স্বপ্নে সাপ দেখার ব্যাখ্যা।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4443
Questioner: Ummu Iyahiya
Question Asked: 25 Aug 2026, 09:22 AM
Reviewed & Published: 25 Aug 2026, 10:22 AM
Views: 17
Tokens: 13,972
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم و رحمة الله و بركاته

স্বপ্নের প্রথমদিকে আমি ভুলে গিয়েছি। সম্ভবত এমন ছিল যে, আমরা একটা পার্কে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেকগুলো প্রানি ছিল। আমার পোষা বিড়ালও ছিল। সেটা একটা কুকুরের সাথে মারামারি করে জখম হয়ে গেছিলো। পরে বাসায় আসার পর সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম বিড়াল এটা আর বাসায় রাখা যাবে না। জলাতঙ্ক হতে পারে। ওকে অনেক দূরে কোথাও দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু ওটা কোত্থেকে কিভাবে যেন আবার বাসায় চলে আসছে। ও বাসায় আসার পর সাথে একটা সাপ ছিল। ছোট এবং কুচকুচে কালো রঙের। বিড়াল টা সাপটার সাথে খেলা করতো। এই সাপ কাউকে কামড় দিতো না। কিন্তু দেখতে দেখতে আট দিনের মাথায় এটা মোটা, বিশাল আর ভয়ংকর হয়ে উঠলো। এই আটদিন আমি বাসায় ছিলাম না। যার কারণে সাপ টা আমাকে চিনতে পারে নি। এটা আমাকে কামড় দিতে চাইতো এবং যেভাবেই হোক আমাকে শেষ করে ফেলবে, এটা চাইতো। মাঝখানে আমি কিছু কিছু ভুলে গিয়েছি। কিন্তু ওয়াল্লহু আ'লাম, আমি এমন ভয়ংকর সাপ বাস্তবে বা ছবিতেও দেখি নাই।
এটা বাসা থেকে কোথাও যাচ্ছিলোও না। সবচেয়ে বড় কথা এই সাপটা শুধু আমাকেই এটাক করতে চাচ্ছিলো। স্বপ্নে আমি আমার আম্মা, বোন, চাচা, আমার বান্ধবী রিহাম, মাওয়া ওদের সবাইকে দেখেছি। কিন্তু এটা একমাত্র আমাকেই মারার সংকল্পবদ্ধ ছিল। আমি বাসায় যেতে পারতাম না। বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে একটা ছোট রান্নাঘর ছিল, ওখানে গিয়ে খাবার খেতাম। পরে একদিন এটা যখন ভিতরের রুমে ছিল, আমি চুপি চুপি রান্নাঘরে যাই, আম্মুর সাথে ছিলাম। হটাৎ দেখি এটা রান্নাঘরের জানালায় আমার দিকে ভয়ংকর রূপ নিয়ে জিহবা বের করছে, তাকিয়ে আছে। আমি আম্মু দুজনেই বুঝলাম আজকে আমার রেহাই নেই। রুম আর রান্নাঘরে মাঝে থাইগ্লাস আর একটা দরজা ছিল। আম্মু তাড়াতাড়ি করে লাগিয়ে দেয়। এটা অনেক জোরে জোরে আঘাত করছিল, মানে দরজা জানালা সব ভেঙে ফেলবে। আমি রান্নাঘরের আরেকটা জানালা ছিল, ওটা দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণপণে দৌড়াতে থাকি। দৌড়াতে দৌড়াতে মসজিদের ইমাম এর বাসায় যাই। কিন্তু ইমামের স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। মুয়াজ্জিন এর স্ত্রীর সাথে দেখা করে বিষয় টা বলে করণীয় জানতে চাই। কিন্তু উনি আমাকে যথাযথ হেল্প করতে পারেন নাই।
ইমামের স্ত্রী বেড়াতে গিয়েছিলেন। উনি আসার পর উনার সাথে দেখা করে বিষয় টা জানাই। উনি ইমামকে বলে। তারপর আমাকে একটা লিখিত সাজেশন দেয়। ওখানে কি কি যেন লিখা ছিল আমি কয়েকটা বলছি। ( আমি আর আমার একটা পুরোনো ফ্রেন্ড এর নাম লিখা ছিল, আমরা নাকি অনেক বড় কিছু একটা করবো। সেজন্য আমাদের উপর এটাক আসবে। আমাদেরকে শেষ করে দেয়ার প্রচেষ্টা চলতেছে। আমাদেরকে বড় ডিমের সাথে তুলনা করা হইসিলো।তারপর লিখা ছিল, একা একা থাকলেও লজ্জাস্থান হিফাজত করতে হবে, আল্লাহ আমাদের দেখেন। এর সাথে আরো কি কি হাবিজাবি.... হিন্দুদের তান্ত্রিক নামে কিছু ভন্ড থাকে যে, উনার থেকে কি কি নিতে হবে... ) এগুলো আমার তেমন কিছু মনে নাই। তারপর আমি আবার ইমামের স্ত্রীর কাছে যাই। উনি আমাকে বললেন আমি যেন অনেক দূরে কোথাও চলে যাই, যাতে সাপ টা আমাকে খুঁজে না পায়। কিন্তু এটা গন্ধু শুঁকে চলে যেতে পারে। যদি মাঝরাতে এটা উপস্থিত হয়, তাহলে আমি যেন ওর গায়ে দুধ ঢেলে দিই। উনার কথামতো আমি দুই প্যাকেট দুধ কিনে সেদিন অনেক দূরে চলে গেছিলাম। সাথে আম্মুও ছিল। মাঝরাতে টের পেলাম কিছু একটা জানালা দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে, মাথার উপর দিয়ে। লাইট জ্বালিয়ে দেখি ওটা অন্য একটা সাপ ছিল। হটাৎ ওই কালো ভয়ংকর সাপটা রুমে ঢুকে গেলো। ওটার এন্ট্রি ছিল এমন যে ছোট সাপটাকে ঠাস করে গিলে ফেললো। তারপর মুখ ঘুরে আমার দিকে তাকালো। আমি প্যাকেট কেটে ওটার মুখে দুধ ছুঁড়ে দিলাম। কিন্তু কিছুই হলো না। তারপর আমি কুরআনের অডিও ছেড়ে দেয়ার সাথে সাথে এটা একটা মানুষের আকৃতি ধারণ করলো। সে খাটের উপর মুখ উপুড় করে বসেছিল। এভাভেই আমার স্বপ্ন ভেঙে গেল।

