আমার দুটো বাচ্চা আছে। বড় বাচ্চা ৫ বছর ছোট বাচ্চা প্রায় তিন বছর। আমি আবার গর্ভবতী। ছোট বাচ্চাক

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4789
Questioner: 2246 Sanjida
Question Asked: 01 Sep 2026, 11:28 PM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 11:39 PM
Views: 14
Tokens: 3,149
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার দুটো বাচ্চা আছে। বড় বাচ্চা ৫ বছর ছোট বাচ্চা প্রায় তিন বছর। আমি আবার গর্ভবতী। ছোট বাচ্চাকে একা সামলানো আমার পক্ষে ভীষণ কঠিন ও অত্যন্ত চঞ্চল। এবং খুব দুষ্টু বড় বাচ্চাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করতে পারেনি এখনো দুজনকে নিয়ে ভীষণ সিম খাই। গর্ভাবস্থায় আমার শরীর ভীষণ খারাপ থাকে। বাচ্চাদের দেখাশোনা আমার জন্য ভীষণ কঠিন হয়ে যাবে। এখন আমার জন্য গর্ভপাত জায়েজ হবে কিনা?

Answer

গর্ভপাতের বিধান সম্পর্কে ফতোয়া

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার দুটি সন্তান রয়েছে (৫ বছর ও ৩ বছর), আপনি আবার গর্ভবতী। সন্তানদের দেখাশোনার চাপ, গর্ভাবস্থায় শারীরিক অসুস্থতা ইত্যাদি কারণে আপনি গর্ভপাত করা জায়েজ কিনা জানতে চান।

ইসলামী বিধান

ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে গর্ভপাত সাধারণভাবে হারাম (নিষিদ্ধ)। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ইসলামী পণ্ডিতগণ অনুমতি দিয়েছেন।

হানাফী মাযহাবের মতামত:

১. ১২০ দিনের (৪ মাস) আগে গর্ভপাত:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, ১২০ দিনের আগে গর্ভপাত করানো মাকরূহে তাহরীমী (নিষিদ্ধের কাছাকাছি)।
  • ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া গর্ভপাত জায়েজ নয়।
  • তবে কোনো বৈধ শরয়ী কারণে (যেমন: মায়ের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা) ১২০ দিনের আগে গর্ভপাতের অনুমতি রয়েছে।

২. ১২০ দিনের পর গর্ভপাত:

  • ১২০ দিনের পর রূহ ফুঁকানো হয়ে যায়। তখন গর্ভপাত সম্পূর্ণ হারাম এবং এটি হত্যার সমতুল্য।

ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.)-এর বক্তব্য:

"গর্ভপাত করা জায়েজ নয়, তবে যদি কোনো বৈধ কারণ থাকে যেমন- মায়ের দুধ শুকিয়ে যাওয়া এবং অন্য কোনো উপায়ে শিশুর ভরণপোষণ সম্ভব না হওয়া, তাহলে ১২০ দিনের আগে গর্ভপাতের অনুমতি আছে।" (রদ্দুল মুহতার, ৬তম খণ্ড)

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী)-তে উল্লেখ আছে:

"গর্ভপাত করানো মাকরূহে তাহরীমী, তবে যদি কোনো জরুরত থাকে তাহলে ১২০ দিনের আগে অনুমতি আছে।"

আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান:

১. সন্তানদের দেখাশোনার চাপ বা কষ্ট - এটি গর্ভপাতের বৈধ কারণ নয়। সন্তান আল্লাহর আমানত এবং তাদের দেখাশোনা আপনার দায়িত্ব।

২. শারীরিক অসুস্থতা - যদি কোনো ডাক্তার নিশ্চিত করেন যে, গর্ভাবস্থা চলতে থাকলে আপনার জীবন বিপন্ন হবে, তাহলে ১২০ দিনের আগে গর্ভপাত জায়েজ হতে পারে। তবে ১২০ দিনের পর কোনো অবস্থাতেই জায়েজ নয়।

৩. পরিবার পরিকল্পনা - সন্তান বেশি হওয়ার ভয়ে গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ হারাম।

গুরুত্বপূর্ণ নসীহত:

  • আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন: "তোমাদের সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না। আমিই তাদের এবং তোমাদেরকে রিযিক দান করি।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩১)
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "বিয়ে করো, বেশি সন্তান নাও, কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যার উপর গর্ব করব।" (মুসনাদে আহমাদ)
  • সন্তান আল্লাহর রহমত এবং প্রতিটি সন্তানের সাথে রিযিক আসে।

পরামর্শ:

১. গর্ভপাতের পরিবর্তে আল্লাহর উপর ভরসা করুন এবং ধৈর্য ধারণ করুন। ২. পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিন সন্তানদের দেখাশোনায়। ৩. বড় সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করার চেষ্টা করুন, এতে আপনার কাজের চাপ কমবে। ৪. শারীরিক অসুস্থতা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করান।

উত্তর: আপনার বর্ণিত কারণে গর্ভপাত করা জায়েজ নয়। তবে যদি কোনো ডাক্তার প্রমাণ করেন যে, গর্ভাবস্থা আপনার জীবনকে বিপন্ন করছে, তাহলে ১২০ দিনের আগে গর্ভপাতের অনুমতি রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ধৈর্য ও সাহস দান করুন এবং আপনার সন্তানদেরকে আপনার জন্য শান্তির কারণ করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.