প্রতারিত হওয়ার ব্যাপারে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5039
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 05 Sep 2026, 11:20 PM
Reviewed & Published: 05 Sep 2026, 11:42 PM
Views: 11
Tokens: 4,385
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমার দুটি বিষয়ে জানতে চাওয়ার আছে—

১) একটি পেইজ থেকে আমাকে মডারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ৫৩০ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বুঝতে পারি, তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং টাকাটি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে এই ৫৩০ টাকা কি আমার পক্ষ থেকে সদাকা হিসেবে গণ্য হবে? এই টাকা হারানোর কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সওয়াব বা প্রতিদান পাওয়ার আশা করা যায় কি?

২) সাম্প্রতিক সময়ে ছোট বাচ্চাকে সামলানোর কারণে নামাজ আদায় করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে এবং মাঝেমধ্যে নামাজ কাজাও হয়ে যাচ্ছে। এই প্রতারণার মাধ্যমে ৫৩০ টাকা হারানোকে কি আমার নামাজে গাফিলতিসহ কোনো গুনাহের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি বা গুনাহের প্রভাব হিসেবে মনে করা যায়? নাকি এ ধরনের বিপদকে নিশ্চিতভাবে শাস্তি বলা যাবে না?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার দুটি প্রশ্নের উত্তর নিম্নে দেওয়া হলো:

১) প্রতারণার মাধ্যমে হারানো ৫৩০ টাকা কি সদকা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর সওয়াব পাওয়া যাবে?

আপনার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে যে ৫৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে, তা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম (অবৈধ) সম্পদ। এই টাকা আপনার কাছ থেকে জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, তাই এটি আপনার পক্ষ থেকে সদকা হিসেবে গণ্য হবে না। সদকা হলো স্বেচ্ছায়, নিজের ইচ্ছায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেওয়া দান। প্রতারণার মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া টাকা সদকার মতো ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তবে, এই টাকা হারানোর কারণে আপনি যদি ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনি সওয়াব (প্রতিদান) পেতে পারেন। কারণ, যে মুমিন বিপদে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা রাখে, আল্লাহ তাকে প্রতিদান দেন। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ "আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দিন।" (সূরা আল-বাকারা: ১৫৫)

তাই, এই টাকা হারানোকে আপনি সদকা হিসেবে গণ্য করতে পারবেন না, তবে এই বিপদে ধৈর্য ধরার কারণে আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা করতে পারেন। তবে, প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া বা টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা আপনার কর্তব্য। যদি সম্ভব হয়, তাহলে আপনি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।


২) এই প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হারানো কি নামাজে গাফিলতির শাস্তি?

আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশে আপনি জানতে চেয়েছেন, ছোট বাচ্চার কারণে নামাজ কাজা হওয়া এবং এই প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হারানো—এগুলো কি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি?

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, কোনো নির্দিষ্ট বিপদ বা ক্ষতিকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর শাস্তি বলা যাবে না। বরং, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা বা সতর্কবাণী হতে পারে। আল্লাহ বলেন:

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ "স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের কারণে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যাতে তাদেরকে তাদের কর্মের কিছু অংশ আস্বাদন করানো হয়, সম্ভবত তারা ফিরে আসবে।" (সূরা আর-রুম: ৪১)

তবে, নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে, এই টাকা হারানো আপনার নামাজে গাফিলতির শাস্তি। কারণ, আল্লাহর শাস্তি বা পরীক্ষা নির্ধারণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি আল্লাহর গোপন বিষয়। তবে, এটি একটি সতর্কবাণী হতে পারে, যা আমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে এবং নামাজের প্রতি আরও যত্নবান হতে উৎসাহিত করে।

ছোট বাচ্চার কারণে নামাজ কাজা হওয়ার বিষয়ে, ইসলামে নামাজের ব্যাপারে বিশেষ যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, যদি কোনো কারণে নামাজ কাজা হয়ে যায়, তাহলে তওবা করা এবং কাজা নামাজ আদায় করা জরুরি। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং তিনি বান্দার তওবা কবুল করেন। আল্লাহ বলেন:

وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ "আর আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল সেই ব্যক্তির জন্য, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং সঠিক পথে থাকে।" (সূরা ত্বহা: ৮২)


উপসংহার

১. প্রতারণার মাধ্যমে হারানো ৫৩০ টাকা সদকা হিসেবে গণ্য হবে না, তবে এই বিপদে ধৈর্য ধরার কারণে আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা করা যেতে পারে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

২. এই টাকা হারানোকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর শাস্তি বলা যাবে না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা বা সতর্কবাণী হতে পারে। নামাজ কাজা হলে তওবা করে কাজা আদায় করা জরুরি। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং তিনি বান্দার তওবা কবুল করেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.