তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও।" এক্ষেত্রে কয় তালাক হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
তখন আমি কড়াভাবে বলে দেই যে আমি তার চাচা, চাচী বা তাদের কারো সাথেই কোন প্রকার যোগাযোগ করি না। এরপর আমি উল্লেখ করি, পাঁচজন ক্যারেক্টার— চাচা, চাচী, ফুফা, ফুফু, খালা এরকম কারো সাথেই আমি যোগাযোগ করি না। করি নাই, করি না, করি নাই— এটা।
তখন সে বলে যে, "যোগাযোগ করি নাই ঠিক আছে, কিন্তু তাহলে তারা যেহেতু তার আত্মীয়, তার পক্ষে কথা না বলে কেন আমার পক্ষে কথা বলল? তার চাচা কেন আমার পক্ষে কথা বলল?"
আমি বারবার একই উত্তর দিচ্ছিলাম যে আমি কোন কথাই শুনব না কারণ আমি এগুলো করি নাই। আর সে বলতেছিল যে তার ফ্যামিলি ( তার মা বা অন্য তার ভাইরা আছে), তাদেরকে তো ( চাচা চাচি ফুফা ফুফু) কাউকে পছন্দ করে না যে ঘরের কথা গিয়ে বলবে। তাহলে লিকটা কোথায়? এটা তার মূল প্রশ্ন এবং বারবার এই প্রশ্নই করতেছিল।
আর আমি এটাই বলতেছিলাম যে, "দেখো আমি এর কিছুই জানি না। আমি এ ব্যাপারে তাদেরকে কিছু বলিও নাই। ব্যাস আমি কোন কথা শুনব না।"
তখন সে আমাকে বলছে, "যদি আমি জানতে পারি..."
তখন বলল যে, "তাহলে তোমাকে তালাক দিব আমি।"
আমি বললাম যে, "Ok।"
তখন বলল যে, "তালাক দিব কি? তালাক হয়ে যাবে। যদি far and future এও কাউকে বলো তাও তালাক হয়ে যাবে। তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও।"
এতে কি তালাক পতিত হবে আমার উপর?
বি.দ্র. আমি আমার স্বামীর ফুফাতো বোনকে ম্যসেজে জানিয়েছিলাম মূল কথাটা যে, ঝামেলা চলছে আমদের। আমি ইচ্ছাকৃত জানাইনি। আমাকে ম্যাসেজ দিয়েছিল আমার স্বামীর ফুপাত বোন,তখন দুই- দিন কথা হয়েছিল। তাও সব না। মূল বিষয়টা। আর এই ঘটনার পর ওই বোনকে ফোন দিয়ে বলি - যে আমার স্বামী অনেক বাড়াবাড়ি করতেছে, কোনভাবে সে কাউকে কিছু বলছে কিনা অনিচ্ছাকৃত হলেও। তখন জানতে পারি, আমার শ্বশুরকে আমার চাচা শ্বশুর ফোন দিছিল, আমার কথা, আমাদের ছেলের কথা জিজ্ঞেস করছিল। তখন আমার শ্বশুর বলছেন যে, আমরা কেমন আছি উনার জানা নাই। তবে ভালই থাকার কথা। এটি চাচা শ্বশুরের মেয়ে সবার সামনে বলাতে, সবাই বিষয়টি জানতে পারে।
আমার স্বামীকে আমি রাতে গতরাতে জিজ্ঞেস করেছিল। কত তালাকের নিয়ত ছিল তার, সে পরিষ্কার ভাবে বলেছে- যদি আমি বলে থাকি তাদেরকে, তাহলে তার তালাক দেয়ার নিয়ত আছে। আর না বলে থাকলে তালাক হয়নাই। শর্ত পূরন না হলে তালাক হবেনা। আমি ম্যাসেযে আবার উল্লেখ করেছি আমি ৮ মাস ফেরত আসছি আমি তাদের কাউকে কখনোই ফোন দিয়ে কিছু বলিনি। এরপর আবার অই পাঁচজন মানুষকে উল্লেখ করি। তখন আমার স্বামীর উত্তর ছিল। তাহলে তো হইছেই। তালাক হয়নাই। সে পরিষ্কার ভাবে এটিও বলেছে, তাকে অসম্মানিত করার চেষ্টা করলে সে সহ্য করবেনা। সে এটা মেনে নিতে পারেনা। আমি তার ফুফাতো বোনকে যে বলেছিলাম এটা খুব কষ্ট থেকে বলেছিলাম। তাকে অসন্মানিত করার উদ্দেশ্যে না। আর সব তো বলি ই নাই।
ওই ৫ জনকে(চাচা,চাচী,ফুফা ফুফু,খালা) বলিনি,তবে তার ফুফাতো বোনকে বলেছি।
Answer
তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
"তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও" উক্ত শব্দ দ্বারা এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে।
এক্ষেত্রে "যাও" বলার দ্বারা যদি আরো এক তালাকের নিয়ত থাকে, সেক্ষেত্রে সর্বমোট দুই তালাকে বায়েন পতিত হবে।
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
উপরোক্ত বিবরণ অনুযায়ী, স্ত্রী তার শ্বশুরবাড়ির সাথে ঝামেলার কারণে দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে ছিলেন। একদিন স্বামী ফোন করে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন যে, তার চাচা কেন স্ত্রীর পক্ষে কথা বলছে। স্ত্রী বলেন যে, তিনি ৫ জন আত্মীয়ের (চাচা, চাচী, ফুফা, ফুফু, খালা) কারো সাথে যোগাযোগ করেননি। কিন্তু পরে জানা যায় যে, তিনি স্বামীর ফুফাতো বোনকে (যিনি উক্ত ৫ জনের মধ্যে নন) মেসেজে কিছু জানিয়েছিলেন। এরপর স্বামী রাগান্বিত হয়ে বলেন:
