যাকাত

Zakat and Charity · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4805
Questioner: Areekah Adnin
Question Asked: 02 Sep 2026, 08:16 AM
Reviewed & Published: 02 Sep 2026, 03:33 PM
Views: 27
Tokens: 18,841
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারোকাতুহ

বিষয় : যাকাত

প্রশ্ন : অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর যাকাত পাওয়ার যোগ্যতা

কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, যে- কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু যাকাত পাওয়ার মতো দরিদ্র/অভাবগ্রস্ত কি না?

শিশুর যাকাত পাওয়ার যোগ্যতা কি তার নিজস্ব সম্পদ ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, নাকি যে বাবা-মা/অভিভাবক তার ভরণপোষণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের আর্থিক সামর্থ্যও বিবেচনা করতে হবে?

যদি পিতা-মাতা মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে কিন্তু সব মিলিয়ে আর্থিক চাপে থাকে, সেক্ষেত্রে কি বিধান?

প্রশ্ন : পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যাকাত দেওয়া

ধরা যাক, ১২–১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ের বাবা-মা আলাদা থাকেন। মেয়েটির প্রধান ভরণপোষণ করেন তার নানী, যিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল/উচ্চ-মধ্যবিত্ত। তার মা মধ্যবিত্ত পরিবারের (আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয় তার সব করতে), তিনিও মেয়েটিকে সহায়তা করেন।

তার biological father শুধুমাত্র মেয়েটির ন্যূনতম শিক্ষার খরচ বহন করেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য খুব সামান্য অর্থ দেন (তিনি আর দিতে আগ্রহীও না)।

এক্ষেত্রে—

* মেয়েটি কি তার বৈমাত্রেয়/সৎ বোনের কাছ থেকে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে?
* তার যাকাত পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কার আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে—মেয়েটির নিজের, মায়ের, নানীর, নাকি বাবার?
* যদি মেয়েটির মৌলিক প্রয়োজনগুলো মা (আর্থিক কষ্ট হলেও) ও নানী ইতোমধ্যে পূরণ করে থাকেন, তাহলে কি সে এখনও যাকাতের হকদার হতে পারে?

প্রশ্ন : ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী—কাজ করেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল

ধরা যাক, একজন ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে। কিন্তু তার আয় দিয়ে তার শিক্ষা ও মৌলিক জীবনযাত্রার খরচ যথাযথভাবে মেটানো সম্ভব হয় না।

তার বাবা-মা মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও নিজেদের আর্থিক অবস্থার কারণে ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করাও তাদের জন্য যথেষ্ট কষ্টকর এবং তারা নিয়মিত অর্থ পাঠাতে গিয়ে আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ছেন।

এক্ষেত্রে—

* ওই শিক্ষার্থী কি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত (মুস্তাহিক) হিসেবে গণ্য হবে?
* তার বোন কি তাকে যাকাত দিতে পারবেন?
* বাবা-মা নিজেদের আর্থিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে সাহায্য করতে আগ্রহী ও ইচ্ছুক—এই বিষয়টি কি তার যাকাত পাওয়ার যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলবে?

২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর বিস্তারিত বাস্তব পরিস্থিতি

বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য বাস্তব পরিস্থিতিটি উল্লেখ করছি।

ব্যক্তিটির বয়স প্রায় ২১ বছর। সে USA-তে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে এবং পাশাপাশি Student Job করে। তার মাসিক আয় প্রায় $1,200।

তার এই আয় মূলত বাসা/রেন্ট, খাবার এবং অন্যান্য মৌলিক জীবনযাত্রার খরচে চলে যায়। এমনকি এসব খরচও খুব সাধারণ ও সীমিতভাবে মেটানো হয়। তার নিজের নামে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই।

তার বাবা-মা ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের Tuition Fee বহন করার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু এই খরচ তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে, তার মা ছেলের Tuition Fee-এর অর্থের ব্যবস্থা করার জন্য নিজের একটি সম্পদ/ সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

