কাগতিয়া তবলীগিদের সাথে ভাগে কুরবানি দেওয়া কি জায়েয?
Qurbani-Slaughtering · Ahle Hadith / Salafi
Question
আমি কয়েকজন লোকের সাথে ভাগে কুরবানি দিতে চাচ্ছি।তাদের ইনকাম হালাল হলেও আক্বিদাগত কিছু সমস্যা আছে। একজন চট্টগ্রামের রাউজানে যে কাগতিয়া তবলীগ আছে তার সাথে যুক্ত। এখন তাদের সাথে কি কুরবানি দেওয়া যাবে?
** ছেলের নাম হিসাবে মুসআব ইবনে আলী এবং মেয়ের নাম হিসাবে আছিয়া বিনতে আলী রেখেছি।এটা কি ঠিক আছে।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নটি দুই ভাগে বিভক্ত। নিচে প্রতিটি অংশের জবাব দেওয়া হলো—
১. আক্বীদাগত সমস্যা থাকা লোকের সাথে ভাগে কুরবানি দেওয়া
আপনার প্রশ্ন: কয়েকজন লোকের সাথে ভাগে কুরবানি দিতে চাচ্ছেন, তাদের মধ্যে একজনের আক্বীদায় কিছু সমস্যা আছে—সে চট্টগ্রামের রাউজানের কাগতিয়া তাবলীগের সাথে যুক্ত। এমন অবস্থায় কি তাদের সাথে কুরবানি দেওয়া যায়?
উত্তর:
ইসলামে কুরবানি একটি ইবাদাত। এর শুদ্ধতার জন্য শর্ত হলো—কুরবানিদাতা মুসলিম হওয়া এবং পশুকে শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা। তবে কুরবানিদাতার আক্বীদা বা আমলের ত্রুটি কুরবানির বৈধতাকে বাতিল করে না, যতক্ষণ না সে স্পষ্ট কুফরী ও শিরকে লিপ্ত হয়।
তাবলীগী জামাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাধারণত মুসলিম হিসেবেই গণ্য। যদিও সালাফী উলামায়ে কেরাম (যেমন শাইখ ইবনে বায, শাইখ আলবানী, শাইখ উসাইমীন) তাবলীগী জামাতের কিছু পদ্ধতি ও আক্বীদাগত ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করেছেন, তবুও তারা তাবলীগের সাথে জড়িত ভাইদেরকেদেরকে মুসলিম ভাই হিসেবে গণ্য করেন। যতক্ষণ না ব্যক্তি স্পষ্ট বিদআত বা শিরকের ওপর অটল থাকে এবং তাওবা না করে, ততক্ষণ তার সাথে সহযোগিতা ও ভাগাভাগি করা যেতে পারে—বিশেষত এমন কাজে যা ধর্মীয় ইবাদাতমূলক কিন্তু পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
তবে উত্তম হলো, কুরবানির মতো ইবাদাতে সুন্নাতের ওপর অটল, আক্বীদায় পরিষ্কার ও সালাফী মানহাজের অনুসারী লোকদের সাথে শরীক হওয়া। যদি সম্ভব হয় তাহলে অন্য লোক খুঁজে নিন। আর না পেলে উল্লিখিত ব্যক্তির সাথে কুরবানি দেওয়া জায়েয, ইনশাআল্লাহ। কেননা কুরবানির পশু জবাই ও বিতরণের কাজে আক্বীদাগত ত্রুটি সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
প্রমাণ:
- আল্লাহ বলেন: “আল্লাহর নিকট পৌঁছে না তাদের গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ্জ, ৩৭)
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং শেষ দিনের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার পশু কুরবানি করে।” (সহীহ বুখারী, ৫৫৫৫)
- শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: “বিদআতীর পশু জবাই করা জায়েয, যদি সে মুসলিম হয়।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া, ২১/৫২৮)
সুতরাং উক্ত ব্যক্তির সাথে কুরবানি দেওয়া যাবে, তবে উত্তম হলো তাকে নসীহত করা এবং সালাফী মানহাজের দিকে দাওয়াত দেওয়া।
২. ছেলের নাম ‘মুসআব ইবনে আলী’ ও মেয়ের নাম ‘আছিয়া বিনতে আলী’ রাখা
উত্তর:
ইসলামে সন্তানের নাম রাখা সুন্দর ও অর্থবহ হওয়া উচিত।
- মুসআব (Mus‘ab) সাহাবী মুসআব ইবনে উমায়র (রাঃ)-এর নাম। এটি একটি উত্তম নাম।
- আছিয়া (Asiyah) ফিরআউনের স্ত্রী আছিয়া বিনতে মুজাহিম (রাঃ)-এর নাম। তিনিও একজন মহিয়সী মুমিনা নারী।
- ইবনে আলী বা বিনতে আলী অর্থাৎ ‘আলীর পুত্র’ বা ‘আলীর কন্যা’—এটি বংশ পরিচয় নির্দেশ করে। যদি (পিতার) নাম ‘আলী’ হয়, তাহলে এটি সঠিক এবং সুন্দর। কারণ তখন এটি পিতার প্রতি সম্পর্ক নির্দেশ করে, যা আরবিতে প্রচলিত এবং ইসলামে অনুমোদিত।
- তবে যদি পিতার নাম ‘আলী’ না হয়, তাহলে ‘ইবনে আলী’ বা ‘বিনতে আলী’ লেখা ভুল হবে। কারণ এটি প্রকৃত বংশীয় সম্পর্ক বোঝায়। সেক্ষেত্রে শুধু ‘মুসআব’ বা ‘আছিয়া’ রাখাই যথেষ্ট।
সারাংশ: যদি পিতার নাম ‘আলী’ হয়, তাহলে ‘মুসআব ইবনে আলী’ এবং ‘আছিয়া বিনতে আলী’ রাখা জায়েয এবং উত্তম। অন্যথায় শুধু নাম রাখাই শ্রেয়।
প্রমাণ:
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভালো নাম রাখতে উৎসাহিত করেছেন এবং সাহাবীদের নামের মধ্যেও ‘ইবনে’ ও ‘বিনতে’ ব্যবহার প্রচলিত ছিল। (সহীহ মুসলিম, ২১৩২)
- শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন: “নামে পিতার দিকে সম্পর্কিত করা জায়েয, তবে শুধুমাত্র যদি পিতা প্রকৃতই সেই ব্যক্তি হন।” (শারহুল মুমতি‘, ১৩/৩৯২)
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- তাবলীগী ব্যক্তির সাথে কুরবানি দেওয়া জায়েয, তবে উত্তম হলো পরিষ্কার আক্বীদার লোক খোঁজা।
- নাম ‘মুসআব ইবনে আলী’ ও ‘আছিয়া বিনতে আলী’ রাখা জায়েয, শর্ত হলো পিতার নাম ‘আলী’ হতে হবে।
আল্লাহু আলিম।
وَاللهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