স্ত্রীঃ যদি অমুক মেয়ের সাথে কথা বলো তবে, আমাদের সংসার নিয়ে আমি ভাবতে বাধ্য হবো, স্বামী যদি মেনে নেয়, তবে কি তালাক হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
4825
Questioner:
Md. Yousuf Ali
Question Asked:
02 Sep 2026, 03:55 PM
Reviewed & Published:
02 Sep 2026, 04:11 PM
Views:
23
Tokens:
4,119
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
১।তালাকের অধিকার প্রাপ্ত স্ত্রী যদি বলে যদি অমুক মেয়ের সাথে কথা বলো তবে, আমাদের সংসার নিয়ে আমি ভাবতে বাধ্য হবো, বা, আমাদের সংসারে ঝামেলা হবে, স্বামী যদি মেনে নেয় এবং তার সাথে কথা বলে তবে কি তালাক হবে?
২। স্ত্রী কি তার শর্ত প্রত্যাহার করতে পারবে?
২। স্ত্রী কি তার শর্ত প্রত্যাহার করতে পারবে?
Answer
স্ত্রী কর্তৃক শর্ত প্রত্যাহার ও তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
১. তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত স্ত্রী যদি শর্ত দেয় যে, "অমুক মেয়ের সাথে কথা বললে আমাদের সংসার নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে" বা "সংসারে ঝামেলা হবে" — তাহলে কি তা তালাকের শর্ত হিসেবে গণ্য হবে? স্বামী তা মেনে নিয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বললে কি তালাক পতিত হবে? ২. স্ত্রী কি তার শর্ত প্রত্যাহার করতে পারবে?
১. স্ত্রীর "ভেবে দেখা" বা "ঝামেলা হওয়া"-র শর্তে তালাকের হুকুম:
- শরয়ী ফয়সালা: তালাকের অধিকার প্রাপ্ত (তাফবীযে তালাক) স্ত্রী যদি তার স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলে যে— "যদি অমুক মেয়ের সাথে কথা বলো তবে আমাদের সংসার নিয়ে আমি ভাবতে বাধ্য হবো" অথবা "আমাদের সংসারে ঝামেলা হবে", তবে স্বামী ওই মেয়ের সাথে কথা বললেও কোনো প্রকার তালাক পতিত হবে না।
- কারণ বিশ্লেষণ: হানাফী ফিকহের চূড়ান্ত মূলনীতি অনুযায়ী, শর্তযুক্ত তালাক (তা’লীক) কার্যকর হওয়ার জন্য শর্তের পাশাপাশি এর ফলাফল বা 'জাযা' (Response) হিসেবে 'তালাক' শব্দ বা তালাক নির্দেশক স্পষ্ট বা অস্পষ্ট (কিনায়া) কোনো শব্দ থাকা আবশ্যক। ১. "সংসার নিয়ে ভাবতে বাধ্য হওয়া" বা "সংসারে ঝামেলা হওয়া"—এই কথাগুলো তালাকের কোনো শব্দ (সরিহ বা কিনায়া) নয়, বরং এগুলো একটি ভবিষ্যতের আশঙ্কার কথা মাত্র। ২. যতক্ষণ না স্ত্রী স্পষ্টভাবে শর্তের সাথে তালাকের সম্পৃক্ততা করবে (যেমন: "যদি কথা বলো, তবে আমার নিজের ওপর ১টি তালাক"), ততক্ষণ নিছক হুমকির দ্বারা কোনো তালাক হয় না।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২৭১ (তা’লীক ও শর্তারোপ পরিচ্ছেদ)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৮৪ (শর্তের সাথে তালাকের বিবরণ) এবং পৃষ্ঠা ৩৭৪-৩৭৫ (কিনায়া তালাকের মাসআলা)।
২. স্ত্রী কি তার আরোপিত শর্ত প্রত্যাহার করতে পারবেন?
- শরয়ী ফয়সালা: হ্যাঁ, তালাকের অধিকার প্রাপ্ত স্ত্রী তার নিজের ওপর আরোপিত শর্ত বা প্রাপ্ত তালাক গ্রহণের ক্ষমতা স্বেচ্ছায় বর্জন বা প্রত্যাহার করতে পারেন।
- পদ্ধতি: হানাফী ফিকহের পরিভাষায় একে 'ইসকাত' (Isquat/Waiving of right) বলা হয়। স্ত্রী যদি স্বামীকে সরাসরি বা মেসেজের মাধ্যমে বলেন— "আমি আমার তালাক গ্রহণের এই ক্ষমতাটি বর্জন করলাম" বা "তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম" বা "আমার দেওয়া শর্তটি তুলে নিলাম", তবে ওই সময় থেকে তার সেই অধিকার বা শর্তটি চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে। এরপর স্বামী ওই নিষিদ্ধ কাজটি (যেমন: সেই মেয়ের সাথে কথা বলা) করলেও আর কোনো তালাক হবে না।
- সতর্কতা: তবে মনে রাখতে হবে যে, স্ত্রী একবার এই অধিকার বা শর্ত বর্জন বা প্রত্যাহার করে ফেললে, স্বামী পুনরায় নতুন করে অনুমতি বা ক্ষমতা না দেওয়া পর্যন্ত স্ত্রী তা আর ফিরে পাবেন না।
- কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৮০-৩৮১ (তাফবীযে তালাক ও ইসকাতুল ইখতিয়ার পরিচ্ছেদ)।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২৭০-২৭১।
সারকথা: আপনার উল্লিখিত শব্দগুলো ("ঝামেলা হবে" বা "ভেবে দেখব") তালাকের শব্দ না হওয়ায় কোনো তালাক হবে না। আর স্ত্রী চাইলে যে কোনো সময় তার প্রদত্ত শর্ত বা তালাক গ্রহণের অধিকার বর্জন করতে পারেন, যার ফলে পূর্বের শর্তটি অকার্যকর হয়ে যাবে।