গোসলের পর লজ্জাস্থান থেকে পানি বের হলে কি অজু এবং নামায হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
গোসলের পর লজ্জাস্থান থেকে পানি বের হওয়া সংক্রান্ত বিধান
প্রশ্নের উত্তর
গোসলের পর নামাযের সময় লজ্জাস্থান থেকে যদি এমন পানি বের হয় যা প্রস্রাবের মতো দেখতে (অর্থাৎ প্রস্রাবের গন্ধ, রং বা স্বাদ বিশিষ্ট), তাহলে তা নাজাসাত (অপবিত্র) হিসেবে গণ্য হবে এবং ওযু ভঙ্গ হবে। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত "প্রস্রাবের মতো পানি" বলতে যদি নিছক ভেজা ভাব বা স্বচ্ছ পানি বোঝানো হয় যা প্রস্রাবের গন্ধ, রং বা স্বাদবিশিষ্ট নয়, তাহলে তা মযী (উত্তেজনার কারণে নির্গত পানি) হিসেবে গণ্য হবে।
বিস্তারিত ফিকহী আলোচনা
১. প্রস্রাবের মতো পানি (নাজাসাত) বের হলে:
যদি লজ্জাস্থান থেকে প্রস্রাবের গন্ধ, রং বা স্বাদবিশিষ্ট পানি বের হয়, তাহলে:
- ওযু ভঙ্গ হবে - কারণ প্রস্রাব বের হওয়া ওযু ভঙ্গের কারণ।
- নামায হবে না - এই অবস্থায় নামায পড়লে তা সহীহ হবে না।
- পুনরায় ওযু করা আবশ্যক - নতুন করে ওযু করে নামায পড়তে হবে।
- কাপড় ও শরীর পবিত্র করা - যে স্থানে পানি লেগেছে তা ধুয়ে পবিত্র করতে হবে।
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওযু করে, তারপর তার শরীর থেকে কোনো নাপাকি (প্রস্রাব, পায়খানা ইত্যাদি) বের হয়, সে যেন পুনরায় ওযু করে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ১৮১)
২. মযী (উত্তেজনার পানি) বের হলে:
যদি উত্তেজনার কারণে লজ্জাস্থান থেকে স্বচ্ছ, চিকন, প্রস্রাবের গন্ধবিহীন পানি বের হয়, তাহলে:
- ওযু ভঙ্গ হবে - মযী বের হওয়াও ওযু ভঙ্গের কারণ।
- নামায হবে না - এই অবস্থায় নামায পড়লে সহীহ হবে না।
- পুনরায় ওযু করা আবশ্যক - নতুন করে ওযু করতে হবে।
- শরীর ও কাপড় ধৌত করা - মযী লেগে থাকা স্থান ধুয়ে ফেলতে হবে।
দলিল: হযরত আলী (রা.) বলেন: "আমি এমন ব্যক্তি ছিলাম যার অধিক মযী বের হতো। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: 'তুমি যখন মযী দেখতে পাও, তখন তোমার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে এবং ওযু করবে।'" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৭৮)
৩. মাদী (বীর্য) বের হলে:
যদি বীর্য (মাদী) বের হয়, তাহলে:
- গোসল ফরয হবে - বীর্য বের হলে গোসল করা আবশ্যক।
- ওযু ভঙ্গ হবে - গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে বিধান:
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, লজ্জাস্থান থেকে বের হওয়া প্রতিটি তরল পদার্থ (প্রস্রাব, মযী, বীর্য ব্যতীত) ওযু ভঙ্গের কারণ। তবে বীর্য বের হলে গোসল ফরয হয়।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
১. সংশয়ের ক্ষেত্রে: যদি নিশ্চিত না হন যে পানি প্রস্রাব নাকি অন্য কিছু, তাহলে মূলত পবিত্রতাই ধর্তব্য হবে। সন্দেহের কারণে ওযু ভঙ্গ হবে না।
২. মযী ও প্রস্রাবের পার্থক্য:
- মযী: স্বচ্ছ, চিকন, প্রস্রাবের গন্ধবিহীন, উত্তেজনার কারণে বের হয়।
- প্রস্রাব: হলুদ বর্ণের, তীব্র গন্ধযুক্ত, সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে বের হয়।
৩. নামাযের সময়: নামাযের মধ্যে যদি এমন কিছু বের হয়, তাহলে নামায বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় ওযু করে নামায পড়তে হবে।
উপসংহার:
প্রশ্নে উল্লেখিত "প্রস্রাবের মতো পানি" যদি সত্যিই প্রস্রাব হয় (অর্থাৎ প্রস্রাবের গন্ধ, রং বা স্বাদ থাকে), তাহলে ওযু ভঙ্গ হবে এবং নামায সহীহ হবে না। পুনরায় ওযু করে নামায পড়তে হবে। আর যদি তা নিছক ভেজা ভাব বা মযী হয়, তাহলেও ওযু ভঙ্গ হবে এবং পুনরায় ওযু করতে হবে। তবে গোসলের প্রয়োজন হবে না (যদি বীর্য না হয়)।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।