তার মা এখনও সেই অর্থ ছেলের Tuition Fee দেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে চান এবং বাবা-মা দুজনই তাদের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী ও প্রস্তুত।

এই পরিস্থিতিতে জানতে চাই—

* ছেলের নিজের সীমিত আয়, কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ না থাকা এবং উচ্চ শিক্ষার বড় খরচের বিষয়গুলো বিবেচনা করলে, সে কি এখনও যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত (মুস্তাহিক) হিসেবে গণ্য হবে?
* বাবা-মা তার Tuition Fee দেওয়ার জন্য রাজি ও প্রস্তুত—এ কারণে কি সে যাকাত গ্রহণের অযোগ্য হয়ে যাবে?
* তার বোন যদি তার যাকাতের অর্থ থেকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের Tuition Fee পরিশোধ করেন, তাহলে কি তা যাকাত হিসেবে আদায় হবে?
* বাবা-মা নিজেরাই Tuition Fee দেওয়ার ইচ্ছা ও চেষ্টা করছেন—এই অবস্থায়ও কি বোন তার ভাইয়ের আর্থিক অক্ষমতার ভিত্তিতে তার Tuition Fee যাকাতের অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে পারবেন?
* নাকি বোনকে যাকাতের অর্থ সরাসরি ভাইয়ের মালিকানায় দিয়ে দিতে হবে, যাতে সে নিজে তা ব্যবহার করতে পারে?
* সরাসরি ভাইকে যাকাত দেওয়া এবং তার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে Tuition Fee পরিশোধ করার মধ্যে কি শরিয়াহর দৃষ্টিতে কোনো পার্থক্য রয়েছে?

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

ভাই যাকাতের হকদার কি না—এটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কি তার নিজের আয় ও সম্পদ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে?

নাকি তার বাবা-মায়ের আর্থিক সামর্থ্যও বিবেচনা করতে হবে—বিশেষ করে যখন বাবা-মা তাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ও দায়িত্বশীল, কিন্তু সেই সাহায্য করতে গিয়ে তাদের নিজেদের ওপরও উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে?

বিশেষভাবে জানতে চাই, এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তিকে প্রকৃতপক্ষে যাকাতের মুস্তাহিক হিসেবে বিবেচনা করার সঠিক শরয়ি criteria কী?

এবং উপরোক্ত পরিস্থিতিতে একজন বোন কি তার যাকাতের অর্থ দিয়ে ভাইয়ের University Tuition Fee প্রদান করতে পারবেন?

বিষয়গুলো কুরআন-সুন্নাহ, ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি এবং সম্ভব হলে মাযহাবভিত্তিক মতামতসহ পরিষ্কার করে দিলে অত্যন্ত উপকৃত হব।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনাদর ইলম, সময় ও খেদমতে বরকত দান করুন এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন।

Answer

যাকাত গ্রহণের যোগ্যতা: অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান

ভূমিকা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার বিস্তারিত প্রশ্নগুলোর জন্য ধন্যবাদ। যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং এর বণ্টন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। নিম্নে কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আলোকে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করা হলো।


১. অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর যাকাত পাওয়ার যোগ্যতা

মূলনীতি

যাকাতের প্রাপ্য (মুস্তাহিক) ব্যক্তিদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন:

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ "যাকাত তো কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য; এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।" (সূরা আত-তাওবাহ: ৬০)

শিশুর নিজস্ব সম্পদ ও অবস্থা বিবেচনা

শিশুর যাকাত পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শিশুর নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, তার পিতা-মাতার নয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যাকাতের প্রাপ্যতা নির্ধারিত হয় ব্যক্তির নিজস্ব সম্পদ ও প্রয়োজন অনুযায়ী। যদি কোনো শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সে যাকাতের হকদার।"

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: যে শিশুর পিতা-মাতা বা অভিভাবক তার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন এবং তার মৌলিক চাহিদা পূরণ করেন, সেই শিশুকে সাধারণত 'ফকির' বা 'মিসকিন' হিসেবে গণ্য করা হয় না, কারণ তার অভাব পূরণের দায়িত্ব অন্য কারো ওপর বর্তায়।

