আমলে কাসীর হয়েছে কী না? ও নামাজ পুনরায় পড়তে হবে কীনা?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5026
Questioner: Aslam
Question Asked: 05 Sep 2026, 05:12 PM
Reviewed & Published: 05 Sep 2026, 05:50 PM
Views: 25
Tokens: 3,948
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
নামাজে মধ্যবর্তী সময়ে যদি লুঙ্গির গিট খুলে সম্পূর্ণ পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় বা সতর উন্মুক্ত হওয়ার আশংকা দেখা দেয় , তখন পিছনে সতর উন্মুক্ত হয়েছে কীনা তা প্রতি রুকনে পিছনে হাত নিয়ে দেখা এবং লুঙ্গি পরিপূর্ণ নিচে পড়া থেকে রক্ষার জন্য এক হাত দিয়ে ধরে রাখা বা কাছা দিয়ে রাখা কি আমলে কাসীর হবে?
এক রুকনে ১/২ বারের বেশি নড়াচড়া হয় নি.. তবে ২য় রাকাত থেকে ৪র্থ রাকাতে প্রতি রুকনে ১/২ বার নড়াচড়া করা হয়েছে।
২‌য় তো একি সাথে বায়ুর চাপ আসে আর সিজদায় যদি শরীরকে বা পা কে একটু ১/২ বার নাড়িয়ে চাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলেও কি আমলে কাসীর হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা মূল বিষয়টি পরিষ্কার করে নিচ্ছি যে, নামাজের মধ্যে কোনো কাজ "আমলে কাসীর" (বেশি কাজ) গণ্য হবে কি না, তা নির্ভর করে কাজের পরিমাণ এবং প্রকৃতির উপর। ফিকহের পরিভাষায়, নামাজে এমন কোনো কাজ করা যা দেখে দূর থেকে দেখতে পায় এমন ব্যক্তির মনে হয় যে, ব্যক্তিটি নামাজে নেই, তাকে আমলে কাসীর বলা হয়। আর যদি এমন কাজ হয় যা দেখে মনে হয় না যে, ব্যক্তি নামাজে নেই, তবে সেটি আমলে কালীল (সামান্য কাজ)।

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

১. সতর উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় পেছনে হাত দিয়ে দেখা এবং লুঙ্গি ধরে রাখা বা কাছা দেওয়া:

নামাজে যদি লুঙ্গির গিট খুলে যাওয়ার বা সতর উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে সেটি রক্ষা করার জন্য এক হাত দিয়ে লুঙ্গি ধরে রাখা বা কাছা দেওয়া জায়েজ আছে। এটি আমলে কাসীর নয়, বরং এটি একটি প্রয়োজনীয় এবং বৈধ কাজ। কেননা, সতর ঢেকে রাখা নামাজের জন্য অপরিহার্য। সতর খুলে গেলে নামাজই ভেঙে যাবে। তাই সতর রক্ষার জন্য সামান্য নড়াচড়া করা বা কাপড় ধরা বৈধ।

তবে, পেছনে হাত নিয়ে বারবার দেখা (প্রতি রুকনে) করা ঠিক নয়। যদি একবার বা দুবার দেখার প্রয়োজন হয়, তবে তা ক্ষমার যোগ্য। কিন্তু প্রতি রুকনে বারবার পেছনে তাকানো বা হাত দিয়ে দেখা নামাজের বিনয় ও মনোযোগ নষ্ট করে এবং এটি আমলে কাসীরের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, প্রয়োজনের তাকরার (পুনরাবৃত্তি) কারণে যদি কাজটি বেশি হয়ে যায়, তাহলে সেটি মাকরূহ হবে। তবে যদি শুধুমাত্র একবার বা দুইবার হয় এবং তা দিয়ে প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে না এবং আমলে কাসীরও হবে না।

২. বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণে শরীর বা পা নাড়ানো:

নামাজে বায়ুর চাপ আসলে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শরীর বা পা সামান্য নড়াচড়া করা (১/২ বার) জায়েজ আছে। এটি আমলে কাসীর নয়। বরং নামাজের ভেতর বায়ু চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নামাজ ঠিক রাখার জন্য এটি একটি বৈধ উপায়। তবে যদি বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাহলে নামাজ ভেঙে দিয়ে তাকে বের করে দিয়ে পুনরায় অজু করে নামাজ পড়া উত্তম। কিন্তু সামান্য নড়াচড়ায় যদি চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে না।

৩. ২য় রাকাত থেকে ৪র্থ রাকাত পর্যন্ত প্রতি রুকনে ১/২ বার নড়াচড়া:

আপনি বলেছেন, ২য় রাকাত থেকে ৪র্থ রাকাত পর্যন্ত প্রতি রুকনে ১/২ বার নড়াচড়া হয়েছে। যদি এই নড়াচড়াগুলো সতর রক্ষা বা বায়ু চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো বৈধ প্রয়োজনে হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো আমলে কাসীর হবে না। তবে যদি এই নড়াচড়াগুলো অপ্রয়োজনে বা শুধুমাত্র সন্দেহের কারণে বারবার করা হয়, তাহলে সেটি মাকরূহে তানযিহি (অপছন্দনীয়) হবে, কিন্তু নামাজ ভঙ্গ হবে না।

মোটকথা: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতি রুকনে ১/২ বার নড়াচড়া করা এবং প্রয়োজনে লুঙ্গি ধরা বা বায়ু চাপ নিয়ন্ত্রণে শরীর নাড়ানো আমলে কাসীর নয়। তাই আপনার নামাজ ভঙ্গ হয়নি এবং পুনরায় পড়তে হবে না। তবে ভবিষ্যতে নামাজে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া থেকে বিরত থাকা এবং নামাজে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত।

দলিল:

১. কিতাবুল আছল (ইমাম মুহাম্মদ): নামাজে সামান্য কাজ (আমলে কালীল) করলে নামাজ ভঙ্গ হয় না। তবে কাজ যদি এত বেশি হয় যে, দেখে মনে হয় ব্যক্তি নামাজে নেই, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে। (কিতাবুল আছল, ১/২০৪)

২. আল-হিদায়া: নামাজে এমন কাজ করা মাকরূহ যা নামাজের সাথে সম্পর্কিত নয়। তবে প্রয়োজনে কাজ করা জায়েজ। (আল-হিদায়া, ১/৮২)

৩. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): নামাজে সতর ঢাকার জন্য কাপড় সামলানো বা ধরা জায়েজ। আর প্রয়োজনে শরীর নাড়ানো নামাজ ভঙ্গ করে না, যতক্ষণ না তা আমলে কাসীর হয়। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪০৮)

৪. ফাতাওয়া হিন্দিয়া: নামাজে যদি কাপড় সতর উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় ধরে রাখে, তাহলে নামাজ ফাসিদ হবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৩)

আপনার জন্য পরামর্শ: নামাজে দাঁড়ানোর সময় লুঙ্গি বা পোশাক এমনভাবে পরুন যেন গিট শক্ত থাকে এবং সতর উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে। নামাজে মনোযোগ বাড়ান এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.