স্বামী স্ত্রীর বনিবনা না হ‌ওয়া।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4633
Questioner: Masum Ali
Question Asked: 30 Aug 2026, 12:50 PM
Reviewed & Published: 30 Aug 2026, 02:14 PM
Views: 12
Tokens: 21,833
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
ওস্তাদ আমি আপনাদের‌ই শিক্ষার্থী আমার সংসার ভাঙার দ্বারপ্রান্তে দয়া করে আমার নিম্নোক্ত কথা গুলো পড়ে উত্তর দিলে আমি অনেক উপকৃত হবো।
আমি বিবাহ করি দুইবছর আগে।
১ বছর সাংসারিক জীবন ভালো গেলেও গত ১ বছর ধরে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নেই।
মূল সমস্যা হচ্ছে আমাদের বনিবনা হয় না।
তবে আরো বেশ কিছু সমস্যা আছে।
নিচে তা উল্লেখ করছি।
১)পাত্রীকে আমি বিয়ে করেছিলাম তার দ্বীনদারিতা দেখে ।(বিয়ের পর বুঝতে পারি সে পরিপূর্ণ দ্বীনদ্বার না) বিয়ের আগে আমি মহিলা মাদ্রাসার পড়াশোনা বিষয়ে এত কিছু জানতাম না।জানি সে নাহুবেমীর জামায়াত পর্যন্ত পড়েছে নাকি।তখন মহিলা মাদ্রাসায় পড়া বাদ দিয়ে দাখিল মাদ্রাসাতে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছে।
বিয়ের আগে ওর আম্মু প্রতিশ্রুতি দেই যে বিয়ের পর মেয়েকে পড়াতে চাইলে নাকি পড়বে। কিন্তু বিয়ের পর জানতে পারি মহিলা মাদ্রাসায় আমার স্ত্রী দুই বছর আগেই পড়া বাদ দিসে।
আর দাখিল মাদ্রাসাতে ভর্তি হয়েও আর পড়তে চায় না।
আমি অনেক চেষ্টা করেছি যে তুমি অন্তত SSC অথবা HSC টা পাশ করো এরপর পড়াশোনা করতে হবে না আর তোমার। কারণ বাচ্চাকে নূন্যতম পড়ানোর যোগ্যতা তো একজন মায়ের থাকা উচিত।
কিন্তু কোনো কথাই রাখেনি আমার।
এমনকি পরে বলি যে আমি কিছু ইসলামিক ব‌ই দিচ্ছি সেগুলো অন্তত নিয়মিত পড়ো কিন্তু পড়েনা সে।
অনেক ব‌ই আমি তাঁকে কিনে দিয়েছি কিন্তু কোনটাই সে ভালোভাবে পড়েনি।
২)এই বিবাহের যখন কথা হচ্ছিল তখন বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে মেয়ে পক্ষকে আমি না করে দেই কিন্তু আমার বর্তমান শাশুড়ি কোথাও থেকে আমার ফোন নম্বর জোগাড় করে আমাকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে এবং আমাকে এমন কিছু কথা বলে যে বিয়ে করার প্রতি আমি ঝোঁকে যায় এবং বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ১৫/২০ দিন পর ঐ পাত্রীকেই আমি বিয়ে করি।(একজন হুজুর আমাকে বলেছিল যে বিয়ে ভেঙে যায় সেটা না করায় ভালো কিন্তু আমি শুনিনি তার কথা)
আমার এখন মনে হয় মেয়ের কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকাতেই ওনারা বেশি আগ্রহী ছিলো আমার সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য।
৩) মেয়ের কিছু ব্যক্তিগত সমস্যা আছে যেগুলো বিয়ের আগে আমাকে বলে নাই। যেহেতু উনি আমার স্ত্রী তাই সেগুলো গাইরতের কারণে উল্লেখ করছি না।
কিন্তু একজন ছেলে বিয়ের আগে এই সমস্যা গুলো জানলে বা এই ত্রুটি গুলো জানলে সহজে বিয়ের দিকে আগাবে না।(বিয়ের পর এই বিষয়গুলো জানার পর আমার মনে তার প্রতি একটু ভালোবাসার কমতি থেকে গেছে)
৪)তার ধৈর্য্য অনেক কম। এরকম না যে আমি এক পাক্ষিক কথা বলছি। আমার স্ত্রী স্বীকার করেছে যে আমার ধৈর্য্য তাঁর চেয়ে বেশি।
আমার ওয়াইফ ছোট খাটো ব্যাপার নিয়েই কথা বলে,এমনকি খোটাও দেয়।
আবার কিছু একটা কিনে দিলে তাঁর পছন্দ হয় না।