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যক্তির ভরণপোষণ তার পিতা বা অন্য কারো ওপর ফরজ, এবং সেই ব্যক্তি তার ভরণপোষণ প্রদান করেন, তবে ওই নির্ভরশীল ব্যক্তি যাকাতের হকদার হবে না, কারণ তার অভাব পূরণ হয়ে গেছে। কিন্তু যদি ভরণপোষণকারী ব্যক্তি তার ভরণপোষণ না দেন, তাহলে সে যাকাতের হকদার হবে।"

পিতা-মাতা মৌলিক চাহিদা পূরণ করলেও আর্থিক চাপে থাকলে

যদি পিতা-মাতা সন্তানের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান) পূরণ করতে সক্ষম হন, কিন্তু অতিরিক্ত খরচ (যেমন: উচ্চশিক্ষার ব্যয়) বহন করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়, তাহলে সন্তান যাকাতের হকদার হবে কি না—এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।

মূলনীতি: যাকাতের হকদার হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে 'ফকির' বা 'মিসকিন' হতে হবে। ফকির হলো সেই ব্যক্তি যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই এবং জীবিকার প্রয়োজনীয় জিনিসও নেই। মিসকিন হলো সেই ব্যক্তি যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই কিন্তু কিছু আয় বা সম্পদ আছে যা তার প্রয়োজন মেটাতে অপর্যাপ্ত।

শাইখ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যক্তির কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই এবং সে অভাবগ্রস্ত, সে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে। তবে যদি তার পিতা বা অভিভাবক তার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন এবং তার প্রয়োজন পূরণ করেন, তাহলে সে যাকাতের হকদার নয়।"


২. পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যাকাত দেওয়া

১২-১৩ বছর বয়সী মেয়ের ক্ষেত্রে

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতি: মেয়েটির বাবা-মা আলাদা থাকেন। নানী তার প্রধান ভরণপোষণ করেন এবং মা সহায়তা করেন। বাবা শুধু ন্যূনতম শিক্ষার খরচ বহন করেন।

বিশ্লেষণ:

১. মেয়েটির নিজস্ব সম্পদ: যদি মেয়েটির নিজের কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ না থাকে, তাহলে সে অভাবগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবে কি না—এটি নির্ভর করে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব কার ওপর এবং সেই ব্যক্তি তা পালন করছেন কি না।

২. ভরণপোষণের দায়িত্ব: ইসলামী আইনে সন্তানের ভরণপোষণ পিতার ওপর ফরজ। কিন্তু এখানে পিতা শুধু ন্যূনতম শিক্ষার খরচ দেন এবং অন্যান্য খরচ দিতে আগ্রহী নন। নানী ও মা মেয়েটির ভরণপোষণ করছেন।

৩. যাকাতের হকদার হওয়ার শর্ত: মেয়েটি যাকাতের হকদার হবে যদি তার নিজের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে এবং তার মৌলিক প্রয়োজন পূরণ না হয়। কিন্তু যেহেতু নানী ও মা তার মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করছেন, তাই সে যাকাতের হকদার হবে না—যদি না তাদের দেওয়া সহায়তা অপর্যাপ্ত হয় এবং মেয়েটির প্রয়োজন অসম্পূর্ণ থাকে।

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যক্তির ভরণপোষণ অন্য কেউ প্রদান করে, সে যাকাতের হকদার নয়, কারণ তার অভাব পূরণ হয়ে গেছে। কিন্তু যদি ভরণপোষণ অপর্যাপ্ত হয় এবং তার প্রয়োজন পূর্ণ না হয়, তাহলে সে যাকাতের হকদার হবে।"

বৈমাত্রেয়/সৎ বোনের কাছ থেকে যাকাত গ্রহণ

ইসলামী আইনে নিকটাত্মীয়দের যাকাত দেওয়ার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সাধারণ নিয়ম হলো:

  • যাদের ভরণপোষণ দেওয়া ফরজ (পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, সন্তান, নাতি-নাতনী, স্ত্রী), তাদের যাকাত দেওয়া জায়েজ নয়, কারণ তাদের ভরণপোষণ দেওয়া যাকাতদাতার ওপর ফরজ এবং যাকাত দিয়ে সেই ফরজ আদায় হবে না।
  • অন্যান্য আত্মীয়দের (ভাই, বোন, চাচা, ফুফু, মামা, খালা ইত্যাদি) যাকাত দেওয়া জায়েজ, বরং উত্তম, কারণ এতে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা হয়।

বৈমাত্রেয়/সৎ বোন (stepsister) সম্পর্কের দিক থেকে ভিন্ন। যদি সে সৎ বোন হয় (অর্থাৎ, বৈমাত্রেয় ভাই-বোন), তাহলে তাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক নেই। তবে ইসলামী আইনে সৎ বোনও 'মাহরাম' নয়, কিন্তু সে আত্মীয়। তাকে যাকাত দেওয়া জায়েজ, যদি সে যাকাতের হকদার হয়।

তবে এখানে মূল প্রশ্ন হলো: মেয়েটি কি আদৌ যাকাতের হকদার? যেহেতু তার নানী ও মা তার ভরণপোষণ করছেন, তাই সে সাধারণত যাকাতের হকদার হবে না, যদি না তাদের সহায়তা অপর্যাপ্ত হয়।

কার আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে?

যাকাতের হকদার নির্ধারণে শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে, যাকে যাকাত দেওয়া হবে। তার পিতা-মাতা বা অভিভাবকের আর্থিক অবস্থা সরাসরি বিবেচনা করা হবে না। তবে পরোক্ষভাবে, যদি অভিভাবক তার ভরণপোষণ করেন, তাহলে সে অভাবগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবে না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যাকাতের হকদার নির্ধারণে ব্যক্তির নিজস্ব অবস্থা বিবেচনা করা হবে। যদি সে নিজে সম্পদশালী হয়, তাহলে যাকাত দেওয়া জায়েজ নয়, যদিও তার পিতা-মাতা গরিব হন। আর যদি সে নিজে গরিব হয়, তাহলে যাকাত দেওয়া জায়েজ, যদিও তার পিতা-মাতা সম্পদশালী হন—তবে শর্ত হলো, তার ভরণপোষণ পিতা-মাতার ওপর ফরজ না হওয়া এবং তারা তা আদায় না করা।"


৩. ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী—কাজ করেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল

শিক্ষার্থীর যাকাত গ্রহণের যোগ্যতা

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতি: ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী USA-তে পড়াশোনা করে, মাসিক আয় $1,200, যা তার মৌলিক খরচে চলে যায়। নিজের নামে উল্লেখযোগ্য সম্পদ নেই। বাবা-মা টিউশন ফি বহন করেন, যা তাদের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষণ:

১. নিজস্ব আয়: শিক্ষার্থীর মাসিক আয় $1,200, যা তার মৌলিক জীবনযাত্রার খরচে চলে যায়। তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।

২. ভরণপোষণের দায়িত্ব: ইসলামী আইনে পিতার ওপর সন্তানের ভরণপোষণ ফরজ, যতক্ষণ না সন্তান নিজে উপার্জনক্ষম হয়। কিন্তু এখানে শিক্ষার্থী নিজে উপার্জন করে, যদিও তা অপর্যাপ্ত। পিতা-মাতা টিউশন ফি দিচ্ছেন।

৩. যাকাতের হকদার হওয়ার শর্ত: শিক্ষার্থী যাকাতের হকদার হবে যদি:

  • তার নিজের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে
  • তার মৌলিক প্রয়োজন পূরণ না হয়
  • তার ভরণপোষণের দায়িত্ব কারো ওপর ফরজ না থাকে অথবা সেই দায়িত্ব পালন করা না হয়

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: শিক্ষার্থীর বয়স ২১ বছর এবং সে নিজে উপার্জন করে। ইসলামী আইনে প্রাপ্তবয়স্ক ও উপার্জনক্ষম ব্যক্তির ভরণপোষণ পিতার ওপর ফরজ নয়। তবে পিতা-মাতা স্বেচ্ছায় সাহায্য করছেন।

