হায়েজ সম্পর্কে জানতে চাই।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4473
Questioner: Siratul Mustaqeem
Question Asked: 25 Aug 2026, 09:52 PM
Reviewed & Published: 26 Aug 2026, 05:37 AM
Views: 27
Tokens: 3,596
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার হায়েজ হয়েছে আজ সন্ধ্যায়।ব্লেডিং এতোই কম যে লজ্জাস্থানের বাইরে খুবি সামান্য একটু ব্লাড বের হয়েছে।এরপর থেকে আর বের হচ্ছে না।এখন এমন একটা অবস্থায় আছে যে আমি চাইলেই এশার নামায টা পড়তে পারবো।কারণ ব্লেডিং একদমি নেই।কিন্তু আমি এটাও সিউর যে ১০ দিনের ভিতরে এটা অনেক বার হবে।এবং ১০ দিনের ভিতরেই সুস্থ হব ইং-শা-আল্লাহ।কারণ আমার এমনটা আরো অনেক বার হয়েছে।তাই আমার ধারণা আছে।এখন এই অবস্থায় ব্লাড যখন লজ্জাস্থানের বাইরে বের হবেনা তখন কি আমাকে ওই ওয়াক্তের নামায আদায় করতে হবে?যেহেতু আমি জানি যে একটু পরে বা সেদিনই আমার আবার একটু ব্লাড লজ্জাস্থানের বাইরে বের হবে?

Answer

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ইসলামি ফিকহের (হানাফি মাযহাব) নিয়ম অনুযায়ী, হায়েজ (মাসিক) শুরু হওয়ার শর্ত হলো রক্ত লজ্জাস্থানের ভেতর থেকে বের হয়ে বাইরে (লজ্জাস্থানের বাইরের অংশে) পৌঁছানো। যদি রক্ত শুধু ভেতরে থাকে এবং বাইরে না আসে, তবে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না এবং নামাজ পড়া বৈধ থাকবে।

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, সন্ধ্যায় অল্প পরিমাণ রক্ত লজ্জাস্থানের বাইরে বের হয়েছে এবং এরপর আর বের হচ্ছে না। এখন আপনি নিশ্চিত যে, ১০ দিনের মধ্যে আবার রক্ত আসবে এবং এটি আপনার নিয়মিত অভ্যাস।

এখন আপনার প্রশ্ন: ব্লিডিং যখন বাইরে বের হচ্ছে না, তখন কি ওই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, যখন রক্ত বের হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং আপনি নিশ্চিত হবেন যে, বর্তমানে রক্ত বের হচ্ছে না, তখন আপনার জন্য নামাজ পড়া ফরজ (অবশ্যকীয়)। কারণ, হায়েজের বিধান তখনই প্রযোজ্য হবে যখন রক্ত বের হবে। রক্ত বন্ধ থাকা অবস্থায় আপনি পবিত্র এবং নামাজ পড়তে বাধ্য।

তবে, আপনি যদি জানেন যে, কিছুক্ষণ পর বা সেদিনই আবার রক্ত বের হবে, তবুও যতক্ষণ পর্যন্ত রক্ত বের না হচ্ছে, ততক্ষণ আপনি পবিত্র হিসেবে গণ্য হবেন এবং নামাজ পড়তে হবে। কারণ, ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবস্থাকেই ধর্তব্য করা হয়। রক্ত বের হওয়ার পরই কেবল নামাজ বন্ধ হবে।

হানাফি ফিকহের দলিল:

১. সূরা আল-বাকারা (২:২২২) - আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তারা তোমাকে ঋতুবিষয়ে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা কষ্টদায়ক। অতএব, তোমরা ঋতুকালে স্ত্রী-সংগম থেকে বিরত থাকবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না।" এই আয়াতে "পবিত্র হওয়া" অর্থ রক্ত বন্ধ হওয়া এবং গোসল করা। রক্ত বন্ধ থাকা অবস্থায় নারী পবিত্র।

২. হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যখন হায়েজ শুরু হয়, তখন নামাজ ছেড়ে দাও, আর যখন শেষ হয়, তখন গোসল করে নামাজ পড়ো।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০)। এই হাদিসে স্পষ্ট যে, রক্ত বন্ধ হলেই নামাজ ফিরে আসে।

৩. রদ্দুল মুহতার (হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ): ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন, "হায়েজ হলো সেই রক্ত যা সুস্থ নারীর জরায়ু থেকে রোগের কারণে নির্গত হয়, নির্দিষ্ট সময়ে, এবং তা লজ্জাস্থানের বাইরে পৌঁছায়।" (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩)। অর্থাৎ, রক্ত বাইরে না এলে হায়েজ হবে না।

৪. ফতোয়ায়ে শামি: এতে উল্লেখ আছে, "যদি রক্ত লজ্জাস্থানের ভেতরে থাকে কিন্তু বাইরে না আসে, তবে তা হায়েজ নয় এবং নামাজ পড়া বৈধ।" (ফতোয়ায়ে শামি, ১/২৮৩)।

আপনার অবস্থার জন্য বিশেষ নির্দেশনা:

  • আপনি যখন দেখবেন রক্ত বের হওয়া বন্ধ, তখন গোসল করে নামাজ পড়ুন।
  • যদি আবার রক্ত বের হয়, তবে তখন নামাজ ছেড়ে দিন এবং হায়েজের বিধান মেনে চলুন।
  • হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন। এর মধ্যে রক্ত আসা-যাওয়া করলে, মোট ১০ দিনের বেশি হলে ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে এবং তখন নামাজ পড়তে হবে।

সারসংক্ষেপ: যতক্ষণ রক্ত বের হচ্ছে না, ততক্ষণ আপনি পবিত্র এবং নামাজ পড়া আপনার জন্য ফরজ। রক্ত বের হওয়ার সাথে সাথে নামাজ বন্ধ হবে এবং হায়েজের বিধান প্রযোজ্য হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.