ভালো না লাগলে ছেড়ে যাও,ভালো খুঁজো ,আচ্ছা যাও ছেড়ে দিলাম যা খুশি তা করো, এসব কথা দ্বারা কি তালাক পতিত হবে?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4826
Questioner: Inaya Tasad
Question Asked: 02 Sep 2026, 04:54 PM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 05:36 PM
Views: 12
Tokens: 3,252
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এমনিতেই কোনোরকম ইচ্ছা ছাড়া স্ত্রীর নানা অভিযোগে যেমন ভালো না লাগলে ছেড়ে যাও,ভালো খুঁজো ,ওই কথায় যদি স্বামী বলে কি হইছে এত চলে যাওয়ার কথা কেন বলছো এটাতে খুশি হও?আচ্ছা যাও ছেড়ে দিলাম যা খুশি তা করো কিছু নিয়ে জিগেস করবো না। এরকম কনভারসেশন এ কি তালাক হয়?

Answer

তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: স্ত্রী ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে বলেছে, "ভালো না লাগলে ছেড়ে যাও, ভালো খুঁজো" — এর জবাবে স্বামী বলেছে, "কি হইছে এত চলে যাওয়ার কথা কেন বলছো? এটাতে খুশি হও? আচ্ছা যাও ছেড়ে দিলাম যা খুশি তা করো, কিছু নিয়ে জিজ্ঞেস করবো না।" এরকম কথোপকথনে কি তালাক হয়ে যায়?


উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ।

এই কথোপকথনে তালাক পতিত হওয়ার ব্যাপারটি স্পষ্ট নয় এবং সাধারণভাবে বলতে গেলে এতে তালাক হয় না। তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে যা বিবেচনা করা জরুরি।

বিশ্লেষণ:

১. স্ত্রীর উক্তি "ছেড়ে যাও, ভালো খুঁজো":

  • স্ত্রীর এই কথাটি তালাকের ইয়াদ (ঘোষণা) নয়। এটি সাধারণত রাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। স্ত্রী তালাক দিতে পারে না (মুসলিম আইনে স্ত্রীর পক্ষে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তবে খুলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটতে পারে)।
  • তাই স্ত্রীর এই কথায় কোনো তালাক পতিত হয় না।

২. স্বামীর উক্তি "যাও ছেড়ে দিলাম যা খুশি তা করো":

  • স্বামীর এই কথাটি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। "ছেড়ে দিলাম" বা "যা খুশি করো" — এই ধরনের শব্দ প্রসঙ্গভেদে তালাকের ইঙ্গিতবাহী (কিনায়া) হতে পারে।
  • তবে এখানে স্বামী স্পষ্টভাবে "তালাক দিলাম" বলেনি। এটি একটি অস্পষ্ট/কিনায়া শব্দ।

কিনায়া শব্দের বিধান:

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"কিনায়া শব্দের মাধ্যমে তালাক তখনই পতিত হবে যখন স্বামীর নিয়ত তালাক দেওয়ার থাকে। অথবা এমন প্রেক্ষাপট থাকে যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সে তালাক দিতে চাচ্ছে।"

(মাজমু' ফাতাওয়া, ৩৩/২৮৩)

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি স্বামী এমন শব্দ ব্যবহার করে যা তালাকের জন্য স্পষ্ট নয় (কিনায়া), তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না তার নিয়ত তালাক দেওয়া হয় অথবা প্রেক্ষাপট থেকে তা স্পষ্ট না হয়।"

(আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/৮৯)

এই প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ:

  • স্বামী এখানে রাগের মাথায় জবাব দিয়েছে। তার কথার প্রেক্ষাপট থেকে মনে হয় না সে সত্যিই তালাক দিতে চেয়েছে। বরং সে স্ত্রীকে জবাব দিচ্ছে।
  • "যা খুশি তা করো" — এটি সাধারণত তালাকের স্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশ করে না।
  • তবে যদি স্বামীর নিয়ত থাকে যে সে তালাক দিচ্ছে, তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া:

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যক্তি রাগের বশবর্তী হয়ে তালাক দেয়, যদি রাগ এত তীব্র হয় যে সে নিজের কথা সম্পর্কে সচেতন নয়, তাহলে তার তালাক পতিত হয় না। কিন্তু যদি রাগ থাকা সত্ত্বেও সে জানে কী বলছে, তাহলে তালাক পতিত হবে।"

(আল-মুনতাকা, ৩/৩১৬)

আমাদের উত্তরের সারমর্ম:

১. স্ত্রীর কথা ("ছেড়ে যাও, ভালো খুঁজো") — কোনো তালাক নয়। ২. স্বামীর কথা ("যাও ছেড়ে দিলাম যা খুশি তা করো") — এটি কিনায়া শব্দ। তালাক পতিত হবে না যতক্ষণ না:

  • স্বামীর নিয়ত তালাক দেওয়ার থাকে, অথবা
  • প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সে তালাক দিতে চাচ্ছে।

৩. যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখিত প্রেক্ষাপটে স্বামী রাগের মাথায় জবাব দিয়েছে এবং তার উদ্দেশ্য তালাক দেওয়া নয় বরং স্ত্রীকে জবাব দেওয়া, তাই এই কথোপকথনে তালাক পতিত হয়নি বলে অভিমত।


সতর্কতা ও পরামর্শ:

১. তালাকের ব্যাপারে সতর্ক থাকা — তালাক আল্লাহর নিকট বৈধ কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত। (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০১৮ — হাদিসটি সহিহ)

২. রাগ নিয়ন্ত্রণ — রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "রাগ করো না।" (বুখারি, হাদিস: ৬১১৬)

৩. দাম্পত্য সমস্যা সমাধানে ধৈর্য — আল্লাহ বলেন:

"আর তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। আর যদি তোমরা তাদের অপছন্দ করো, তবে হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ কল্যাণ রেখেছেন।" (সূরা আন-নিসা: ১৯)

৪. ভবিষ্যতে তালাকের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা — তালাক নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা বা রাগের মাথায় খেলার মতো ব্যবহার করা হারাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

"তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে করলে তা কার্যকর হয় এবং ঠাট্টা করলেও তা কার্যকর হয়: বিবাহ, তালাক এবং রাজ'আত (স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া)।" (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৯৪; তিরমিজি, হাদিস: ১১৮৪ — সহিহ)


সর্বশেষ সিদ্ধান্ত: প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে তালাক পতিত হয়নি। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয় কোনো আলেমের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা ভালো, কারণ প্রেক্ষাপট ও নিয়তের ওপরই মূলত নির্ভর করে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.