পুরো স্বপ্নে আমি এতটা আতঙ্কিত ছিলাম, সুবহানাল্লহ। যেকোনো সময় এটাক করবে, মেরে ফেলবে। এমন আতঙ্কে ছিলাম। বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, নিজের পরিবারের অনেক মানুষ দেখেছি। ওটা কেউকে ছুঁয়েও দেখে না। কিন্তু ওটার একমাত্র টার্গেট আমাকে মেরে ফেলবে।

এই স্বপ্নের ব্যখ্যা কি? আমি মনে ইতোপূর্বে এমন ভয়ংকর সাপ আর দেখিনি। যেমন বড়, তেমন কালো কুচকুচে।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার স্বপ্নের বিস্তারিত বর্ণনা পড়ে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আপনি অত্যন্ত আতঙ্কিত এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা দরকার—

স্বপ্ন তিন প্রকারের হয়ে থাকে: ১. সত্য স্বপ্ন (রহমানের পক্ষ থেকে) — যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা সতর্কবার্তা হয়ে থাকে। ২. মনগড়া স্বপ্ন (নফসের খেয়াল) — যা মানুষের নিজের চিন্তা-ভাবনা, দৈনন্দিন কাজকর্ম বা মনের ভয়-ভীতি থেকে সৃষ্টি হয়। ৩. শয়তানের কুমন্ত্রণা — যা মানুষকে ভয় দেখানো ও দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্য হয়ে থাকে।

