ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম।
Taharah Purity · Hanafi
Question
২. গোসলে কোন কারণে গড়গড়াসহ কুলি না করা হলে, নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি না পৌছানো হলে, ওজুর সময় গড়গড়াসহ কুলি এবং নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌছালে ফরজ গোসল হয়ে যাবে?
৩. আঙ্গুল দিয়ে যতটুকু নাক পরিষ্কার করা যায় ততটুকু করলে কি নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌছানো আদায় হয়ে যায়?
Answer
ফরজ গোসল সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ১: গড়গড়াসহ কুলি, নাকে পানি পৌঁছানো এবং পুরো শরীর ধৌত করা
উত্তর: জ্বী, আপনি যদি নিম্নোক্ত কাজগুলো করেন, তাহলে ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে:
১. গড়গড়াসহ কুলি করা (মাদমাদা) ২. নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো (ইস্তিনশাক) ৩. পুরো শরীরে এমনভাবে পানি পৌঁছানো যাতে শরীরের কোনো অংশ শুকনো না থাকে
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হানাফী মাযহাব মতে, গোসলের ফরজ মূলত তিনটি:
১. কুলি করা (মুখে পানি দেওয়া) ২. নাকে পানি দেওয়া (নাকের নরম স্থান পর্যন্ত) ৩. পুরো শরীর ধৌত করা
কিন্তু গড়গড়া করা (মাদমাদা) ও নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো (ইস্তিনশাক) গোসলের ফরজ নয়, বরং সুন্নত।
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, গোসলের ফরজ হলো:
- মুখে পানি দেওয়া (কুলি করা)
- নাকে পানি দেওয়া
- পুরো শরীর ধৌত করা
আর গড়গড়া করা এবং নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো হলো সুন্নত। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৩৫; আল-হিদায়া, ১/১৪)
তবে আপনি যদি গড়গড়াসহ কুলি করেন এবং নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছান, তাহলে তা উত্তম এবং সুন্নত অনুযায়ী আমল হবে। এতে গোসল আরও পরিপূর্ণ হবে।
রদ্দুল মুহতার (১/১৫২)-এ উল্লেখ আছে:
"গোসলের ফরজ হলো তিনটি: কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং সমস্ত শরীর ধৌত করা। আর গড়গড়া করা ও নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো সুন্নত।"
প্রশ্ন ২: গোসলের সময় কুলি ও নাকে পানি না দিলে, পরে ওজুর মাধ্যমে তা আদায় হবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি কেউ গোসলের সময় গড়গড়াসহ কুলি না করে এবং নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি না পৌঁছায়, কিন্তু পরে ওজুর সময় গড়গড়াসহ কুলি করে এবং নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছায়, তাহলে তার ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে।
কারণ, হানাফী মাযহাব মতে, গোসলের ফরজ হলো: ১. মুখে পানি দেওয়া (কুলি করা) ২. নাকে পানি দেওয়া ৩. পুরো শরীর ধৌত করা
এখন যদি কেউ গোসলের নিয়তে গোসল করে, কিন্তু কুলি ও নাকে পানি না দেয়, তাহলে তার গোসল ফরজ আদায় হবে না। কিন্তু যদি সে পরে ওজুর সময় কুলি করে এবং নাকে পানি দেয়, তাহলে তা গোসলের ফরজ পূরণ করে দেবে—যদিও সে গোসলের নিয়ত করে থাকে।
তবে শর্ত হলো: তাকে অবশ্যই গোসলের নিয়ত করতে হবে এবং পুরো শরীর ধৌত করতে হবে। পরে ওজুর সময় কুলি ও নাকে পানি দিলে তা গোসলের ফরজ হিসেবে গণ্য হবে।
ইমাম কাসানী (রহ.) বাদায়েউস সানায়ে (১/৩৫)-এ বলেন:
"যদি কেউ গোসল করে কিন্তু কুলি ও নাকে পানি না দেয়, তারপর ওজু করে এবং কুলি ও নাকে পানি দেয়, তাহলে তার গোসল আদায় হয়ে যাবে।"
তবে গড়গড়া করা (মাদমাদা) এবং নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো (ইস্তিনশাক) সুন্নত, ফরজ নয়। তাই এগুলো ছুটে গেলে গোসল ফরজ আদায় হয়ে যাবে, তবে সুন্নত ছুটে যাওয়ার কারণে গুনাহ হবে না, কিন্তু উত্তম পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত হবে।
প্রশ্ন ৩: আঙ্গুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে কি নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর হুকুম আদায় হবে?
উত্তর: না, আঙ্গুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করা এবং নাকে পানি পৌঁছানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আঙ্গুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে নাকের ভেতরের ময়লা দূর হয়, কিন্তু এর দ্বারা নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর হুকুম আদায় হয় না।
নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর অর্থ হলো: নাকের ভেতরের নরম অংশ (যেখানে হাড় শেষ হয়ে নরম মাংস শুরু হয়) পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। এটি করতে হলে নাকে পানি দিতে হবে এবং তা টেনে ভেতরে পৌঁছাতে হবে।
আঙ্গুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে শুধু বাইরের অংশ পরিষ্কার হয়, কিন্তু পানি ভেতরে পৌঁছায় না। তাই গোসল বা ওজুর সময় নাকে পানি দেওয়া এবং তা নরম স্থান পর্যন্ত পৌঁছানো আলাদাভাবে করতে হবে।
ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (১/১৪)-তে উল্লেখ আছে:
"ওজু ও গোসলের ক্ষেত্রে নাকে পানি দেওয়া ফরজ, আর তা হলো নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো।"
তবে গড়গড়া করা ও নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো সুন্নত—এ কথা আগেই বলেছি। ফরজ হলো শুধু নাকে পানি দেওয়া (কোনো পরিমাণে) এবং মুখে পানি দেওয়া (কোনো পরিমাণে)।
সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
| বিষয় | হুকুম | |-------|-------| | গোসলের ফরজ | ১. মুখে পানি দেওয়া, ২. নাকে পানি দেওয়া, ৩. পুরো শরীর ধৌত করা | | গড়গড়া করা (মাদমাদা) | সুন্নত | | নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো (ইস্তিনশাক) | সুন্নত | | গোসলের সময় কুলি/নাকে পানি না দিলে পরে ওজুতে তা আদায় | জায়েয, গোসল আদায় হবে | | আঙ্গুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করা | নাকে পানি পৌঁছানোর বিকল্প নয় |
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।