বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের ইসলামিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে।

Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4611
Questioner: Mst. Nur Mohal Nila
Question Asked: 29 Aug 2026, 04:05 PM
Reviewed & Published: 29 Aug 2026, 04:18 PM
Views: 30
Tokens: 2,585
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের ইসলামিক উইং এ টাকা ডিপজিট করা জায়েজ হবে কি? মানে এটা কি ইসলামি অন্য যে ব্যাংক গুলো বাংলাদেশে রয়েছে সেটারই similar হবে নাকি এটা সোনালী ব্যাংক সুদি ব্যাংক হওয়ার কারনে এখানে টাকা রাখা জায়েজ নাই?

Answer

সোনালী ব্যাংকের ইসলামিক উইংয়ে টাকা জমা রাখার বিধান

প্রশ্নের উত্তর

বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের ইসলামিক উইং (Islamic Banking Window) এ টাকা জমা রাখা জায়েজ কি না—এই বিষয়ে আমাদেরকে শরীয়তের মূলনীতি অনুযায়ী বিশ্লেষণ করতে হবে।

মূলনীতি

শরীয়তে মূলনীতি হলো—লেনদেনের বৈধতা নির্ভর করে চুক্তির (contract) প্রকৃতির উপর, ব্যাংকের নাম বা প্রতিষ্ঠানের উপর নয়। যদি কোনো ব্যাংক ইসলামিক উইং-এ আলাদা ব্যবস্থাপনায় শরীয়াহ-সম্মত চুক্তি (মুদারাবা, মুশারাকা, ওয়াদিয়া ইত্যাদি) অনুযায়ী লেনদেন করে, তবে সেটি বিবেচনা করতে হবে সেই চুক্তির আলোকে।

গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ

১. পৃথক হিসাব ও তহবিল ব্যবস্থাপনা: ইসলামিক উইং-এর তহবিল যেন মূল ব্যাংকের সুদি তহবিল থেকে সম্পূর্ণ পৃথক থাকে।

২. শরীয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড: ইসলামিক উইং-এ একজন যোগ্য আলেমের তত্ত্বাবধান থাকা আবশ্যক।

৩. চুক্তির প্রকৃতি: জমাকৃত টাকা কোন চুক্তিতে গ্রহণ করা হচ্ছে—তা স্পষ্ট হতে হবে (যেমন: মুদারাবা বা ওয়াদিয়া)।

৪. সুদি লেনদেনে অংশগ্রহণ না করা: ইসলামিক উইং-এর অর্থ যেন সুদি কার্যক্রমে ব্যবহৃত না হয়।

আলেমদের মতামত

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেন:

"লেনদেনের বৈধতা নির্ভর করে তার প্রকৃতি ও শর্তের উপর, নামের উপর নয়।"

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এমন ব্যাংক সম্পর্কে যাদের ইসলামিক উইং আছে। তিনি বলেন:

"যদি ইসলামিক উইং-এর কার্যক্রম প্রকৃতপক্ষে শরীয়াহ-সম্মত হয় এবং সুদি লেনদেন থেকে পৃথক থাকে, তবে সেখানে লেনদেন করা জায়েয। তবে যদি সন্দেহ থাকে, তবে তা পরিহার করাই উত্তম।"

শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যাংক ইসলামিক উইং চালু করে, তার শর্ত হলো—ঐ উইং-এর সকল কার্যক্রম শরীয়াহ-সম্মত হতে হবে এবং মূল ব্যাংকের সুদি কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে।"

সতর্কতা ও পরামর্শ

১. সন্দেহের ক্ষেত্রে পরিহার: যদি আপনার কাছে স্পষ্ট না হয় যে ইসলামিক উইং-এর কার্যক্রম প্রকৃতপক্ষে শরীয়াহ-সম্পূর্ণ সম্মত কিনা, তবে সন্দেহ থেকে বাঁচতে অন্য পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে (যেমন: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ PLC, EXIM Bank Islamic Branch ইত্যাদি) লেনদেন করা উত্তম।

২. গবেষণা করুন: সোনালী ব্যাংকের ইসলামিক উইং-এর চুক্তিপত্র, শরীয়াহ বোর্ডের সদস্য এবং কার্যক্রম সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন।

৩. নিয়ত: টাকা জমা রাখার সময় নিয়ত করুন যে, এটি আমানত হিসেবে রাখছেন, কোনো সুদি লাভের আশায় নয়।

কুরআন ও হাদীসের দলীল

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

"যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে পবিত্র রাখে।" (সহীহ বুখারী: ৫২, সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯)

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত

  • যদি সোনালী ব্যাংকের ইসলামিক উইং প্রকৃতপক্ষে শরীয়াহ-সম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় (পৃথক তহবিল, শরীয়াহ বোর্ড, সুদি কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ পৃথক),সরাসরি তারা পন্য ঋন দেয়, টাকা ঋন না দেয়, তবে সেখানে টাকা জমা রাখা জায়েয হতে পারে।
  • কিন্তু যেহেতু সোনালী ব্যাংক একটি সুদি ব্যাংক এবং ইসলামিক উইং-এর কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিশ্চিত হওয়া কঠিন, তাই সতর্কতামূলকভাবে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক বা ইসলামী ব্যাংকিং শাখায় লেনদেন করার পরামর্শ থাকবে।

"যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে পবিত্র রাখে। আর যে সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হয়, সে হারামে পতিত হয়।" (সহীহ বুখারী: ৫২)

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.