স্বামী জুলুম করলে স্ত্রীর করণীয় কি?

Family Life · Hanafi

Question No: 4620
Questioner: MD AL IMRAN
Question Asked: 29 Aug 2026, 10:58 PM
Reviewed & Published: 29 Aug 2026, 11:32 PM
Views: 35
Tokens: 15,384
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব।

আমি উম্মে মায়েশা,
আমার বিবাহ হয় ২০০৭ সালে, তখন থেকে ২০১৪ এর শেষে পর্যন্ত আমার স্বামীর সংসার খুব ভালো ভাবেই চলছিলো। কিন্তু ২০১৪ এর শেষে থেকে আমার স্বামীর ভয়াবহ ও মারাত্মক নৈতিক স্থলন ঘটে। শুরু পরকিয়া অন্য বিবাহিত মহিলাদের সাথে ভেভিচার।

আমাদের বাসার সাথে লাগোয়া প্রতিবেশীর স্ত্রীর ঘরে গভীর রাতে সে যায় সেই মহিলার স্বামীর অনুপস্থিতিতে জেনা ভেভিচার করতে। এর স্পষ্ট প্রমাণ আমি পাই কল রেকর্ডে। আমার স্বামী সেই প্রতিবেশী মহিলাকে বলে "আজ রাতে গেলে কি কাজ হবে (যেনা আজ হবে কি না সেই অর্থে)? এবং তোমাকে এক বস্তা চালের ব্যাবস্থা করে দিবো, এর বিনিময়ে যেনা করবো"

আমি এই কল রেকর্ড পেলে সাথে সাথে সেই মেমোরি কার্ড আমার হস্তগত করি এই প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য। এবং স্বামীকে জিজ্ঞাসা করি কেনো তুমি প্রতিবেশী মহিলার ঘরে গেছিলে যেনা করার জন্য? তখন সে অনেক রাগান্বিত হয়ে সেই মেমোরি কার্ড খুজতে থাকে ও আমাকে মারাত্মক ভাবে প্রহার করতে থাকে।

আমি আজ তিন সন্তানের মা। এই বর্তমান সময়ে এসেও এতো লম্বা সময় পরেও আমার স্বামীর বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হয়নি। সে এখনো নিয়মিত অন্য পতিতার কাছে যায় তার বিভিন্ন আলামত আল্লাহ আমাকে মিলিয়ে দেন। এটা তার নেশা ও পেশা হয়ে গেছে।

আমি যখনি তাকে বোঝাই বা বলি কেনো তুমি এমন করতেছো এমন জঘন্যতম কাজ? আমার হক নষ্ট করতেছো? তার উত্তর "আমি যা ইচ্ছা করবো তুই কোনো কথা বলতে পারবি না"

তার এক খারাপ বন্ধু আছে যার সাথে মিলে তারা পতিতার কাছে প্রায় নিয়মিত যায়। আমি তার সঙ্গ তাকে ছাড়তে বললে আমার স্বামী আমাকে জবাব দেয়, "প্রয়োজনে তোকে ছেড়ে দিবো তবুও সেই বন্ধু কে ছাড়তে পারবো না"

কয়েক সপ্তাহ আগে স্বামীকে নতুন করে বোঝাই তুমি তোমার খারাপ কিছু অভ্যাসকে পরিত্যাগ করো ও সেই খারাপ বন্ধুর সঙ্গ ছেড়ে দাও। কিন্তু তার উত্তর ছিলো খুবই জঘন্য। যেমন সে বলে উঠলো "আমি চাইলে তোকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে আমার সেই বন্ধুকে তোর কাছে মিলিত করার জন্য এনে দিতে পারি" আসতাগফিরুল্লাহ।

প্রায় বছর খানেক আগে স্বামী আমাকে বলছিলো যে তুমি চাইলে দেহ ব্যাবসা করে অনেক টাকা কামাতে পারবা। রাজি থাকলে কাস্টমার আমি এনে দিবো।

আমাকে কোনো মানুষ খারাপ কথার ইঙ্গিত করলে আমি স্বাসীর কাছে বিচার দেই কিন্তু স্বামী প্রতিবাদ করে না। আমার ইজ্জতের দাম মনে হয় তার কাছে একদম নেই। এমতাবস্থায় এই সংসারে আমি নিরাপত্তাহীনতা ও স্বামীর নিয়মিত জুলুমে ভুগছি অনেক লম্বা সময় ধরে।

সে মুশরিকা মহিলাদের সাথেও যেনা করে এটি আমি তার কল রেকর্ডে স্পষ্ট প্রমাণ পাই। আর তার রুচি এতোই জঘন্য সে আমি তার সাথে থাকার রুচি হারিয়ে ফেলেছি।

স্বামী হিসেবে তিনি আমাকে সারা দিনে ৫-১০ মিনিট সময় দেয়না কিছু খোশ গল্প করার জন্য। আর সন্তানদের সাথেও তার সৌহার্দ্যপুর্ণ আচরণ নেই। আমার বড়ো মেয়ের বয়স ১৭ এর বেশি এখনো বাবা হিসেবে সে মেয়ের সাথে কথায় বলেনা। মেয়েও তার বাবার সাথে তাই মিশতে চায়না। কথা বলে না।

