সিটি ব্যাংক ইসলামিক শাখায় টাকা রাখা ও লভ্যাংশ নেয়া কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
শ্রদ্ধেও মুফতি সাহেব,
সম্প্রতি আমি সিটি ব্যাংকের ইসলামি শাখায় একাউন্ট করেছি। সেখানে ইসলামিক নিয়মে শরিয়া বোর্ডের অধিনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সেখানের প্রধান হিসেবে আছেন, মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান। যিনি কওমি অঙ্গনের একজন বিজ্ঞ আলেম বলে চিনি।
তো আমার একাউন্টে দেখলাম তারা প্রতি মাসে একটা প্রফিট শেয়ার করে। যেমন আজ ভোরে ১৯১ টাকা আমার একাউন্টে ঢুকেছে। তাদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হলাম যে এটা তাদের মাসিক প্রফিট।
প্রশ্ন হলো এটা কি আমার জন্য জায়েজ হবে?
দয়া করে জানালে খুবই উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ।
Answer
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নকারী ভাই, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি সিটি ব্যাংকের ইসলামিক শাখায় (Islamic Banking) একাউন্ট খুলেছেন এবং সেখানে প্রতি মাসে যে প্রফিট (Profit) আসছে, তা হালাল কি না—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নিচে হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
আমাদের জানা মতে বাংলাদেশে কোন ব্যাংকই সঠিক পদ্ধতিতে ইসলামীক রুলস মেনে ব্যাংকিং করছে না। তাই সতর্কতামূলক লভ্যাংশ ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দেয়ার পরামর্শ থাকবে। , ★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত লভ্যাংশ পিতা মাতাকে না দিয়ে গরিব মিসকিনদের মাঝে সদকাহ করে দেয়ার পরামর্শ থাকবে। , আল্লাহ তায়ালা বলেন
يا ايها الذين امنوا لا تاكلوا الربا اضعافا مضاعفه واتقوا الله لعلكم تفلحون
‘হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেও না। আল্লাহকে ভয় করো। তাহলে তোমরা সফল হতে পারবে। ’ -সূরা আল ইমরান: ১৩০
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عبد الله بن مسعود عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعن الله آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর পিতা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর দলিল যে লিখে তাদের সকলেরই উপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯, মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস নং-৪৯৮১)
فى معارف السنن- من ملك بملك خبيث ولم يمكنه الرد الى المالك فسبيله التصدق على الفقراء (معارف السنن، كتاب الطهارة، باب ما جاء لا تقبل صلاة بغير طهور-1/34، الفتاوى الشامية، باب البيع الفاسد، مطلب فى من ورث مالا حراما-7/301، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى البيع-9/554، بذل المجهود، كتاب الطهارة، باب فرض الوضوء- 1/37)
কেহ যদি হারাম সম্পদের মালিক হয়,তাহলে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলে গরীব মিসকিনকে ছদকাহ করে দিতে হবে।