প্রতারণার ব্যাপারে
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
5038
Questioner:
Tisa Moni
Question Asked:
05 Sep 2026, 11:14 PM
Reviewed & Published:
05 Sep 2026, 11:38 PM
Views:
21
Tokens:
2,984
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আস সালামু আলাইকুম,
১) একটা পেইজ থেকে আমাকে মডারেটর নিয়োগ দিবে এই শর্তে ৫৩০৳ এডভান্স নিয়েছিলো, এখন দেখলাম তারা টাকা মেরে দিয়েছে, প্রতারণা করেছে, এক্ষেত্রে এই টাকাগুলো কি সদাকা হবে? বা কিভাবে কি হবে রবের কাছে, একটু জানাবেন অনুগ্রহ করে ।
২) সাম্প্রতিক সময়ে বাবু নিয়ে আমার নামাজ আদায় করতে অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার কারণে মাঝেমধ্যে কাজা হচ্ছে, তাই রব এমন শাস্তি দিলেন হতে পারে? মানে গুনাহের প্রভাব হিসেবে....
১) একটা পেইজ থেকে আমাকে মডারেটর নিয়োগ দিবে এই শর্তে ৫৩০৳ এডভান্স নিয়েছিলো, এখন দেখলাম তারা টাকা মেরে দিয়েছে, প্রতারণা করেছে, এক্ষেত্রে এই টাকাগুলো কি সদাকা হবে? বা কিভাবে কি হবে রবের কাছে, একটু জানাবেন অনুগ্রহ করে ।
২) সাম্প্রতিক সময়ে বাবু নিয়ে আমার নামাজ আদায় করতে অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার কারণে মাঝেমধ্যে কাজা হচ্ছে, তাই রব এমন শাস্তি দিলেন হতে পারে? মানে গুনাহের প্রভাব হিসেবে....
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
১) চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে নেওয়া টাকা সদকা হবে কি না এবং আখেরাতে এর ফয়সালা:
- সদকার হুকুম: প্রতারক চক্র চাকরি দেওয়ার নাম করে আপনার থেকে যে ৫৩০ টাকা অগ্রিম নিয়ে আত্মসাৎ করেছে, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট "আকল বিল বাতিল" (অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদ গ্রাস করা) এবং আত্মসাৎ বা গসবের অন্তর্ভুক্ত, যা মারাত্মক হারাম ও কবিরা গুনাহ ।
- প্রতারকের দৃষ্টিকোণ থেকে: এই আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে প্রতারক চক্রের পক্ষ থেকে কোনো সদকা করা সম্ভব নয় এবং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। শরিয়তের অকাট্য মূলনীতি অনুযায়ী: "আল্লাহ তা'আলা পবিত্র। তিনি কেবল পবিত্র ও হালাল বস্তুই কবুল করেন" [। অপবিত্র বা হারাম সম্পদ থেকে সদকা করা হলে তা আল্লাহর দরবারে প্রত্যাখ্যাত হয় ।
- আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে: যেহেতু আপনি এই টাকাটি সদকার নিয়ত বা ইচ্ছায় দেননি, তাই সরাসরি এটিকে আপনার পক্ষ থেকে করা সাধারণ নফল সদকা বলা যাবে না । কারণ শরিয়তের নিয়ম হলো: "নিয়ত ছাড়া কোনো আমলের সওয়াব অর্জিত হয় না" ।
- রবের দরবারে এর বিচার ও ফয়সালা: শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যে ব্যক্তি বা পেজ আপনার সাথে এই প্রতারণা করেছে, তাদের জন্য প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো আপনার এই টাকা আপনাকে দুনিয়াতেই ফেরত দেওয়া । যদি তারা দুনিয়াতে আপনার পাওনা ফেরত না দেয়, তবে আখেরাতের কঠিন আদালতে আপনি এর পূর্ণ ও সুনিশ্চিত বিচার পাবেন । হাদীসের নির্দেশনা অনুযায়ী:
- কেয়ামতের দিন এই জুলুমের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতারকের আমলনামার নেক আমল থেকে আপনার পাওনা সমপরিমাণ নেকি কেটে আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে।
- আর যদি প্রতারক ব্যক্তির কোনো নেক আমল না থাকে, তবে আপনার আমলনামার গুনাহসমূহ সমপরিমাণে কেটে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।
- সুতরাং, আপনি দুনিয়াতে প্রতারিত হলেও আল্লাহর দরবারে আপনার এই ক্ষতি বিন্দুমাত্র বৃথা যাবে না। এই লোকসানে ধৈর্য ধারণ করলে আপনি এর জন্য আল্লাহর নিকট অবশ্যই উত্তম প্রতিদান পাবেন।
কিতাব ও পৃষ্ঠা রেফারেন্স:
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৭৫-১৭৬ (অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ গ্রাস করার বিবরণ) ।
- পৃষ্ঠা: ১৮৬-১৮৭ (অন্যের সম্পদ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা)।
- পৃষ্ঠা: ১৮৯-১৯০ ও ৩৫২-৩৫৩ (অপবিত্র বা হারাম সম্পদ আল্লাহর নিকট কবুল না হওয়া)।
- পৃষ্ঠা: ২১০-২১১ (জুলুম ও হক নষ্টকারীর আখেরাতের সাজা)।
- কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়াসহ):
- পৃষ্ঠা: নং ১১১ (কায়দা নং: ৩৩৮ — নিয়ত ছাড়া আমল সহীহ না হওয়ার বিবরণ)।
২) সন্তান লালন-পালনের কারণে নামাযে কষ্ট হওয়া এবং কাজা হওয়া কি গুনাহের শাস্তি?