আমি শখ করে একটা জিনিস কিনে দিয়েছি একজন স্ত্রী হয়ে তো তাঁর পছন্দ না হলেও পড়া উচিত। কারণ এরপর তো আরেকটা কিনে দিবো তখন না হয় বলবে এবার আমি পছন্দ করে কিনবো কিন্তু সে এমন আচরণ করে না আমার সাথে।
৫)আমি এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়াশোনা করছি। টিউশনি করেই ব‌উয়ের ভরণ পোষণ দেওয়ার চেষ্টা করি।
কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আমার শশুর বাড়ি থেকেই দেই।
কারণ আমি যখন বিয়ে করি তখন আমি তাদের শর্ত দেই যে আমার পড়াশোনা ও জব পেতে একটু সময় লাগবে এবং এই চারবছরে তার মেয়ের দেখভাল এর দায়িত্ব নিতে হবে এবং আপনাদের বাড়িতেই মেয়ে থাকবে। তাঁরা সব শর্ত মেনে নেই এবং বিয়ে হয়।
শশুর-শাশুড়ি ব‌উকে কিছু দেওয়া নেওয়া নিয়ে কিছু বলে না।
কিন্তু আমার ব‌উ আমাকে প্রাই খোটা দেয় আমার ইনকাম নিয়ে।(জানিয়ে রাখা ভালো আমি টিউশনি করিয়েই ১০ থেকে ১৬ হাজার পর্যন্ত মাসে পেয়ে থাকি ছাত্র জীবনে এটা খুব কম ইনকাম না)
৬) আমার স্ত্রী গত দুই বছরে একদিন ও কুরআন এর তেলাওয়াত শোনায়নি আমাকে। আমি একজন ধার্মিক ছেলে আমার বিয়ের আগে কতো শখ ছিলো সহধর্মিণীর মুখে কুরআন তেলাওয়াত শুনবো যা আমার অন্তরকে প্রশান্ত করে দিবে।
অনেক রিকোয়েস্ট করেছি কিন্তু শোনায়নি কিন্তু কুরআন তেলাওয়াত আমার ব‌উ পারে।
এমনি একদিন‌ও বাংলা পড়েও আমাকে শোনায়নি।
আমি চেয়েছিলাম যে বিয়ের পর এশা পর প্রতিদিন কুরআন বা হাদিসের তালিম করবো ঘরে। বিয়ের পর ব‌উকে বলি যে একদিন আমি তালিম করবো একদিন তুমি কিন্তু সে রাজি হয়নি আর এই তালিম করাও এরপর কোনো দিন হয়নি।
বলছিলাম নিজে আগ্রহ দেখিয়ে যে আমি নিজেই তালিম করবো কিন্তু ব‌উ শোনার আগ্রহ টাই দেখায়নি আমাকে।(আমাকে কুরআন এর তেলাওয়াত না শোনানো এবং হাদিস না পড়ে শোনানোর জন্য আমার সবচেয়ে রাগ বেশি আমার স্ত্রী উপর)
ওস্তাদ এখন হয়তোবা এমন চিন্তা আসতে পারে যে আপনি কি তাকে বুঝিয়েছেন বা সময় দিয়েছেন?
আমি তাকে গত দুই বছর হলে সময় দিয়ে আসছি এবং বুঝিয়ে আসছি কিন্তু বুঝ মানে না এবং আমাকে কথা দেওয়ার পর‌ও তেলাওয়াত শোনায়নি।
৭) আমাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে কিন্তু আমার ব‌উ রেগে গেলেই আমাকে তুই তোকারি করে কিন্তু আমার চেয়ে আমার ব‌উ তিন চার বছরের ছোট।
পাশাপাশি কিছু বদ অভ্যাস আছে ওগুলো উল্লেখ করছি না সঙ্গত কারণেই।
৮)আমি আমার শাশুড়িকে বেশ কয়বার বলেছি আমার স্ত্রীকে বোঝানোর জন্য কিন্তু আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে আমার শাশুড়ি সব বলে দেই আমি যা যা বলেছি।
কিন্তু সংশোধন করার কোন কথা ওনার মেয়েকে বলে না।
আমার ওয়াইফ যখন জানতে পারে যে আমি আমার শাশুড়িকে ওর খামখেয়ালি আচারণ সম্পর্কে বলেছি তখন আমার সাথে আরো রুক্ষ আচারণ করে।
৯)আমি যেহেতু ছাত্র তাই বিয়ের একবছর বা খুব শিগগিরই বাচ্চা নিতে চায়নি কারণ এতে আমার পড়াশোনাতে ইফেক্ট পড়বে। কিন্তু আমার শশুর শাশুড়ি আমাকে চাপ দিতে থাকে।এতে বাচ্চা নেওয়ার ও ট্রাই করেছি কিন্তু বাচ্চা হয়নি।জানতে পারি আমার ওয়াইফ এর কিছু একটা সমস্যা ছিলো বিয়ের আগেই। তবে চিকিৎসকের কাছে এখন শাশুড়ি যেতে বলে আমার মনে হয় চিকিৎসকের কাছে গেলে বাচ্চা হতে পারে।
কিন্তু আমার ভয় যে বাচ্চা হ‌ওয়ার পর যদি আমাদের ডিভোর্স হয় তাহলে ঐ বাচ্চাটার লাইফ শেষ হয়ে যাবে।