গতো ২০২৫ সালের রমজানে স্বামী সেহরি খেয়ে ফযর না পড়েই ঘুমিয়ে যায়। আমি তিনাকে ফযর পড়ার জন্য ডেকে দিতে দিতে তিনি উঠেই সজোরে আমার দুই গালে থাপ্পর মারে। এই ঘটনা আমার মেয়ে পাষের রুম থেকে জানতে পারে ও সে খুবই হতাশা গ্রস্থ হয়।

আমার স্বামী কখনো আমাকে নামাজের তাকিদ দেয়না। পর্দা করার তাকিদ দেয় না৷ বরং বলে "তোর নামাজ কবুল হবে না"

তার আরেকটি খারাপ দিক হলো সে রাতে যৌন উত্তেজক ঔষধ সেবন করে আমার সাথে মিলিত হতে আসে যেটা আমার জন্য খুবই জুলুম মনে হয়।

আমার প্রতি তার কোনো ভালোবাসা পরিলক্ষিত হয় না। ঠিক মতো ভরণপোষণও দেয় না সন্তানদেরও না। মন খুলে কথাও বলে না। শুধু জুলুমই করে।

আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি। সে কখনো আর বুঝবে বলে মনে হয় না। কারণ কিছু দিন পর পর তার পরকিয়ার প্রমাণ আল্লাহ আমার সামনে এনে দেন। সে কখনো পরিবর্তন হতে চায় না। পরিবারের গর্ডিয়ার মাধ্যমেও তাকে শুধরানোর কথা বলা হয়েছিলো। সেটাও ব্যার্থ হয়েছে।

আমি আর এসব জুলুম সহ্য করতে পারছিনা। কোনো ভাবেই পারছিনা।

এমতাবস্থায় আমার কি করা উচিৎ সেটা দয়া করে জানাবেন। আমি এই সংসারে কোনো ভাবেই থাকতে চাই না। তাই কিভাবে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক আমি কি কি ধাপ অনুসরণ করতে পারি? দয়া করে জানাবেন।

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আপনার দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক ঘটনা পাঠ করে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আপনার ধৈর্যের উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনার অবস্থা সহজ করুন। আমিন।

আপনার প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:

আপনার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জেনা, ব্যভিচার, শারীরিক নির্যাতন, মানসিক অত্যাচার, ভরণপোষণ না দেওয়া, সন্তানদের প্রতি অবহেলা সহ বিভিন্ন গুরুতর পাপে লিপ্ত। আপনি এই সংসারে আর থাকতে চান না এবং ইসলামি শরিয়া মোতাবেক কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন তা জানতে চান।

শরিয়তের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ:

১. স্বামীর আচরণ শরিয়তসম্মত নয়:

আপনার স্বামীর আচরণ সম্পূর্ণরূপে ইসলামবিরোধী ও গুনাহের কাজ। কুরআন ও হাদিসে জেনা/ব্যভিচারকে সবচেয়ে বড় পাপগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا "আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি জেনা করে, সে মুমিন অবস্থায় জেনা করে না।" (সহীহ বুখারী: ২৪৭৫)

২. স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার ও দায়িত্ব:

ইসলামে স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • উত্তম ব্যবহার করা
  • ভরণপোষণ দেওয়া
  • স্ত্রীর সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করা

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "আর তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সৎভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।" (তিরমিজি: ৩৮৯৫)

৩. স্ত্রীর উপর স্বামীর জুলুম:

আপনার স্বামী আপনার উপর যে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক অত্যাচার ও জুলুম করছে তা সম্পূর্ণ হারাম ও ইসলামবিরোধী।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে দাসীকে প্রহার করার মতো প্রহার না করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২০৮)

৪. তালাকের বিধান:

ইসলামে তালাক অপছন্দনীয় কিন্তু জায়েয। যখন দাম্পত্য জীবন অচল হয়ে যায় এবং কোনো সমাধান না থাকে, তখন তালাক বৈধ।

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِّن سَعَتِهِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا "আর যদি তারা পৃথক হয়ে যায়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও প্রজ্ঞাময়।" (সূরা নিসা: ১৩০)

৫. খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক):

যেহেতু আপনার স্বামী তালাক দিতে রাজি নয় এবং তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে না, তাই আপনি খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ) এর ব্যবস্থা নিতে পারেন।

খুলার শর্তাবলী:

  • স্ত্রী স্বামীকে কিছু অর্থ (মোহর বা অন্য কিছু) ফেরত দিয়ে তালাক নিতে পারে
  • এটি ইসলামি শরিয়তসম্মত পদ্ধতি
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে থাকতে অপারগ হয় এবং স্বামী তালাক না দেয়, তাহলে স্ত্রী খুলার মাধ্যমে বিচ্ছেদ পেতে পারে

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ "আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, তারা উভয়ে আল্লাহর সীমা বজায় রাখতে পারবে না, তবে স্ত্রী যা বিনিময়ে দেবে তাতে তাদের উভয়ের কোনো পাপ নেই।" (সূরা বাকারা: ২২৯)

