১লা সেপ্টেম্বর চিঠি দিবসে চিঠি লেখা কি গুনাহ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
চিঠি দিবসে চিঠি লেখার বিধান
প্রশ্ন: ১লা সেপ্টেম্বর চিঠি দিবস হিসেবে পালিত হয়। চিঠি দিবসে কাউকে চিঠি লিখলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর: ১লা সেপ্টেম্বর "চিঠি দিবস" হিসেবে পালন করা হয়। এটি একটি প্রচলিত আন্তর্জাতিক দিবস। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, কেউ যদি সারা বছরের অন্যান্য দিনের ন্যায় এই দিনে জরুরী চিঠি লিখে,সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই দিনে চিঠি লেখার কারণে গুনাহ হবে না, যদি চিঠির বিষয়বস্তু বৈধ ও শরীয়তসম্মত হয়।
তবে সারা বছর চিঠি না লেখা সত্ত্বেও শুধুমাত্র এই দিন তথা দিবস পালনের নিমিত্তে চিঠি লিখলে তাহা জায়েজ হবেনা।
পাশাপাশি এই দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পালন করাও জায়েজ হবেনা।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ
১. চিঠি লেখার মূল বিধান
ইসলামে চিঠি লেখা বা যোগাযোগ করা মৌলিকভাবে নিষিদ্ধ নয়। বরং এটি একটি সাধারণ কাজ, যা নিয়ত ও বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে সওয়াব বা গুনাহের কারণ হতে পারে।
- ভালো উদ্দেশ্যে চিঠি লেখা (যেমন: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, জ্ঞান বিতরণ, সৎকাজের উপদেশ দেওয়া) — এটি সওয়াবের কাজ।
- খারাপ উদ্দেশ্যে চিঠি লেখা (যেমন: গীবত, অপবাদ, মিথ্যা প্রচার, অন্যায়ের প্রচারণা) — এটি গুনাহের কাজ।
২. নির্দিষ্ট দিনকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার বিধান
১লা সেপ্টেম্বর "চিঠি দিবস" হিসেবে পালন করা একটি প্রচলিত প্রথা। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে:
- ইসলামে শুধুমাত্র ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, আশুরা, আরাফার দিন ইত্যাদি নির্দিষ্ট ধর্মীয় দিনগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
- ইসলামে এমন কোনো দিনকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার অনুমতি নেই যা শরীয়ত নির্ধারণ করেনি, বিশেষত যদি তা অমুসলিমদের সংস্কৃতি থেকে আগত হয়।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ" "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪০৩১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ৫১১৪)
৩. চিঠি দিবসে চিঠি লিখলে কি গুনাহ হবে?
এখানে কয়েকটি দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন:
ক. যদি কেউ শুধুমাত্র এই দিনে চিঠি লেখে, কিন্তু দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা না দেয়:
- চিঠি লেখার কাজটি নিজে গুনাহ নয়। তবে এই দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করার নিয়ত না থাকলে, শুধু চিঠি লেখার কারণে গুনাহ হবে না।
খ. যদি কেউ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পালন করে:
- এটি বিদ'আত বা অপসংস্কৃতি হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ ইসলামে এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই।
গ. যদি কেউ অমুসলিমদের সংস্কৃতি অনুকরণের নিয়তে এই দিন পালন করে:
- এটি নবীজীর নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে, যেমনটি উপরের হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. ইমাম ও ফকীহগণের মতামত
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন যে, অমুসলিমদের বিশেষ দিনগুলোতে তাদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)।
মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন:
"অমুসলিমদের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ করা বা সেগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া জায়েয নয়। তবে যদি কোনো ব্যক্তি সেই দিনে সাধারণ কাজ করে, যা অন্য দিনেও করে থাকে, তাহলে তা গুনাহ নয়।"