১০)এখন আসি আমার কথায় আমি জেনারেল পড়া দ্বীনদার একজন ছেলে। চেয়েছিলাম ভালো একটা ব‌উ পাবো কিন্তু বিয়ের পর দেখি ভিন্ন কিছু তবে মনকে বুঝ দিয়েছি অন্যদের ব‌উ এর চেয়ে আমার ব‌উ অন্তত একটু হলেও ভালো। নামাজ কালাম তো কোনো রকম পড়ে।
আমি অনেক বুঝিয়েছি এবং সবর করেছি। কিন্তু ইদানীং ‌ব‌উয়ের আচারণের কারণে আমি খুব বিরক্ত এবং আমি নিজেও ওর সাথে খারাপ আচরণ করে ফেলতেছি। কারণ আমি যখন দেখেছি আমার ওয়াইফ কে সংশোধন করা চাচ্ছে না। ওয়াইফ এর ফ্যামিলিতে বলেও সংশোধন করা যাচ্ছে না। তখন আমিও প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করছি।
কিন্তু আমার এই ঝগড়া ঝাটি আর সাংসারিক জীবনের হতাশা আমার লাইফে ইফেক্ট ফেলে।
আমি পড়ালেখাতে ঠিকভাবে মনোযোগ‌ও দিতে পারছি না। একাডেমিক রেজাল্ট খারাপ হয়।
এবং আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি যে আমাদের বৈবাহিক জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে। বৈবাহিক জীবনের যে বাজে অভিজ্ঞতা, আমার আর ইচ্ছেও নাই বিয়ে করার কিন্তু এই স্ত্রী নিয়ে আমি আর সংসার করতে চাচ্ছি না।
আমি চাচ্ছি সম্পর্কে ইতি টানতে।
আপনার মূল্যবান উত্তর দেওয়ার জন্য অনুরোধ র‌ইলো।

