চিকিৎসা চলাকালে পর্দা রক্ষা করা,

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 497
Questioner: T
Question Asked: 21 May 2026, 06:36 PM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 06:50 PM
Views: 30
Tokens: 2,663
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১.একজন মেয়ে ডেন্টিস্ট;যিনি পরিপূর্ণ পর্দা করেন। ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে যদি কোনো পুরুষের দাঁত উঠায় বা চিকিৎসা করে,তবে কি হারাম হবে?
২.অনেকে বলে মুখ খুলে রাখা জায়েজ। এটা কি জায়েজ?
পর্দা বিষয়ক রেফারেন্স দিলে মুনাসিব হতো;যাতে কেউ জিজ্ঞাসা করলে তাকে সঠিক বিষয়টা জানাতে পারি।

Answer

উত্তর:

সূরা নূর (২৪:৩০-৩১): “মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে… এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে… এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে… তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় (মুখ ও হাত) তা ছাড়া।”

  • সূরা আহযাব (৩৩:৫৯): “হে নবী! আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদর (ওড়না) নিজেদের উপর টেনে দেয়… তাহলে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের কষ্ট দেওয়া হবে না।”

  • হাদীস:

    • বুখারী (৫২৯০): “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন কোনো অমাহরাম নারীর সাথে একান্তে (খালওয়া) না থাকে।”
    • মুসনাদে আহমাদ (২/২৫১): “নারী ও পুরুষের দৃষ্টি (অমাহরামের প্রতি) হারাম।”
  • ফিকহী গ্রন্থ:

    • রদ্দুল মুহতার (১/৪০৬): “অমাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করা ওয়াজিব, যদি ফিতনার আশংকা থাকে। তবে সাধারণত মুখমণ্ডল সতর নয় বলেই ফিতনার আশংকা না থাকলে দেখা জায়েয। কিন্তু বর্তমান যুগে ফিতনা সাধারণ হওয়ায় আবৃত করা আবশ্যক।”
    • বেহেশতী জেওর (১/৩৪): “নারীদের জন্য অমাহরাম পুরুষের সামনে পর্দা করা ফরজ, চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া মুখমণ্ডল দেখা জায়েয নয়।”
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/৪৪৪): “পুরুষের চিকিৎসার জন্য মহিলা ডাক্তারের কাছে যাওয়া জায়েয, যদি কোনো পুরুষ ডাক্তার না থাকে তবে শর্ত হলো— চিকিৎসা চলাকালে পর্দা রক্ষা করা এবং নির্জনতা পরিহার করা।”

  • রদ্দুল মুহতার (৪/৩৩২): “প্রয়োজনে মহিলা ডাক্তার পুরুষের চিকিৎসা করতে পারে, তবে চিকিৎসা শেষে দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং খালওয়া পরিহার করবে।”

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২২৮): “প্রয়োজনের তাগিদে মহিলা ডাক্তার পুরুষের চিকিৎসা করতে পারে, কিন্তু পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

২. মুখ খোলা রাখা জায়েজ কী?
প্রয়োজনে দাঁতের চিকিৎসার জন্য রোগীর মুখ খোলা রাখা জায়েয, কারণ এটি চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ। তবে অনাবশ্যকভাবে মুখ খোলা বা খোলা অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ রাখা ঠিক নয়। মুখ খোলার অর্থ হলো— দাঁত ও মাড়ি দেখা। মুখের ভিতরের অংশ (যেমন: জিহ্বা, তালু) প্রয়োজনের অতিরিক্ত দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে।

  • আল-হেদায়া (মারাকিল ফালাহ): “চিকিৎসার প্রয়োজনে শরীরের সতর অংশ খোলা জায়েয, তবে শুধু প্রয়োজনীয় অংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।” (বিস্তারিত: রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩৫২): “প্রয়োজনে পুরুষ রোগীর মুখমণ্ডল দেখা ও চিকিৎসা করা জায়েয, তবে নিষ্প্রয়োজনগত দৃষ্টি হারাম।”

সারসংক্ষেপ:
আপনার জেলা ও আশেপাশের জেলা গুলোতে যদি কোনো পুরুষ দাঁতের ডাক্তার থাকে,সেক্ষেত্রে উল্লেখিত ছুরতে মহিলা ডেন্টিস্টের পুরুষ রোগীর চিকিৎসা করা জায়েয নয়।

হ্যাঁ যদি আপনার জেলা ও আশেপাশের জেলা গুলোতে যদি কোনো পুরুষ দাঁতের ডাক্তার না থাকে,সেক্ষেত্রে উল্লেখিত ছুরতে মহিলা ডেন্টিস্টের পুরুষ রোগীর চিকিৎসা করা জায়েয। তবে ফিতনার আশংকায় সাধারণত তা না করাই উত্তম। মুখ খোলা শুধুমাত্র চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী জায়েয। পর্দার ব্যাপারে কুরআন, হাদীস ও ফিকহী গ্রন্থের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।

আল্লাহু আ‘লাম (আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.