স্বামীর সাথে আপনার বন্ধুদের এবং অন্যান্য মানুষের কথা শেয়ার করার বিধান কি?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
এখন আমার প্রশ্ন হলো, এসব কথা বলার কারণে কি আমার গুনাহ হয়? এগুলো কি গীবত হয়ে যায়?
Answer
গীবত সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনি আপনার স্বামীর সাথে আপনার বন্ধুদের এবং অন্যান্য মানুষের কথা শেয়ার করেন, যেখানে "কে কী বলল, কে কী করল" ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচনা করেন। আপনি জানতে চান এতে কি গুনাহ হবে এবং এটা কি গীবত হিসেবে গণ্য হবে?
উত্তরের মূল কথা
গীবতের সংজ্ঞা
গীবত হলো এমন কিছু বলা যা শুনলে অন্য ব্যক্তি কষ্ট পায় বা অপছন্দ করে, যদিও তা সত্য হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "গীবত হলো তোমার ভাইয়ের এমন বিষয় আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে।" (সহীহ মুসলিম)
স্বামীর সাথে কথা বলার বিধান
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য বৈধ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কারো গীবত করা জায়েয হবে। যদি আপনি এমন কিছু বলেন যা অন্য কেউ শুনলে কষ্ট পাবে, তবে সেটা গীবত হবে, যদিও তা আপনার স্বামীকে বলা হয়।
কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি পছন্দ করবে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? তোমরা তো তা ঘৃণাই করো।" (সূরা হুজুরাত: ১২)
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
তবে কিছু ক্ষেত্রে গীবত জায়েয আছে, যেমন: ১. অত্যাচারিত ব্যক্তি তার উপর হওয়া অত্যাচারের কথা বলতে পারে ২. কারো কাছে পরামর্শ চাওয়ার সময় ৩. কারো ক্ষতি থেকে কাউকে সতর্ক করার জন্য
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে
গীবতের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানীফা (রহ.) সহ সকল ইমামের মতই হলো—অন্যের অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করবে, তা গীবত। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কারণে এই বিধান পরিবর্তন হয় না।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো: যদি আপনি এমন কিছু বলেন যা অন্য কেউ শুনলে কষ্ট পাবে বা অপছন্দ করবে, তাহলে সেটা গীবত হবে এবং গুনাহ হবে—যদিও আপনি আপনার স্বামীকে বলেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গীবত থেকে হেফাজত করুন। আমীন।