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় ভাই, আপনার দীর্ঘ বিবরণ পড়লাম। আপনার সমস্যাগুলো গুরুতর এবং আপনি অনেক ধৈর্য ধরে সহ্য করেছেন। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তালাক (বিবাহবিচ্ছেদ) একটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ, যা আল্লাহর নিকট হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"আল্লাহর নিকট হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত বস্তু হলো তালাক।" (আবু দাউদ: ২১৭৮)

তালাকের পূর্বে করণীয়:

১. ধৈর্য ও সবর:

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন: "আর তোমরা নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর। আর যদি তোমরা তাদের অপছন্দ কর, তবে হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ কল্যাণ রেখেছেন।" (সূরা নিসা: ১৯)

২. পারিবারিক সালিশ (মধ্যস্থতা):

কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: "আর যদি তোমরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদের আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত কর। তারা উভয়ে যদি সংশোধন চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিলিয়ে দেবেন।" (সূরা নিসা: ৩৫)

আপনি ইতিমধ্যে শাশুড়িকে বলেছেন, কিন্তু তিনি সঠিকভাবে মধ্যস্থতা করেননি। তাই অন্য কোনো বিজ্ঞ আলেম বা সম্মানিত ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করুন।

৩. স্ত্রীর সাথে উত্তম ব্যবহার:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।" (তিরমিজি: ৩৮৯৫)

৪. নামাজ ও দোয়া:

আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। ইস্তিখারা করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

তালাকের বৈধ কারণ:

ইসলামী আইনে তালাক জায়েয হয় যখন:

  • স্ত্রীর মধ্যে এমন ত্রুটি থাকে যা বৈবাহিক জীবন ধ্বংস করে দেয়
  • স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে একসাথে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে
  • ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়

তবে আপনার বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে যে আপনার স্ত্রী:

  • নামাজ পড়ে
  • কুরআন তেলাওয়াত করতে পারে
  • মৌলিক ইসলামী জ্ঞান আছে

তার আচরণগত কিছু সমস্যা আছে, কিন্তু সেগুলো কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তালাক ছাড়া আর কোনো উপায় নেই?

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর দৃষ্টিভঙ্গি:

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তালাক তখনই দেওয়া উচিত যখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সত্যিই অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি বলেছেন যে তালাক একটি শেষ উপায়, প্রথম নয়।

ফাতাওয়া উসমানি থেকে:

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন যে তালাক দেওয়ার আগে সব ধরনের চেষ্টা করা উচিত। যদি সম্ভব হয়, তবে স্ত্রীকে সময় দিন, ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।

আমার পরামর্শ:

১. আরও ধৈর্য ধরুন - আপনার স্ত্রী এখনও তরুণী (আপনার চেয়ে ৩-৪ বছরের ছোট)। বয়সের সাথে সাথে অনেক আচরণগত সমস্যা কমে যায়।

২. পারিবারিক সালিশ গঠন করুন - আপনার পরিবার এবং স্ত্রীর পরিবারের সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সালিশ কমিটি গঠন করুন।

৩. স্ত্রীর সাথে কথা বলুন - শান্তভাবে, রাগ না করে আপনার সমস্যাগুলো তুলে ধরুন। তাকে বোঝান যে আপনি তালাকের কথা ভাবছেন, কিন্তু আপনি চান না এটি ঘটুক।

৪. ইস্তিখারা করুন - আল্লাহর কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য প্রার্থনা করুন।

৫. চিকিৎসা নিন - স্ত্রীর শারীরিক সমস্যার জন্য চিকিৎসা করান। এটি বৈবাহিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৬. শেষ চেষ্টা হিসেবে তালাক - যদি সব চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সত্যিই অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে তালাক জায়েয হবে। তবে মনে রাখবেন, তালাকের পরও আপনাকে স্ত্রীর মোহর ও অন্যান্য অধিকার পরিশোধ করতে হবে।

তালাকের পরিণতি:

তালাকের পর আপনাকে মনে রাখতে হবে:

  • স্ত্রীকে মোহর ও অন্যান্য অধিকার পরিশোধ করতে হবে
  • ইদ্দত (৩ মাস) পালন করতে হবে
  • যদি সন্তান থাকে, তবে তার দায়িত্ব নিতে হবে

উপসংহার:

প্রিয় ভাই, আমি আপনার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আপনার সমস্যাগুলো বাস্তব এবং গুরুতর। তবে ইসলাম তালাককে শেষ উপায় হিসেবে দেখে। আমি আপনাকে পরামর্শ দেব:

১. আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরুন ২. পারিবারিক সালিশ গঠন করুন ৩. স্ত্রীর সাথে খোলামেলা কথা বলুন ৪. আল্লাহর কাছে দোয়া করুন ৫. ইস্তিখারা করুন

যদি সব চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সত্যিই অসম্ভব হয়, তবে তালাক জায়েয হবে। তবে মনে রাখবেন, তালাক একটি গুরুতর সিদ্ধান্ত যা আপনার এবং আপনার স্ত্রীর জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে।

আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য উত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.