স্ত্রীর গামছা ব্যবহার নিয়ে মজার কথোপকথনে "না" বলায় তালাক পতিত হবে কি?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
পরে আমি তাকে একটাই উত্তর দিই যে, মজা করে, " না"। পরে সাথে সাথে বললাম যে, তুমি আমার জামাই কিন্তু আমার গামছা ব্যবহার করতে পারবা না।
১) এখন সে যে বললো আমি তোমার জামাই না? আমি যে উত্তর এ বললাম "না"। এতে কি আমার বিবাহিত জীবনে কোন সমস্যা হবে?
২) আমাকে তালাকের অধিকার দেয়া আছে। এই "না" বলার কারনে কি কোনো সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। ইসলামী আইনে তালাকের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন শব্দ (সরীহ শব্দ) ব্যবহার করলে সাথে সাথে তালাক পতিত হয়। আর কিংবদন্তি বা রূপক শব্দ (কিনায়া শব্দ) ব্যবহার করলে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) শর্ত।
আপনার ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১) আপনার স্বামী প্রশ্ন করেছিলেন, "আমি কি তোমার জামাই না?" - এটি একটি সাধারণ প্রশ্নবোধক বাক্য, যা তালাকের নিয়তে বলা হয়নি। ২) আপনি জবাবে "না" বলেছেন - এটি ছিল মজার ছলে একটি উত্তর, যা আপনি সাথে সাথে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, "তুমি আমার জামাই কিন্তু আমার গামছা ব্যবহার করতে পারবা না।"
আপনার প্রশ্নের উত্তর:
১) "না" বলার কারণে কি বিবাহিত জীবনে সমস্যা হবে?
- না, কোনো সমস্যা হবে না। আপনার "না" শব্দটি তালাকের কোনো শব্দ নয়। তালাকের শব্দ হলো "তালাক", "ছাড়" ইত্যাদি। "না" শব্দটি দ্বারা তালাক পতিত হয় না। এটি একটি সাধারণ কথোপকথনের অংশ ছিল, যা আপনি মজা করে বলেছেন এবং সাথে সাথে এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাই এতে আপনার বিবাহিত জীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩:২৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১:৩৭৩)
২) তালাকের অধিকার থাকা অবস্থায় "না" বলার কারণে কি সমস্যা হবে?
- না, কোনো সমস্যা হবে না। তালাকের অধিকার থাকা মানে এই নয় যে, যেকোনো কথায় তালাক পতিত হবে। তালাক পতিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হবে অথবা এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে যা দ্বারা তালাকের নিয়ত প্রমাণিত হয়। আপনার "না" শব্দটি দ্বারা তালাকের নিয়ত ছিল না, বরং এটি ছিল একটি মজার উত্তর। তাই এতে আপনার বিবাহিত জীবনে কোনো সমস্যা হবে না। (আল-হিদায়া, ২:৩৭৮; ফাতাওয়া উসমানী, ২:৩৪৫)
মূল কথা: আপনার বিবাহিত জীবন সম্পূর্ণ বৈধ ও ঠিক আছে। আপনার "না" বলার কারণে তালাক পতিত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের মজার কথায় সতর্ক থাকবেন এবং তালাকের শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। আল্লাহ তাআলা সবাইকে হেফাজত করুন। (আমিন)