কুসুমে লালদাগযুক্ত ডিম খাওয়ার বিধান
Food and Drink · Hanafi
Question
ডিম ফাটানোর পর প্রায় ই দেখা যাচ্ছে যে ডিমের মধ্যে সাদা অংশে অথবা কুসুমে ছোট ছোট লাল দাগ মতো
সম্ভবত বাজার থেকে কেনা ৯০% লেয়ার মুরগির ডিমেই এমন। বেশ কিছুদিন ধরে এই বিষয়টি খেয়াল করলাম।
এক্ষেত্রে ডিম খাওয়া যাবে কিনা জানতে চাচ্ছি।
জাযাকুমুল্লাহু খইরন।
Answer
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতuh
প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন—ডিমের ভেতরে লাল দাগ বা রক্তের মতো দেখতে কিছু থাকা এবং তা খাওয়ার বিধান ইসলামি ফিকহের (বিশেষত হানাফি মাযহাবের) একটি পরিচিত আলোচিত বিষয়। আপনার প্রশ্নটি মূলত হালাল-হারাম বা পবিত্রতা-অপবিত্রতা (তাহারাত) সংক্রান্ত।
বিধান ও দলিল:
হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, ডিমের ভেতরে যদি রক্তের দাগ (রক্তবিন্দু) পাওয়া যায়, তবে তা খাওয়া মাকরূহ (তাহরিমি)। তবে এর অর্থ এই নয় যে, পুরো ডিমটি হারাম বা নাপাক হয়ে গেছে। বিধানটি হলো:
১. যদি দাগটি কুসুমের (জর্দা) ভেতরে থাকে: তাহলে পুরো ডিমটিই বর্জন করা (খাওয়া থেকে বিরত থাকা) উত্তম এবং অধিকাংশ ফকিহের মতে তা মাকরূহ। কারণ, কুসুম থেকে দাগটি আলাদা করা কঠিন এবং তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
২. যদি দাগটি সাদা অংশে (সাদা ডিমের সাদা অংশ) থাকে: তাহলে শুধু সেই লাল দাগ বা রক্তবিন্দুটি এবং তার চারপাশের সামান্য অংশটি কেটে/পরিষ্কার করে ফেলে দিলে বাকি ডিমটি খাওয়া জায়েজ। কারণ, সাদা অংশ থেকে দাগটি আলাদা করা সহজ।
কেন এমন হয়? ডিমের ভেতরে এই লাল দাগ সাধারণত মুরগির ডিম্বাশয় থেকে নির্গত রক্তের একটি ক্ষুদ্র অংশ, যা নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়ার সময় বা মুরগির শারীরিক কোনো কারণে ডিমের সাথে মিশে যায়। এটি কোনো রোগ বা নাপাকির কারণে হয় না, বরং এটি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে যেহেতু রক্ত (দাম) নাপাক ও খাওয়া হারাম, তাই ডিমের ভেতরে তা পাওয়া গেলে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ব্যবহারিক সমাধান:
আপনি উল্লেখ করেছেন যে, বাজারের লেয়ার মুরগির ডিমে (৯০%) এই দাগ দেখা যায়। যেহেতু এটি খুবই সাধারণ একটি বিষয়, তাই প্রতিটি ডিম ফাটানোর সময় খেয়াল করুন:
- ডিম ফাটিয়ে যদি দেখেন কুসুমের ভেতরে বা সাদা অংশে ছোট লাল দাগ আছে, তাহলে সতর্কতা হিসেবে পুরো ডিমটি ফেলে দেওয়াই উত্তম (যদি দাগ কুসুমে থাকে)।
- যদি দাগটি সাদা অংশে থাকে এবং সহজে আলাদা করা যায়, তাহলে দাগসহ সামান্য অংশ কেটে ফেলে বাকিটা রান্না করে খেতে পারেন। তবে অনেক আলেম মনে করেন, যেহেতু দাগটি রক্ত, তাই পুরো ডিমটি ফেলে দেওয়াই নিরাপদ, বিশেষত যখন এটি নিয়মিত ঘটে।
হানাফি ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতি: ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি): এই বিশ্বস্ত হানাফি ফিকহের গ্রন্থে বলা হয়েছে, “ডিমের কুসুমে রক্ত দেখতে পেলে তা খাওয়া মাকরূহ; আর সাদা অংশে রক্ত দেখতে পেলে সেই রক্ত বাদ দিয়ে খাওয়া যাবে।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৩)
সারসংক্ষেপ ও আপনার জন্য পরামর্শ:
- বিধান: ডিমের ভেতরের লাল দাগ (রক্ত) খাওয়া জায়েজ নয়। তাই দাগযুক্ত ডিম খাওয়া মাকরূহ।
- আপনার করণীয়: যেহেতু বাজারের ডিমে এটি খুব সাধারণ, তাই রান্নার আগে প্রতিটি ডিম আলাদা পাত্রে ফাটিয়ে দেখে নিন। যদি দাগ কুসুমে থাকে, ডিমটি ফেলে দিন। যদি দাগ সাদা অংশে থাকে, দাগটি কেটে ফেলে বাকিটা ব্যবহার করুন। অনেক ক্ষেত্রে দাগটি খুবই ছোট হয় এবং রান্নার পর বোঝাও যায় না, কিন্তু যেহেতু আপনি এটি লক্ষ্য করেছেন, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা আপনার জন্য উত্তম এবং এটি ফিকহের নির্দেশনাও।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।