ত, তবে তা দ্বারা পবিত্রতা নষ্ট হয় না।
সূত্র (কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর):
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ৮৪-৮৫ (অযু ভঙ্গের কারণ ও রক্ত/তরল প্রবাহিত হওয়ার বিধান অধ্যায়)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১১ (প্রথম পরিচ্ছেদ: ওযুর বিবরণ — ক্ষতস্থান থেকে নির্গত তরলের হুকুম)।
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ১৫-১৬ (নাজাসাতের বর্ণনা অধ্যায় — নাপাক পানির হুকুম)।
আল্লাহই ভালো জানেন।