শাতিমে রাসুল সাঃ এর শাস্তি কি হতে পারে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 482
Questioner: md saiful islam
Question Asked: 21 May 2026, 01:51 PM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 01:58 PM
Views: 44
Tokens: 3,790
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমরা সরকারি ভাবে ইলেকট্রিক কাজ শিখি এক মুসলিম স্যার ক্লাসে ইসলামিক আলোচনা করে রাসুলুল্লাহ সাঃ আম্মাজান খাদিজা রাঃ বিয়ের প্রস্তাবের কথা বলছিলেন উনার চাচা আবু তালিব এত বড়লোক প্রস্তাব দিছে বিয়ে কররে চলতে ফিরতে সুবিধা হবে যে রাসুলুল্লাহ সাঃ বিয়ের বেপারে বলছিলেন যে এত ধনী বিয়ের প্রস্তাব দিছে বিয়ে করলে চলতে ফিরতে সুবিধা হবে স্যারের কথাটা যতটুকু মনে আছে পুরোপুরি মনে নাই। তখন একজন হিন্দু ছেলে বলছে যে লারেলাপ্পা হবে বিয়ে করলে ধনী হবে সম্ভবত সে এটা বুঝাতে চাইছে সে কি শাতিমে রাসুল সাঃ হবে কেউ শুনেনি আমাকে ছাড়া হয়তো বা খেয়াল করে নি। আমার কি করনীয় এটা নিয়ে যদি সবাইকে বলি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি হবে সামাল দেওয়া কঠিন হবে

Answer

প্রশ্নের উত্তর:

প্রথমত, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র সত্তা ও তাঁর জীবনের কোনো ঘটনা নিয়ে উপহাস বা অশোভন মন্তব্য করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাসূল ﷺ-কে কটূক্তি করা বা তাঁর মর্যাদা হানানোর চেষ্টা করা কুফরি ও ধর্মত্যাগের শামিল।

রেফারেন্স:

  • সূরা তাওবা (৯:৬৫-৬৬): “যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা বলবে, আমরা তো ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলাম। আপনি বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা অজুহাত পেশ করো না, তোমরা তো কুফরি করেছ ইসলাম গ্রহণ করার পর।”
  • ইমাম ইবনে আবেদিন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’ (৫:৩৭৩): “যে ব্যক্তি রাসূল ﷺ-কে সরাসরি বা ইঙ্গিতে গালি দেয়, সে মুরতাদ ও হত্যাযোগ্য।”
  • ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (২:২৭৫): “যদি কোনো ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর সম্মানহানি করে, তবে তাকে তওবা করতে বলা হবে। না করলে হত্যা করা ওয়াজিব।”

এখন প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা বিশ্লেষণ:

  • মুসলিম শিক্ষকের কথার প্রসঙ্গ: শিক্ষক রাসূল ﷺ ও খাদিজা (রাঃ)-এর বিবাহ সম্পর্কে সঠিকভাবে বলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শিক্ষকের ভাষায় যদি কিছু অস্পষ্টতা বা ভুল ব্যাখ্যা থাকে, তবে সেটি সংশোধন করা উচিত।
  • হিন্দু সহপাঠীর মন্তব্য: “লারেলাপ্পা হবে বিয়ে করলে ধনী হবে” – এই বাক্যটি রাসূল ﷺ-এর পবিত্র বিবাহের ঘটনাকে নিয়ে বিদ্রূপ বা নিচু দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। এটি পরোক্ষভাবে রাসূল ﷺ-কে গালি দেওয়ার মতোই নিন্দনীয়। বিশেষ করে যেহেতু সে কথাটি রাসূল ﷺ-এর জীবনের একটি অত্যন্ত পবিত্র ঘটনা সম্পর্কে বলেছে, তাই তা শাতিমে রাসূল (রাসূলকে গালি দেওয়া ব্যক্তি)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

আপনার করণীয়:
১. শিক্ষককে জানান:

  • যেহেতু শিক্ষক মুসলিম, তিনি এই ঘটনাটি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন এবং ক্লাসে ইসলামী আদব ও রাসূল ﷺ-এর মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। শিক্ষককে একান্তে জানান যে, উক্ত ছেলের মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর ছিল।
  • শিক্ষক যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেন, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট ছেলেকে বুঝিয়ে বলতে পারেন এবং ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য না করতে তাকে সতর্ক করতে পারেন।

২. উত্তেজনা এড়িয়ে চলুন:

  • আপনি ঠিকই মনে করছেন যে, সরাসরি সবাইকে জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। তাই বিজ্ঞতাহিকমাহ (সুন্দর উপায়) সহকারে কাজ করুন।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শে বলা হয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও হিকমাহ অবলম্বন করা উচিত (সূরা আলে-ইমরান ৩:১৫৯)।

৩. অভিযুক্ত ছেলেকে দ্বীনের দাওয়াত:

  • যেহেতু ছেলেটি হিন্দু, তাই সে ইসলাম সম্পর্কে জানে না বা ভুল বুঝেছে। তাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন, “রাসূল ﷺ-এর বিবাহ অত্যন্ত পবিত্র ছিল এবং তাঁর চরিত্র ছিল অতুলনীয়। এমন মন্তব্য করা ঠিক নয়।”
  • যদি সে তার ভুল বুঝতে পারে এবং ক্ষমা চায়, তবে তাকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো ভালো।

৪. সাবধানতা:

  • আপনি যদি মনে করেন যে, শিক্ষক বা অন্য কেউ বিষয়টি বুঝবেন না বা পরিস্থিতি খারাপ হবে, তাহলে নিজে সরাসরি কিছু না করে কোনো বিশ্বস্ত এবং জ্ঞানী মুসলিম বন্ধু বা শিক্ষকের সাথে শেয়ার করুন।
  • সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে হলে শিক্ষকের সহায়তায় কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে। তবে অযথা ঝামেলা এড়িয়ে চলাই উত্তম, যাতে শান্তি বজায় থাকে।

মুফতী সাহেবদের মতামত:

  • মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম): “যে ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর সম্মানহানির চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে ইসলামী রাষ্ট্রে শাস্তি দেয়া ওয়াজিব। কিন্তু যদি অমুসলিম হয় এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করা যায়।”
  • মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) ‘মারিফুল কুরআন’ (তাফসীর সূরা তাওবা): “নবী ﷺ-কে নিয়ে উপহাস করা কুফরি এবং তা আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করার নামান্তর।”

সারসংক্ষেপ:

  • প্রশ্নে বর্ণিত হিন্দু ছেলেটির মন্তব্য শাতিমে রাসূলের পর্যায়ে পড়ে।
  • বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সাথে শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • উত্তেজনা এড়িয়ে চলুন এবং ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় বিজ্ঞতা অবলম্বন করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.