- শরয়ী সান্ত্বনা ও ফয়সালা: প্রথমত, সন্তান (বাবু) লালন-পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণে নামায আদায়ে কষ্ট হওয়া বা বিলম্ব হওয়া কোনো **গুনাহের শাস্তি বা রবের পক্ষ থেকে গজব নয় **। বরং এটি মাতৃত্বের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক মানবিক পরিস্থিতি ও ধৈর্যের পরীক্ষা । মানুষের জীবন-মরণ ও শারীরিক সুস্থতা-অসুস্থতা সবকিছুই আল্লাহ তা'আলার কুদরতী হাতে নিয়তিস্বরূপ অবতীর্ণ হয় ।
- শরিয়তের সহজতা ও মূলনীতি: ইসলাম অত্যন্ত সহজ একটি দ্বীন । আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ তা'আলা কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না"। শরিয়তের একটি প্রসিদ্ধ ও সর্বসম্মত মূলনীতি হলো: "বাস্তব সংকটের ক্ষেত্রে শরিয়ত সহজতা ও ছাড়ের নীতি অবলম্বন করে" এবং "আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে মানুষের সাধ্য ও শক্তি অনুযায়ী" ।
- নারীদের জন্য ঘরে নামাযের ফজিলত: একজন মায়ের জন্য তার সন্তানের যত্ন নেওয়া এবং তাকে সময় দেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এমনকি মহিলাদের জন্য মসজিদে জামাতে নামায পড়ার চেয়ে নিজেদের ঘরের কোণে একাগ্রতার সাথে নামায আদায় করাকে বহুগুণ উত্তম ও সওয়াবের কাজ হিসেবে হাদীস শরীফে ঘোষণা করা হয়েছে।
- কাজা হয়ে গেলে করণীয়: তবে মনে রাখতে হবে, শত কষ্টের মাঝেও ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করে নামায কাজা করা জায়েয নেই । কোনো ওয়াক্তের নামায যদি বাচ্চার কাজের ব্যস্ততায় বা অনাকাঙ্ক্ষিত ক্লান্তির ঘুমে ছুটে যায়, তবে জ্ঞান ফেরার বা সময় পাওয়ার সাথে সাথেই ত্বরিত গতিতে তা কাজা আদায় করে নেওয়া ফরয।
কিতাব ও পৃষ্ঠা রেফারেন্স:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৪৯ (মহিলাদের ঘরে নামাযের উত্তমতা ও ফজিলত)।
- পৃষ্ঠা: ৫৮ (সাধ্যের বাইরে আল্লাহর বিধান আরোপিত না হওয়া)।
- পৃষ্ঠা: ৬৯ (শারীরিক ওযরের সময় শরিয়তের সহজতা ও ছাড়ের বিবরণ)।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৭৮ (সংকট ও ওযরের সময় সহজতা অবলম্বন করার মূলনীতি)।
- পৃষ্ঠা: ৪৭১ (সাধ্য ও শক্তি অনুযায়ী আমল করার কায়দা) ।
- নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ১২৯ (ছুটে যাওয়া নামায কাজা করার বিবরণ ও নিয়মাবলী) [Noorul Izaah, Passage 129]।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।