ফজর এবং আাসরের নামাজের পর কাযা নামাযের বিধান
Salah-Prayer · Hanafi
Question
২.. একসাথে অনেক ওয়াক্তের কাযা নামায পরা যাবে নাকি?
৩... ইস্তহাজা আবস্থাতে এক ওযু দিয়ে অনেক ওয়াক্তের কাযা নামায পরা যাবে কি?
৪..সতর্কতা বশত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও কাযা করলে ফজর এবং আসরের পর এর বিধান কি?
Answer
ইস্তেহাজা ও কাযা নামায সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। জবাবঃ- আলহামদুলিল্লাহ!
সংক্ষিপ্ত উত্তরঃ
১. ইস্তহাজাকে হায়েজ মনে করে ছুটে যাওয়া ২ দিনের নিশ্চিত কাযা নামাযগুলো ফজর ও আসরের ফরয নামায আদায়ের পর (নিষিদ্ধ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত) পড়া সম্পূর্ণ জায়েয ও বৈধ। ২. হ্যাঁ, একসাথে অনেক ওয়াক্তের কাযা নামায একত্রিত করে একই মজলিসে পড়া সম্পূর্ণ জায়েয। ৩.ইস্তহাজা অবস্থায় এক ওযু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের ভিতর ভিন্ন ভিন্ন নামাযের ওয়াক্তের নামাযের কাযাপড়া যাবে; প্রতি ওয়াক্তের কাযা আদায়ের সময়ে নতুন করে ওযু করতে হবে না । ৪. নিশ্চিত কাযা ছাড়া কেবল সন্দেহ বা সতর্কতা বশত কাযা এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামায ফজর ও আসরের ফরযের পর পড়া যাবে না। তবে ফরয নামাযের কাযা তখনো পড়া যাবে।
১ম প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর ও দলীল: আসর ও ফজরের পর নিশ্চিত কাযা নামায পড়ার বিধান
- হানাফি মাযহাবের অবস্থান: হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফজরের ফরয নামায আদায়ের পর থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত এবং আসরের ফরয নামায আদায়ের পর থেকে সূর্যের রঙ হলুদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নফল নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমী হলেও নিশ্চিত ছুটে যাওয়া ফরয ও ওয়াজিব নামাযের কাযা আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েয ও বৈধ। কেবল তিনটি চরম নিষিদ্ধ সময়ে (সূর্য উদয় হওয়ার সময়, ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার সময়) যেকোনো কাযা নামায আদায় করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
- দলীল ও ফিকহি কিতাবের ইবারত:
"মাকরূহ ওয়াক্তে নফল এবং নফলের মত অন্যান্য নামায পড়া মাকরূহ। কিন্তু ফরয নামায মাকরূহ নয়... এ সময়ের মধ্যে সালাতুল কাযা, সালাতে জানাযা এবং তিলাওয়াতের সিজদা জাইয।"
- উৎস ও পৃষ্ঠা নম্বর: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী — খণ্ড: ১ম, পৃষ্ঠা: ১৮৭ (তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নিষিদ্ধ ও মাকরূহ ওয়াক্তের বিবরণ)।
২য় প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর ও দলীল: একসাথে একাধিক ওয়াক্তের কাযা নামায পড়ার বিধান
- হানাফি মাযহাবের অবস্থান: হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, কাযা নামায আদায়ের জন্য জীবনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত নেই। তিনটি নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত যেকোনো সময়েই একসাথে যত ইচ্ছা কাযা নামায পড়া যায় । আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু ২ দিনের (১০ ওয়াক্তের) নামায কাযা হয়েছে, যা ৬ ওয়াক্তের বেশি, তাই আপনার জন্য 'তারতীব' বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ওয়াজিব নয়। আপনি চাইলে একই মজলিসে বা একসাথে অনেক ওয়াক্তের কাযা নামায নির্বিঘ্নে আদায় করতে পারেন।
- দলীল ও ফিকহি কিতাবের ইবারত:
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া-তে এসেছে:
"قضاء الفرض والواجب والسنة فرض وواجب وسنة، لف نشر مرتب وجميع اوقات العمر وقت للقضاء" "ফরযের কাযা ফরয, ওয়াজিবের কাযা ওয়াজিব... এবং মানুষের সমগ্র জীবনই হলো কাযা নামায আদায়ের সময়।"
- নূরুল ঈযাহ-তে এসেছে:
"কাযা নামায- বিতর ব্যতীত- (ন্যূনতম) ছয় ওয়াক্ত হয়ে গেলে ধারাবাহিকতা রক্ষার আবশ্যকতা আর থাকে না।"
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া-তে এসেছে:
- উৎস ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া — খণ্ড: ৪র্থ, পৃষ্ঠা: ৩৮ (কাযায়ে উমরী অধ্যায়)।
- নূরুল ঈযাহ — পৃষ্ঠা: ১২৯ (কাযা নামায আদায় করা পরিচ্ছেদ)।
৩য় প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর ও দলীল: ইস্তহাজা অবস্থায় এক ওযু দিয়ে একাধিক ওয়াক্তের কাযা পড়ার হুকুম
- হানাফি মাযহাবের অবস্থান: ইস্তহাজায় আক্রান্ত নারী শরীয়তের পরিভাষায় 'মা'যূর' (ওযরগ্রস্ত) হিসেবে গণ্য। মা'যূরের হুকুম হলো, তাকে প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তের জন্য নতুন করে ওযু করতে হবে। এই ওযু দিয়ে সে উক্ত ওয়াক্তের ভেতরে যত ইচ্ছা ফরয ও কাযা নামায আদায় করতে পারবে । কিন্তু যখনই সেই নামাযের ওয়াক্তের সময় শেষ হয়ে যাবে, তার ওযু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে । ইস্তহাজা অবস্থায় এক ওযু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের ভিতর ভিন্ন ভিন্ন নামাযের ওয়াক্তের নামাযের কাযাপড়া যাবে; প্রতি ওয়াক্তের কাযা আদায়ের সময়ে নতুন করে ওযু করতে হবে না ।
- দলীল ও ফিকহি কিতাবের ইবারত:
"المستحاضة تتوضأ لوقت كل صلاة..." "ইস্তহাজায় আক্রান্ত নারী প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তের জন্য ওযু করবে।"
- উৎস ও পৃষ্ঠা নম্বর: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী — খণ্ড: ১ম, পৃষ্ঠা: ১১৫ (মা'যূরের ওযুর বিবরণ)।
৪র্থ প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর ও দলীল: সতর্কতা বশত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও কাযা নামায ফজর ও আসরের পর পড়ার বিধান
- হানাফি মাযহাবের অবস্থান: ফজরের ফরয নামাযের পর এবং আসরের ফরয নামাযের পর নফল নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমী। যে নামায নিশ্চিত কাযা হিসেবে জিম্মায় নেই, বরং নিছক সন্দেহের কারণে "সতর্কতা বশত" পড়া হয়, তা শরী'আতের দৃষ্টিতে 'নফল নামায' হিসেবে গণ্য হয় । যেহেতু এগুলো নফল নামাযের অন্তর্ভুক্ত, তাই ফজর ও আসরের ফরযের পর সতর্কতা বশত কাযা নামায পড়া সম্পূর্ণ মাকরূহে তাহরীমী বা নিষিদ্ধ]। তাছাড়া ফজর ও আসরের ফরযের পর কোনো সুন্নতে মুয়াক্কাদাও নেই।
- দলীল ও ফিকহি কিতাবের ইবারত:
- নূরুল ঈযাহ-তে এসেছে:
"ফজরের নামাযের পর এবং আসরের নামাযের পরও নফল নামায পড়া মাকরূহ।"
- নূরুল ঈযাহ-তে এসেছে:
- উৎস ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ — পৃষ্ঠা: ৫৬ (মাকরূহ ওয়াক্ত অনুচ্ছেদ)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী — খণ্ড: ১ম, পৃষ্ঠা: ১৮৭।
পালণীয় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আপনার ভুলবশত ছুটে যাওয়া ২ দিনের নামাযগুলো আপনি নিশ্চিত কাযা হিসেবে ফজরের ফরযের পর এবং আসরের ফরযের পর (সূর্য হলুদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত) নির্দ্বিধায় আদায় করতে পারেন। তবে ওযু করার সময় প্রতি ওয়াক্তের ভেতর ইস্তহাজার কারণে নতুন ওযু করে নিবেন। কোনো প্রকার সন্দেহ বা সতর্কতা বশত কাযা নামায এই সময়ে পড়বেন না।