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যক্তি নিজে উপার্জন করে কিন্তু তার আয় তার প্রয়োজন মেটাতে অপর্যাপ্ত, সে মিসকিন হিসেবে গণ্য হবে এবং যাকাত গ্রহণ করতে পারবে। তবে শর্ত হলো, তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকা।"

সুতরাং, উপরোক্ত শিক্ষার্থী যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত (মুস্তাহিক) হতে পারে, যদি:

  • তার নিজের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে
  • তার আয় তার মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে অপর্যাপ্ত হয়
  • তার ভরণপোষণের দায়িত্ব কারো ওপর ফরজ না থাকে (যেহেতু সে প্রাপ্তবয়স্ক ও উপার্জনক্ষম)

বাবা-মা সাহায্য করতে আগ্রহী—এটি কি যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলবে?

বাবা-মা সাহায্য করতে আগ্রহী হওয়া এবং বাস্তবে সাহায্য করা—এই দুটি বিষয় ভিন্ন। যাকাতের হকদার নির্ধারণে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা হবে, সম্ভাব্য সাহায্য নয়।

শাইখ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যাকাতের হকদার নির্ধারণে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা হবে। যদি কোনো ব্যক্তি বর্তমানে অভাবগ্রস্ত হয় এবং তার প্রয়োজন পূরণ না হয়, তাহলে সে যাকাতের হকদার। কেউ তাকে সাহায্য করার ইচ্ছা পোষণ করলেও, যতক্ষণ না সেই সাহায্য বাস্তবে পৌঁছায়, ততক্ষণ সে অভাবগ্রস্তই থাকবে।"

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: যদি পিতা-মাতা টিউশন ফি দিয়ে থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীর শিক্ষার খরচ পূরণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন (খাদ্য, বাসস্থান, বস্ত্র) যদি তার নিজের আয় দিয়ে পূরণ না হয়, তাহলে সে অভাবগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবে।

বোন কি ভাইকে যাকাত দিতে পারবে?

ভাই-বোন পরস্পরকে যাকাত দেওয়া জায়েজ, যদি গ্রহীতা যাকাতের হকদার হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَعَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ: صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ "মিসকিনকে দান করা শুধু দান, আর আত্মীয়কে দান করা দুটি সওয়াবের কাজ—দান ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।" (তিরমিযী: ৬৫৮, নাসাঈ: ২৫৮১)

তবে ভাই-বোনের ভরণপোষণ কারো ওপর ফরজ নয় (যদি না তারা নাবালক বা অসহায় হয়)। তাই প্রাপ্তবয়স্ক ও উপার্জনক্ষম ভাইকে বোন যাকাত দিতে পারবে, যদি সে যাকাতের হকদার হয়।

টিউশন ফি সরাসরি পরিশোধ করা যাকাত হিসেবে আদায় হবে কি?

মূলনীতি: যাকাত আদায়ের জন্য সম্পদটি গ্রহীতার মালিকানায় হস্তান্তর করতে হবে। যাকাতের অর্থ দিয়ে সরাসরি কারো পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা বা বিল পরিশোধ করা যাকাত হিসেবে আদায় হবে না, কারণ এতে গ্রহীতা সম্পদের মালিক হয় না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যাকাত আদায়ের জন্য সম্পদটি গ্রহীতার মালিকানায় হস্তান্তর করা শর্ত। যদি কেউ যাকাতের অর্থ দিয়ে সরাসরি কারো ঋণ পরিশোধ করে দেয়, তবে তা যাকাত হিসেবে আদায় হবে না, কারণ গ্রহীতা সম্পদের মালিক হয়নি।"

তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে। যদি কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয় এবং তার ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে এবং সেই অর্থ দিয়ে সে নিজে তার ঋণ পরিশোধ করবে। কিন্তু সরাসরি ঋণ পরিশোধ করা যাকাত হিসেবে গণ্য হবে না।

**সুতরাং, বোন যদি তার যাকাত


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.