৬. ইসলামি আদালতে বিচার প্রার্থনা:

আপনি ইসলামি আদালত বা শরিয়াহ কোর্টে যেতে পারেন এবং নিম্নলিখিত বিষয়ে আবেদন করতে পারেন:

  • খুলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ
  • মোহরানা আদায়
  • সন্তানদের ভরণপোষণ
  • আপনার নিজের ভরণপোষণ (ইদ্দতকালীন)

আপনার করণীয় পদক্ষেপসমূহ:

ধাপ ১: পারিবারিক সমাধানের চেষ্টা

আপনি ইতিমধ্যে অনেক চেষ্টা করেছেন। পরিবারের গর্ডিয়ানদের মাধ্যমেও চেষ্টা করেছেন। এটি ব্যর্থ হয়েছে।

ধাপ ২: দ্বিতীয়বার পারিবারিক সালিশ

আপনার ও স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সালিশি কমিটি গঠন করুন। কুরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا "আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক নিযুক্ত করো।" (সূরা নিসা: ৩৫)

ধাপ ৩: খুলার প্রস্তাব

যদি সালিশ ব্যর্থ হয়, তাহলে আপনি স্বামীকে খুলার প্রস্তাব দিন। অর্থাৎ আপনি মোহর বা অন্য কোনো অর্থের বিনিময়ে তালাক নিতে চান।

ধাপ ৪: ইসলামি আদালতে যাওয়া

যদি স্বামী খুলাতেও রাজি না হয়, তাহলে আপনি স্থানীয় ইসলামি আদালত বা শরিয়াহ কাউন্সিলে যান এবং খুলার জন্য আবেদন করুন।

ধাপ ৫: আইনি ব্যবস্থা

প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে যেতে পারেন। আপনার কাছে স্বামীর জেনার প্রমাণ (কল রেকর্ড) আছে, যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

১. সন্তানদের কথা ভাবুন: আপনার তিন সন্তান আছে। তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিন। তবে মনে রাখবেন, এমন পিতার সাথে থাকার চেয়ে পৃথক হওয়াই সন্তানদের জন্য উত্তম হতে পারে।

২. আপনার নিরাপত্তা: আপনার স্বামী আপনাকে হুমকি দিয়েছে। আপনার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রয়োজনে আইনি সুরক্ষা নিন।

৩. সাক্ষী প্রমাণ: আপনার কাছে যে কল রেকর্ড আছে তা সংরক্ষণ করুন। এটি আদালতে আপনার দাবি প্রমাণে সহায়ক হবে।

৪. ধৈর্য ও তাকওয়া: এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا "আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।" (সূরা তালাক: ২)

ফতোয়া:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার স্বামী:

  • নিয়মিত জেনা/ব্যভিচারে লিপ্ত
  • আপনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে
  • মানসিক অত্যাচার করে
  • ভরণপোষণ দেয় না
  • সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না
  • আপনাকে দেহব্যবসায় প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছে
  • আপনাকে হুমকি দিয়েছে

এই অবস্থায় আপনি খুলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ নিতে পারেন। এটি শরিয়তসম্মত। যদি স্বামী রাজি না হয়, তাহলে ইসলামি আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ নিতে পারেন।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে: যদি স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকতে অপারগ হয় এবং স্বামী তালাক না দেয়, তাহলে বিচারক খুলার মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন। (বাদায়েউস সানায়ে: ৩/১৪৫)

ইমাম ইবনে আবেদিন (রহ.) বলেন: "যদি স্বামী স্ত্রীর প্রতি জুলুম করে এবং স্ত্রী তার সাথে থাকতে না চায়, তাহলে বিচারক তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন।" (রদ্দুল মুহতার: ৩/৪৫২)

উপসংহার:

প্রিয় বোন, আপনার অবস্থা অত্যন্ত কঠিন। আপনি দীর্ঘদিন ধরে জুলুম সহ্য করেছেন। ইসলামি শরিয়ত আপনার এই কষ্টের কথা বোঝে এবং আপনাকে সমাধানের পথ দিয়েছে।

আপনার করণীয়:

  1. প্রথমে পারিবারিক সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন (যদিও আপনি করেছেন, আবারও করতে পারেন)
  2. সালিশ ব্যর্থ হলে খুলার প্রস্তাব দিন
  3. খুলায় রাজি না হলে ইসলামি আদালতে যান
  4. প্রয়োজনে দেশের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন

মনে রাখবেন, আল্লাহ তায়ালা জালিমদের পছন্দ করেন না এবং মজলুমের দোয়া তিনি কবুল করেন। আপনার উপর জুলুম করা হয়েছে, আল্লাহ আপনার পক্ষে আছেন।

দোয়া: আল্লাহ তায়ালা আপনার ও আপনার সন্তানদের জন্য উত্তম সমাধান দান করুন, আপনাকে ধৈর্য ও সাহস দিন এবং আপনার ভবিষ্যৎ সুন্দর করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.