জিনার শাস্তি কীভাবে কার্যকর হয়?

Family Life · Hanafi

Question No: 4540
Questioner: Mahmuda Akter
Question Asked: 27 Aug 2026, 03:35 PM
Reviewed & Published: 27 Aug 2026, 03:53 PM
Views: 15
Tokens: 3,320
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম
আমার এক আত্নীয়া কিছু দিন যাবৎ অস্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করলে তাকে যখন কারণ জিজ্ঞাসা করি তখন সে বলে যে সে বিবাহিত অবিবাহিত দুই অবস্থায় জিনা করে ফেলেছে।এখন সে অনুতপ্ত এবং আল্লাহর শাস্তির ভয়ে ভীত এবং সে চায় দুনিয়াতে তাকে রজম করে হত্যা করা হোক যেন পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি পায় এবং সে এই ব্যাপারে তার পরিবারের সম্মতি নিবেন বলছেন এবং চান যে গোপনে শরীয়ত অনুসারে তার শাস্তির বিধান কার্যকর হোক এক্ষেত্রে কী করনীয়?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার আত্মীয়ার অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর শাস্তির ভয়ে ভীত হওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে জিনার শাস্তি (রজম/বেত্রাঘাত) কার্যকর করার ক্ষমতা শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সাধারণ ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে নেই। এটি শুধুমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রের আদালত বা খলিফা/বিচারক কর্তৃক কার্যকর করা যায়।

হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে বিধান:

১. শাস্তি কার্যকরের শর্ত:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সহ হানাফী ফিকহবিদগণ বলেন, জিনার শাস্তি (হদ্দ) কার্যকর করার জন্য ইমাম বা বিচারকের আদেশ আবশ্যক। সাধারণ মুসলিম বা পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছায় কাউকে শাস্তি দিতে পারবে না।
    (সূত্র: আল-হিদায়াহ, ২/৮১; ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/১৬৮)

  • রদ্দুল মুহতার (৫/৩৬)-এ উল্লেখ আছে, "হদ্দ কার্যকর করা ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) দায়িত্ব।"

২. গোপনে শাস্তি কার্যকর করা জায়েয নয়:

  • ইসলামী রাষ্ট্রে হদ্দ কার্যকর করতে হলে তা জনসমক্ষে হতে হবে, যেন অন্যদের জন্য শিক্ষা হয়। গোপনে শাস্তি দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
    (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৪৫)

৩. তওবার মাধ্যমে ক্ষমা:

  • যেহেতু আপনার আত্মীয়া অনুতপ্ত এবং তওবা করতে চান, তাই তার জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করাই উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

    "যারা তওবা করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপসমূহ পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেন।" (সূরা ফুরকান: ৭০)

  • হাদীসে এসেছে, মায়েয (রাঃ) যখন জিনার কথা স্বীকার করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বারবার ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন:

    "তুমি কি আল্লাহর কাছে তওবা করো না?" (সহীহ মুসলিম: ১৬৯৫)

৪. পরিবারের করণীয়:

  • পরিবারের উচিত তাকে ধৈর্য ও সহানুভূতির সাথে বুঝানো যে, ইসলামে তওবার দরজা খোলা।

  • তাকে গোপন রাখা উচিত, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

    "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করবেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯)

  • ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেছেন, "যদি কেউ জিনা করে এবং তা গোপন রাখে, তবে তার জন্য তওবা করাই উত্তম, কারণ হদ্দ কার্যকর করা ইমামের দায়িত্ব।" (আল-উম্ম, ৬/১৪৫)

৫. শেষ সিদ্ধান্ত:

  • আপনার আত্মীয়াকে বলুন, তিনি যেন আল্লাহর কাছে তওবা করেন এবং ভবিষ্যতে আর এ ধরনের পাপ না করেন।
  • তাকে রজম বা হত্যা করার কোনো অনুমতি শরীয়তে নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
  • যদি তিনি সত্যিই শাস্তি চান, তবে ইসলামী রাষ্ট্রের বিচারকের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব নয়। তাই তওবাই তার জন্য উত্তম পথ।

আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করুন এবং তওবা কবুল করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.