ইমান নিয়ে মনের মধ্যে শঙ্কাঃ করণীয় কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 455
Questioner: md saiful islam
Question Asked: 21 May 2026, 12:03 AM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 12:05 AM
Views: 18
Tokens: 2,565
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।আমি নিশ্চিত না ইমান চলে যাবে ইসলামের বিরুদ্ধে এমন কাজ করছি কিনা কিন্তু ভিতরে আসে ইমান চলে যাবে এমন কিছু করলাম?

২।বেখেয়ালি ভাবে অন্যমনস্ক হয়ে ইমান চলে যাবে এমন কিছু কথা বা কাজ করলে ইমান চলে যাবে কি?

Answer

উত্তর দেওয়ার পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ নোট:
আপনার প্রশ্নটি ঈমান ও কুফর সংক্রান্ত অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিষয়। এখানে দলিল-প্রমাণ সহকারে হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুসারে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।


প্রশ্ন ১:

"আমি নিশ্চিত না যে ঈমান চলে যাওয়ার মতো কাজ করছি কিনা, কিন্তু ভিতরে আসে যে 'ঈমান চলে যাওয়ার মতো কিছু করলাম?'"

উত্তর:
ইসলামে কর্ম ও বিশ্বাসের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণের মূলনীতি হলো নিয়ত (ইচ্ছা) ও ইখতিয়ার (স্বাধীনতা)। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

"আল্লাহ কাউকে তার সক্ষমতার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।" (সূরা বাকারা, ২:২৮৬)

হাদীসে কুদসীতে এসেছে:

"আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের অন্তরে উদিত হওয়া খারাপ চিন্তা বা ওয়াসওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা কথা বা কাজে পরিণত করে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২৫২৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১২৭)

হানাফী ফকীহগণ বলেন:

"ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য দুটি শর্ত জরুরি: (ক) সচেতনভাবে কুফরী বিশ্বাস পোষণ করা বা মুখে বলা, (খ) ইচ্ছাকৃতভাবে কুফরী কাজ সম্পাদন করা।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৪; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ২/২৫৬)

আপনার ক্ষেত্রে:

  • আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে ঈমান নষ্টের কাজ করছেন, কিন্তু শুধু অন্তরে সন্দেহ বা ওয়াসওয়াসা আসে, তাহলে তা ঈমান নষ্ট করে না
  • তবে ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে বেশি বেশি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" ও "আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়বেন এবং তার গুরুত্ব দেবেন না। অনেকে ওয়াসওয়াসাকে সত্যি মনে করে বসে থাকেন, যা শয়তানের কৌশল।

প্রশ্ন ২:

"বেখেয়ালি ভাবে অন্যমনস্ক হয়ে ঈমান চলে যাবে এমন কিছু কথা বা কাজ করলে ঈমান চলে যাবে কি?"

উত্তর:
হানাফী ফিকহের মূলনীতি:

"ভুলে, অজান্তে বা বাধ্য হয়ে কুফরী শব্দ বললে বা কাজ করলে ঈমান নষ্ট হয় না।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২২৭; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২১৩)

প্রমাণ:

  • হাদীসে এসেছে: "আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের জন্য ভুল, ভুলে যাওয়া ও বাধ্য হয়ে করা কাজ ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২০৪৫)
  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে কুফরী বলল, তার ঈমান নষ্ট হবে না।" (শরহু মাআনিল আছার, ২/৩৬৫)

তবে সতর্কতা:

  • যদি সচেতনভাবে ছোট্ট একটি কুফরী শব্দও মুখে বলেন, তাহলে ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
  • বেখেয়ালি বা অন্যমনস্ক অবস্থায় যদি কেউ এমন কথা বললেও মনে প্রাণে ঈমান দৃঢ় থাকে, তাহলে ত্যাগ (ইচ্ছা) না থাকায় ঈমান নষ্ট হবে না। তবে নিজেকে সতর্ক রাখা জরুরি।

সারসংক্ষেপ ও সমাধান:

| পরিস্থিতি | ঈমানের উপর প্রভাব | সতর্কতা | |--------------|------------------------|--------------| | ১. নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও শুধু অন্তর ওয়াসওয়াসা | ঈমান অক্ষত | ওয়াসওয়াসা দূর করুন, ধৈর্য ধরুন। | | ২. ভুলে বা অন্যমনস্ক হয়ে কুফরী কথা বলা | ঈমান অক্ষত | সঙ্গে সঙ্গে তওবা ও ইস্তিগফার পড়ুন। | | ৩. ইচ্ছাকৃতভাবে কুফরী বিশ্বাস বা কাজ | ঈমান নষ্ট | পুনরায় কালিমা ও তওবা করতেই হবে। |


শেষ পরামর্শ:

  1. অহেতুক সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা থেকে বিরত থাকুন। শয়তান মানুষকে ঈমানে দুর্বল করতে এই রোগে ফেলে।
  2. প্রত্যেক কাজ, কথা ও চিন্তায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করুন
  3. যদি কোনো কারণে অন্তর অস্থির হয়, তাহলে সরাসরি কোনো আলেম বা মুফতির সাহায্য নিন

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ঈমানের হেফাজত করুন ও শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচান। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.