.নিজের উপর বদদোয়া করে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়েছি। আল্লাহ কি মাফ করবেন?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
নিজের উপর বদদোয়া করেছিলাম। মানসিক ভাবে ঠিক ছিলাম না। নানান চাপে। এমন করে ফেলি। সেটা ৩-৪ ঘন্টা পরে মনে হলো এমন টা বলা ঠিক হয় নাই। তখন মাফ চেয়েছি মনে মনেই৷ যে আল্লাহ মাফ করে দাও। কিন্তু এখন ভয় হচ্ছে আল্লাহ যদি বদদোয়া কবুল করে ফেলেন তাহলে কি হবে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নকারীর নাম: রাজিয়া সুনতানা
উত্তর:
আপনি নিজের উপর বদদোয়া করেছেন, যা মানসিক চাপ ও অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে হয়েছে। এখন আপনি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটি খুবই ভালো কাজ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বান্দার তওবা কবুল করেন।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
১. আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম (পাপ) করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
২. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবা কবুল করেন, যতক্ষণ না সে মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু করে।" (তিরমিজি: ৩৫৩৭)
হানাফি ফিকহের আলোকে:
১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) -এ উল্লেখ আছে যে, নিজের উপর বদদোয়া করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং তা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে যদি কেউ করে ফেলে এবং অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, তবে আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করবেন। (রদ্দুল মুহতার, ১/৬৫০)
২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) -তে বলা হয়েছে, নিজের উপর বদদোয়া করা উচিত নয়। তবে যদি কেউ করে ফেলে, তবে তার জন্য উচিত বেশি বেশি ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখা। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩১৬)
৩. ফাতাওয়া উসমানি -তে উল্লেখ আছে, মানসিক চাপ বা অস্বাভাবিক অবস্থায় বলা বদদোয়া কবুল হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
لَا طَلَاقَ وَلَا عَتَاقَ فِي إِغْلَاقٍ "রাগের চরম অবস্থায় (মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায়) তালাক ও দাস মুক্তি কার্যকর হয় না।" (আবু দাউদ: ২১৯৩) অর্থাৎ, যে অবস্থায় মানুষ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, সেই অবস্থায় করা কোনো কাজ বা কথা শরীয়তের দৃষ্টিতে কার্যকরী হয় না।
আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:
আপনি মানসিক চাপ ও অস্বাভাবিক অবস্থায় বদদোয়া করেছেন। এটি আপনার ইচ্ছাকৃত বা সুস্থ মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত ছিল না। তাই এটি কবুল হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। তাছাড়া আপনি ৩-৪ ঘণ্টা পরেই অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটি আপনার ঈমান ও আল্লাহভীতির প্রমাণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ "আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি নিশ্চয়ই তাদের নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে আহ্বান করে।" (সূরা আল-বাকারা: ১৮৬)
আপনার করণীয়:
১. বেশি বেশি ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়ুন। ২. দরুদ শরীফ পড়ুন। ৩. আল্লাহর রহমতের উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন। নিরাশ হবেন না। ৪. নিয়মিত নামাজ পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। ৫. মনে মনে এই দোয়াটি পড়ুন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।"
মনে রাখবেন: আল্লাহ তাআলা তার বান্দার তওবায় অত্যন্ত খুশি হন। হাদিসে আছে, তোমাদের কেউ যখন তওবা করে, তখন আল্লাহ ততটাই খুশি হন, যতটা খুশি একজন মরুভূমির পথহারা ব্যক্তি তার হারানো উটটি ফিরে পেয়ে হয়। (বুখারি: ৬৩০৯)
আল্লাহ তাআলা আপনার তওবা কবুল করুন এবং আপনাকে মানসিক শান্তি দান করুন। আমিন।