রীক্ষার হলে অন্যের খাতা দেখা, দেখানো, বলা বা শোনানো কি জায়েয?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5124
Questioner: Muhammad Parvez Hossain
Question Asked: 08 Sep 2026, 12:16 AM
Reviewed & Published: 08 Sep 2026, 01:34 AM
Views: 28
Tokens: 1,803
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

exam hall a ki onno joner khata dekha jabe?
onno kawke ki dekhano jabe?
kawke ki bola jabe?
karota ki suna jabe?

Answer

Exam-এ অন্যের খাতা দেখা, দেখানো, বলা বা শোনানো

প্রশ্ন: পরীক্ষার হলে কি অন্যের খাতা দেখা যাবে? অন্য কাউকে কি দেখানো যাবে? কাউকে কি বলা যাবে? কারো কথা কি শোনা যাবে?


উত্তর

পরীক্ষার হলে অন্যের খাতা দেখা, দেখানো, বলা বা শোনানো—এই সবগুলোই হারাম (নাজায়েয) এবং গুনাহের কাজ। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. অন্যের খাতা দেখা (Looking at someone else's answer sheet)

পরীক্ষার হলে অন্যের খাতা থেকে উত্তর দেখে নেওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। এটি প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির অন্তর্ভুক্ত।

দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا "যে আমাদেরকে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০১)

পরীক্ষায় নকল করা একটি গুরুতর প্রতারণা, যা ইসলামী দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।

২. অন্যকে খাতা দেখানো (Showing your answer sheet to others)

নিজের খাতা অন্যকে দেখানো বা দেখার সুযোগ করে দেওয়াও হারাম ও নাজায়েয। কারণ এতে আপনি অন্যকে গুনাহের কাজে সহযোগিতা করছেন।

দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরের সহযোগিতা করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)

অন্যকে খাতা দেখানো পাপের কাজে সহযোগিতা করার শামিল।

৩. কাউকে উত্তর বলা (Telling answers to someone)

পরীক্ষার সময় অন্যকে উত্তর বলে দেওয়াও হারাম। এটি প্রতারণার একটি রূপ এবং পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ।

৪. কারো কথা শোনা (Listening to someone's answers)

অন্যের কাছ থেকে উত্তর শুনে নেওয়াও হারাম। কারণ এটি নকল করারই একটি পদ্ধতি।


ইসলামী নীতিমালা

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন যে, প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি সকল প্রকার লেনদেন ও কর্মক্ষেত্রে হারাম। পরীক্ষার নকলও এর ব্যতিক্রম নয়।

ফাতাওয়া উসমানী-তে উল্লেখ আছে যে, পরীক্ষায় নকল করা, নকল করানো বা নকলের সহযোগিতা করা—সবই গুনাহের কাজ এবং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত সাফল্য বরকতহীন।


পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি

১. নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়া। ২. আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা। ৩. পরীক্ষার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া। ৪. পরীক্ষার হলে সৎ ও সততার সাথে উত্তর লেখা।


উপসংহার

পরীক্ষার হলে অন্যের খাতা দেখা, অন্যকে খাতা দেখানো, কাউকে উত্তর বলা বা কারো উত্তর শোনা—এই চারটি কাজই হারাম ও নাজায়েয। এর মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য বরকতহীন এবং তা আল্লাহর নিকট গুনাহের কারণ হবে। মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত সততা ও নিষ্ঠার সাথে পরীক্ষা দেওয়া এবং প্রতারণা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ "আল্লাহই সর্বাধিক সঠিক জানেন।"



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.