"তাহলে তোমাকে তালাক দিব আমি।"
স্ত্রী: "Ok"
স্বামী: "তালাক দিব কি? তালাক হয়ে যাবে। যদি far and future এও কাউকে বলো তাও তালাক হয়ে যাবে। তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও।"
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী বিশ্লেষণ
১. তালাকের শর্ত ও প্রকৃতি
আলোচ্য ঘটনায় স্বামী কর্তৃক উচ্চারিত বাক্যগুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন:
"তাহলে তোমাকে তালাক দিব আমি" - এটি ভবিষ্যৎসূচক শর্তসাপেক্ষ তালাকের ইঙ্গিত। কিন্তু সাথে সাথে তিনি বলেন "তালাক হয়ে যাবে" এবং "তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও" - এটি স্পষ্ট এবং তাৎক্ষণিক তালাক প্রদান।
২. "Ok" বলার প্রভাব
স্ত্রীর "Ok" বলা তালাকের জন্য সম্মতি নয়, বরং এটি স্বামীর হুমকির জবাবে বলা হয়েছে। ইসলামি ফিকহে তালাকের জন্য স্ত্রীর সম্মতি প্রয়োজন হয় না। তালাক স্বামীর ইচ্ছা ও উচ্চারণেই পতিত হয়। তাই স্ত্রীর "Ok" বলা তালাক পতিত হওয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক নয়।
৩. তালাকের সংখ্যা
স্বামী বলেছেন: "তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম" - "খোলা তালাক" বলতে সাধারণত এক তালাক বোঝানো হয়। তবে প্রশ্নে উল্লেখ আছে যে, স্বামী পরে বলেছেন, "যদি আমি বলে থাকি তাদেরকে, তাহলে তার তালাক দেয়ার নিয়ত আছে। আর না বলে থাকলে তালাক হয়নাই।"
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বামী নিজেই পরে স্বীকার করেছেন যে, তার তালাক দেয়ার নিয়ত শর্তসাপেক্ষ ছিল - যদি স্ত্রী উক্ত ৫ জনকে কিছু বলে থাকে। স্ত্রী উক্ত ৫ জনকে কিছু বলেননি, তবে স্বামীর ফুফাতো বোনকে বলেছেন, যিনি উক্ত ৫ জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন।
৪. শর্তসাপেক্ষ তালাক (তালাকে তালিক)
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষ তালাক (যেমন: "যদি তুমি অমুককে বলো, তাহলে তালাক") - শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত হয়। কিন্তু এখানে স্বামী নিজেই বলেছেন যে, তার নিয়ত ছিল - স্ত্রী যদি উক্ত ৫ জনকে বলে থাকে। স্ত্রী উক্ত ৫ জনকে বলেননি। তাই স্বামীর নিজস্ব স্বীকৃতি অনুযায়ী, শর্ত পূরণ হয়নি।
তবে প্রশ্ন হলো - স্বামী যে তাৎক্ষণিক তালাক দিয়েছেন ("তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও") - এটি কি শর্তসাপেক্ষ ছিল নাকি তাৎক্ষণিক?
৫. রাগান্বিত অবস্থায় তালাক
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, রাগান্বিত অবস্থায় তালাক দিলে তা পতিত হয়, যদি রাগ এমন পর্যায়ে না পৌঁছে যে, ব্যক্তি তার কথা ও কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞান হয়ে যায়। সাধারণ রাগ বা ক্রোধের অবস্থায় প্রদত্ত তালাক পতিত হয়।
ফতোয়া
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, আমাদের বিশ্লেষণ:
প্রথম অবস্থা: স্বামী বলেন, "তাহলে তোমাকে তালাক দিব আমি" - এটি ভবিষ্যৎসূচক, তাৎক্ষণিক তালাক নয়।
দ্বিতীয় অবস্থা: স্বামী বলেন, "তালাক দিব কি? তালাক হয়ে যাবে। যদি far and future এও কাউকে বলো তাও তালাক হয়ে যাবে। তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও।"
"তোমাকে আমি খোলা তালাক দিলাম, যাও" উক্ত শব্দ দ্বারা এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে।
এক্ষেত্রে "যাও" বলার দ্বারা যদি আরো এক তালাকের নিয়ত থাকে, সেক্ষেত্রে সর্বমোট দুই তালাকে বায়েন পতিত হবে।