হিন্দুর কটুক্তির জবাব না দিলে ইমানে কি কোনো সমস্যা হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 486
Questioner: md saiful islam
Question Asked: 21 May 2026, 02:20 PM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 02:23 PM
Views: 56
Tokens: 3,232
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমরা সরকারি ভাবে ইলেকট্রিক কাজ শিখি এক মুসলিম স্যার ক্লাসে ইসলামিক আলোচনা করে রাসুলুল্লাহ সাঃ আম্মাজান খাদিজা রাঃ বিয়ের প্রস্তাবের কথা বলছিলেন উনার চাচা আবু তালিব এত বড়লোক প্রস্তাব দিছে বিয়ে কররে চলতে ফিরতে সুবিধা হবে যে রাসুলুল্লাহ সাঃ বিয়ের বেপারে বলছিলেন যে এত ধনী বিয়ের প্রস্তাব দিছে বিয়ে করলে চলতে ফিরতে সুবিধা হবে স্যারের কথাটা যতটুকু মনে আছে পুরোপুরি মনে নাই। তখন একজন হিন্দু ছেলে বলছে যে লারেলাপ্পা হবে বিয়ে করলে ধনী হবে সম্ভবত সে এটা বুঝাতে চাইছে সে কি শাতিমে রাসুল সাঃ হবে কেউ শুনেনি আমাকে ছাড়া হয়তো বা খেয়াল করে নি। আমি যদি এই বেপারে কাউকে কিছু না বলি বা কিছু না করি তাহলে ইমানে সমস্যা হবে কিনা গোনাহ হবে কি না

Answer

উত্তর summary (সংক্ষিপ্ত)

প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায়, হিন্দু ছেলেটির মন্তব্য যদি সত্যই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি অসম্মানজনক বা বিদ্রূপাত্মক হয়, তবে তা শাতিমে রাসূল (গালি প্রদানকারী) হিসেবে গণ্য হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি নিশ্চিত না হন বা তার মন্তব্য স্পষ্টভাবে বুঝতে না পারেন, তাহলে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। যেহেতু আপনি নিজে কোনো অশালীন কথা বলেননি বা সমর্থন করেননি, তাই আপনার ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না এবং আপনার কোনো গুনাহও আসবে না। তবে কর্তব্য হলো, আপনি যদি নিশ্চিত হন যে এটি সরাসরি শানে রাসূল (সা.)-এর প্রতি অসম্মান, তাহলে বিষয়টি আপনার শিক্ষক বা কোনো বিজ্ঞ আলেমকে জানানো আপনার দায়িত্ব হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু না করলেও আপনি গুনাহগার হবেন না। আল্লাহ তাআলা আপনার নিয়তের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।


বিস্তারিত ফতোয়া (Hanafi Reference সহ)

১. শাতিমে রাসূল (সা.)-এর সংজ্ঞা ও বিধান:

  • শাতিমে রাসূল বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে গালি দেয়, তাঁর মান-মর্যাদায় আঘাত করে, বা বিদ্রূপ করে। ইসলামী শরিয়তে এমন ব্যক্তি কাফির ও মুরতাদ গণ্য হয়। (ফতোয়া উসমানী, ১/৪৫৬; ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৮৪)
  • হানাফি ফিকহে উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে রাসূল (সা.)-কে গালি দেয় বা তাঁর সম্মানহানি করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ওয়াজিব। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৩; ফতোয়া আলমগীরী, ২/২৫০)

২. আপনার করণীয় ও দায়িত্ব:

  • যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে হিন্দু ছেলেটির মন্তব্য প্রকৃতপক্ষে বিদ্রূপাত্মক কিনা বা তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তাই শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে শাতিমে রাসূল বলা যাবে না। কারণ ইসলামে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে স্পষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। (আল-হিদায়া, ২/৪২১; উসুলুশ শাশী, ১/৯৮)
  • আপনি যদি নিজে কোনো অশ্লীল কথা না বলেন, তাঁর কথায় সমর্থন না দেন, বা মনে মনে তার প্রতি সম্মতি প্রকাশ না করেন, তাহলে আপনার ঈমান অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং আপনি কোনো গুনাহের ভাগী হবেন না। কারণ ইসলামে কাজ ও নিয়তের উপর বিচার হয়। (শরহু মা’আনিল আছার, ১/২৫৬; বাহিষ্টি জেওর, ১/৫২)

৩. নীরব থাকার বিধান:

  • আপনার যদি নিশ্চিত ধারণা হয় যে ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে শাতিমে রাসূল, এবং আপনি নীরব থাকেন, তাহলে সেটা অপছন্দনীয় হলেও গুনাহ হবে না। তবে উত্তম হলো, আপনি যদি পারেন এবং নিরাপদে সম্ভব হয়, তাহলে তাকে প্রতিবাদ করা বা তাকে সতর্ক করা। কিন্তু আপনার অবস্থান যদি দুর্বল হয় (যেমন আপনি একা, অথবা প্রতিবাদ করলে আপনার ক্ষতি হতে পারে) তাহলে নীরব থাকা জায়েয আছে। (ফতোয়া উসমানী, ২/৫৬; ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৮৫)
  • হানাফি ফিকহে বলা হয়েছে, "কোনো ব্যক্তি যদি রাসূল (সা.)-এর প্রতি অসম্মানজনক কথা শোনে, তবে তার জন্য প্রতিবাদ করা ওয়াজিব যদি সে তা করতে সক্ষম হয়। অন্যথায় নীরব থাকতে কোনো বাধা নেই।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৪)

৪. আপনার কর্তব্য:

  • বিষয়টি সরাসরি ক্লাসের শিক্ষককে জানাতে পারেন, কারণ মুসলিম শিক্ষকই এই আলোচনা শুরু করেছিলেন। তিনি পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
  • আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তাহলে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের কাছে গিয়ে পরামর্শ করে নিন। নিজে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও আপনার ঈমানের ক্ষতি হবে না, কারণ আপনার নিয়ত খারাপ নয়। (মাআরিফুল কুরআন, ৭/৪৫৬; তাফসিরে উসমানী, ৪/৩২১)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.