হিবা ও মিরাসে যদি হারাম টাকা মিশ্রিত থাকে, এগুলোর মালিক কি ওয়ারিছরা হবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question No:
5024
Questioner:
Khandaker Yasin
Question Asked:
05 Sep 2026, 03:58 PM
Reviewed & Published:
05 Sep 2026, 04:17 PM
Views:
31
Tokens:
3,823
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমার বাবা ব্যবসা করেন, তার লভ্যাংশের টাকা এফডিআর করে রাখেন, পরে সেটা ম্যাচিউর হলে কখনো টাকা তুলেন আবার কখনো সেটা আবার সুদসহই পুনরায় এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র করেন।
এমতাবস্থায় তার সম্পদে হালাল টাকার সাথে হারাম মিশ্রিত আছে, কিন্তু সুনিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল কতোভাগ।
১. এখন যদি তিনি জীবিতঅবস্থায় আমাদের মানে সন্তানদের কিছু দেন যাকে হয়তো হিবা বলে, সেটা গ্রহণ কি জায়েজ হবে?
(২) অথবা তার হায়াতের পর যে মিরাস বন্টন হবে সেটা গ্রহণ করা কি আমাদের জন্য হালাল বা জায়েজ হবে কিনা।
(৩) কিছু সম্পদ নির্দিষ্ট করে বলা যায় যেমন গাড়িটার একটা মেজর অংশ সুদের টাকায় কেনা হয়েছে, এখন গাড়ির হুকুম কি হবে মিরাসের ক্ষেত্রে।
এমতাবস্থায় তার সম্পদে হালাল টাকার সাথে হারাম মিশ্রিত আছে, কিন্তু সুনিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল কতোভাগ।
১. এখন যদি তিনি জীবিতঅবস্থায় আমাদের মানে সন্তানদের কিছু দেন যাকে হয়তো হিবা বলে, সেটা গ্রহণ কি জায়েজ হবে?
(২) অথবা তার হায়াতের পর যে মিরাস বন্টন হবে সেটা গ্রহণ করা কি আমাদের জন্য হালাল বা জায়েজ হবে কিনা।
(৩) কিছু সম্পদ নির্দিষ্ট করে বলা যায় যেমন গাড়িটার একটা মেজর অংশ সুদের টাকায় কেনা হয়েছে, এখন গাড়ির হুকুম কি হবে মিরাসের ক্ষেত্রে।
Answer
হিবা ও মিরাসে হারাম টাকা মিশ্রিত থাকার বিধান
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:
১. জীবিতাবস্থায় সন্তানদের দেওয়া হিবা বা উপহার গ্রহণ করার হুকুম:
- শরয়ী সমাধান: জীবিতাবস্থায় পিতা যদি সন্তানদের কোনো সম্পদ হিবা বা উপহার হিসেবে দেন, তবে তা গ্রহণের বৈধতা নির্ভর করবে পিতার উপার্জনের আধিক্য বা মেজরিটি (غالب) অংশের ওপর।
- হিসাবের নিয়ম:
- যদি পিতার উপার্জনের অধিকাংশ বা সিংহভাগ অংশ হালাল হয় (যেমন ব্যবসার মূল পুঁজি এবং প্রকৃত ব্যবসায়িক লভ্যাংশ সুদের তুলনায় বেশি হয়), তবে সন্তানদের জন্য পিতার দেওয়া সাধারণ উপহার বা হিবা গ্রহণ করা জায়েয। তবে যদি সুনির্দিষ্টভাবে জানা থাকে যে উপহার দেওয়া বস্তুটি পিতার সুদের টাকা দিয়েই সরাসরি দেওয়া হয়েছে, তবে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে না।
- পক্ষান্তরে, যদি পিতার উপার্জনের অধিকাংশ অংশই সুদের (হারাম) টাকার হয়, তবে সাধারণ অবস্থায় সন্তানদের জন্য পিতার হিবা বা উপহার গ্রহণ করা জায়েয হবে না। তবে পিতা যদি সুনির্দিষ্ট কোনো উপহারের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে এটি তার কোনো খাঁটি হালাল উপার্জন (যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বা খাটি ব্যবসায়িক মুনাফা) থেকে দিচ্ছেন, তবেই কেবল তা গ্রহণ করা যাবে ।
- সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- কিতাব: দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড)
- অধ্যায়: হালাল-হারাম বা বিভিন্ন জনের হারাম সম্পদের সমষ্টিগত অর্থসম্পদের বিধান
- পৃষ্ঠা: ১৯৮-২০০
২. পিতার মৃত্যুর পর মিরাস (উত্তরাধিকার) বন্টন ও গ্রহণের হুকুম:
- শরয়ী সমাধান: সুদের টাকা শরিয়তের দৃষ্টিতে "অমালিকানাধীন হারাম সম্পদ" (নন-ওনড হারাম কারেন্সি) হিসেবে গণ্য । যেহেতু মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় এই সুদের মালের প্রকৃত মালিক ছিলেন না, তাই তার মৃত্যুর পর ওই সুদের টাকার ওপর মিরাস জারি বা বন্টন হবে না। ওয়ারিশদের জন্য পিতার রেখে যাওয়া সুদের সরাসরি অংশটুকু মিরাস হিসেবে নিজেদের ভোগে নেওয়া বা বন্টন করা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম।
- ওয়ারিশদের দায়িত্ব ও পবিত্র করার নিয়ম:
- পিতার মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো—পিতার রেখে যাওয়া মোট সম্পত্তি থেকে সুদের (হারাম) অংশের একটি সম্ভাব্য হিসাব বা আনুমানিক পরিমাণ নির্ধারণ করে তা সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলা।
- এই পৃথককৃত সুদের সমপরিমাণ অর্থ নিজেদের সওয়াবের নিয়ত ছাড়া প্রকৃত মালিকের (এক্ষেত্রে ব্যাংক বা সিস্টেমে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলে) পক্ষ থেকে গরীব-মিসকিনদের মাঝে সদকা (Charity) করে দিতে হবে।
- সুদের টাকা এভাবে সম্পূর্ণ সদকা করে দেওয়ার পর অবশিষ্ট যে নিরেট হালাল অংশটুকু (ব্যবসার আসল পুঁজি ও বৈধ লভ্যাংশ) থাকবে, তা ওয়ারিশদের মাঝে মিরাসের শরয়ী নিয়ম অনুযায়ী বন্টন করে ভোগ করা সম্পূর্ণ হালাল ও জায়েয।
- সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- কিতাব: দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড)
- অধ্যায়: হারাম মালের শর'য়ী বিধান: কিছু মৌলিক বিষয়
- পৃষ্ঠা: ১৮৪-১৮৫ (হুরমাতের হস্তান্তর ও মৃত ব্যক্তির মিরাস) এবং ১৮৮-১৮৯ (সদকা করার হুকুম)।
৩. সুদের টাকায় কেনা গাড়ির হুকুম:
- শরয়ী সমাধান: যেহেতু গাড়িটির একটি মেজর বা বড় অংশ সরাসরি সুদের (হারাম) টাকায় কেনা হয়েছে, সেহেতু গাড়িটির মালিকানায় "الملك الخبيث" বা অবৈধ মালিকানা চলে এসেছে। এমতাবস্থায় সরাসরি এই গাড়িটি মিরাস হিসেবে বন্টন করে ব্যবহার করা ওয়ারিশদের জন্য জায়েয হবে না।
- গাড়িটি পবিত্র ও মিরাসযোগ্য করার সুরত:
- গাড়িটি পবিত্র করার শরয়ী পদ্ধতি হলো—গাড়িটি কেনার সময় সুদের টাকার যে অংশ বা পরিমাণ ব্যবহার করা হয়েছিল, পিতার রেখে যাওয়া অবশিষ্ট হালাল অর্থ থেকে সেই সমপরিমাণ টাকা যামান বা ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) হিসেবে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে।
- এভাবে সুদের অর্থের যামান বা জরিমানা আদায় করে দেওয়ার সাথে সাথে গাড়িটির অবৈধতা দূর হয়ে যাবে এবং গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে পবিত্র ও হালাল হয়ে যাবে। তখন ওয়ারিশরা গাড়িটি নিজেদের ব্যবহারের জন্য মিরাস হিসেবে বন্টন করতে পারবে।
- কিন্তু যদি পিতার রেখে যাওয়া অর্থে কোনো হালাল টাকা না থাকে বা এই যামান পরিশোধ করা সম্ভব না হয়, তবে গাড়িটি বিক্রি করে সুদের অংশ সমপরিমাণ টাকা গরীবদের সদকা করে দিতে হবে এবং অবশিষ্ট হালাল মূল্যটুকু ওয়ারিশরা মিরাস হিসেবে বন্টন করে নিতে পারবে।
- সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- কিতাব: দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড)
- অধ্যায়: হারাম মুদ্রা দ্বারা ক্রয়কৃত সম্পদ ও তার মুনাফার বিধানও অমালিকানাধীন হারাম সম্পদে পরিবর্তন সাধন
- পৃষ্ঠা: ১৯১-১৯৩ ও ১৯৬-১৯৮।
- (সহায়ক কিতাব: দরসুল ফিকহ-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৯২ — ম্যাগনেটিক জরিমানা ও হরণের হুকুম)।
والله أعلم بالصواب