গত মাসে ৩ দিনের কম রক্ত দেখা গিয়েছে, এখন এই মাসে রক্তস্রাব শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কি নামায বন্ধ রাখতে হবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তরের সূচনা
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নটি হলো নিফাস শেষ হওয়ার পর হায়েযের রক্ত দেখা দেওয়া সম্পর্কে। আসুন আমরা কুরআন, হাদীস এবং হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
- বাবুর বয়স ৩ মাস
- নিফাস শেষ হওয়ার পর এখনো নিয়মিত হায়েয শুরু হয়নি
- গত মাসে একটুখানি রক্ত দেখা গিয়েছিল, কিন্তু ৩ দিন স্থায়ী হয়নি
- এই মাসে আবার একটু রক্ত দেখা যাচ্ছে
- প্রশ্ন: এখন কি নামায পড়া যাবে নাকি ৩ দিন অপেক্ষা করতে হবে?
হানাফী মাযহাবের নিয়ম অনুযায়ী সমাধান
১. হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা
হানাফী মাযহাবের মতে, হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ১০ দিন।
قال الإمام أبو حنيفة: أقل الحيض ثلاثة أيام ولياليها، وأكثره عشرة أيام
ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন: হায়েযের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন ও ৩ রাত এবং সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন।
(আল-হিদায়াহ, ১/৩৪; বাদায়েউস সানায়ে, ১/৩৮)
২. ৩ দিনের কম রক্ত দেখা গেলে কী হবে?
যদি কোনো মহিলার ৩ দিনের কম সময় রক্ত আসে, তবে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না। এটি ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। এই অবস্থায় মহিলা নামায, রোযা ইত্যাদি সব ইবাদত করবেন।
وَأَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَأَكْثَرُهُ عَشَرَةٌ، فَمَا دُونَ الثَّلَاثَةِ لَا يَكُونُ حَيْضًا
"হায়েযের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। সুতরাং ৩ দিনের কম রক্ত হায়েয হবে না।"
(রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৬)
৩. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান
যেহেতু গত মাসে আপনার রক্ত দেখা দেওয়ার পর তা তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) স্থায়ী হয়নি, তাই শরীয়তের দৃষ্টিতে সেটি মাসিক বা হায়েয ছিল না; বরং তা ছিল ইস্তেহাযা । এমতাবস্থায় ওই সময়ে আপনি যদি নামায ছেড়ে দিয়ে থাকেন, তবে সেই নামাযগুলোর কাযা আদায় করা আপনার জন্য ওয়াজিব।
৩. বর্তমান মাসের জন্য মাসআলা ও করণীয়:
এই মাসে পুনরায় রক্ত দেখা দেওয়ার পর আপনার করণীয় হলো:
- নামায বন্ধ রাখা: রক্ত দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই আপনি নামায পড়া বন্ধ করে দিবেন। কারণ রক্ত দেখা দেওয়া মাত্রই এটি হায়েয হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে, আর হায়েয অবস্থায় নামায পড়া হারাম।
- তিন দিন অপেক্ষা করা: আপনাকে দেখতে হবে এই রক্তক্ষরণ তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) পূর্ণ করে কি না।
- রক্ত তিন দিন পূর্ণ করলে: যদি রক্তক্ষরণ তিন দিন বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয়, তবে এটি আপনার মাসিক হিসেবে গণ্য হবে এবং স্বাভাবিক মাসিকের নিয়ম পালন করবেন।
- রক্ত তিন দিনের আগে বন্ধ হয়ে গেলে: যদি রক্ত তিন দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায়, তবে নিশ্চিত হওয়া গেল যে এটি হায়েয নয়, বরং ইস্তেহাযা। এমতাবস্থায় আপনাকে সাথে সাথে পবিত্র হয়ে (অযু বা প্রয়োজন হলে গোসল করে) নামায শুরু করতে হবে এবং রক্ত দেখার কারণে যে কয়টি ওয়াক্তের নামায আপনি পড়তে পারেননি, সেগুলোর কাযা আদায় করে নিতে হবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: রক্ত দেখা দিলে আপনি নামায পড়বেন না এবং তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। তবে যদি তা তিন দিন পূর্ণ না করে বন্ধ হয়ে যায়, তবে অবশ্যই বিগত ওয়াক্তগুলোর কাযা পড়তে হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।