হাদিস শরিফে এসেছে—

"সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর দুঃস্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে।"
(সহিহ বুখারি: ৬৯৮৪, সহিহ মুসলিম: ২২৬১)

আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

"যখন তোমাদের কেউ এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে না, তখন সে যেন বাম পাশে তিনবার থুথু ফেলে, শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চায় এবং অন্যদিকে কাত হয়ে শুয়ে পড়ে। এতে তার কোনো ক্ষতি হবে না।"
(সহিহ বুখারি: ৬৯৮৪)


আপনার স্বপ্নের ব্যাখ্যা

আপনার স্বপ্নের বর্ণনা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়:

১. সাপের আকার ও আচরণ:
স্বপ্নে সাপ সাধারণত শত্রুর প্রতীক। তবে আপনার স্বপ্নে সাপটি প্রথমে ছোট ছিল, পরে বিশাল ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে এবং শুধুমাত্র আপনাকেই আক্রমণের চেষ্টা করছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আপনার জীবনে এমন কিছু শত্রু বা ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি রয়েছে (বা আসতে পারে) যারা গোপনে আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তবে আল্লাহর হিফাজতে আপনি নিরাপদ থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

২. বিড়াল ও কুকুরের মারামারি:
বিড়াল সাধারণত ঘর-সংসারের প্রতীক, আর কুকুর শত্রুর প্রতীক। বিড়ালের জখম হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, আপনার পারিবারিক বা সামাজিক জীবনে কিছু সমস্যা বা শত্রুতার সৃষ্টি হতে পারে।

৩. ইমাম সাহেবের স্ত্রীর পরামর্শ ও দুধ ঢালা:
স্বপ্নে দুধ ঢালা বা দুধ ব্যবহার করা সাধারণত ভালো লক্ষণ। তবে এখানে দুধ সাপের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি—এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মানুষের তৈরি তাবিজ-কবজ বা কুসংস্কারপূর্ণ ব্যবস্থা আপনার কোনো কাজে আসবে না। বরং কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমেই সাপটি মানুষের আকৃতি ধারণ করেছে—এটি প্রমাণ করে যে, কুরআনই প্রকৃত নিরাপত্তা ও শিফা

৪. সাপের মানুষের রূপ ধারণ করা:
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। সাপটি যখন কুরআনের অডিও শোনার পর মানুষের আকৃতি ধারণ করল, তখন বুঝা যায় যে, আপনার প্রকৃত শত্রু কোনো মানুষ—যে মানুষ形态ে আপনার ক্ষতি করতে চায়। তবে কুরআনের বরকতে তার ক্ষমতা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে।

৫. আতঙ্ক ও ভয়:
আপনি স্বপ্নে এতটা আতঙ্কিত ছিলেন যে, এটি আপনার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এটি মূলত শয়তানের কুমন্ত্রণা যা আপনাকে ভয় দেখিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের দুঃস্বপ্নের কোনো বাস্তব প্রভাব নেই।


করণীয়

১. ভয় পাবেন না। এটি কোনো অশুভ লক্ষণ নয়। বরং এটি আপনার মনের ভয় ও দুশ্চিন্তার প্রতিফলন।
২. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ বলেন—

"যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।"
(সুরা তালাক: ৩)

৩. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন, বিশেষ করে সূরা বাকারা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক ও সূরা নাস।
৪. ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ঘুমান।
৫. তাবিজ-কবজ, তান্ত্রিক বা ভন্ডদের কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ইসলামে এগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শিরকের পর্যায়ভুক্ত।
৬. দুশ্চিন্তা দূর করতে বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দরুদ শরিফ পড়ুন।
৭. স্বপ্নের কথা কাউকে না বলার চেষ্টা করুন এবং ঘুম থেকে উঠে বাম পাশে তিনবার থুথু ফেলে "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন।


গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমামের স্ত্রী আপনাকে "হিন্দুদের তান্ত্রিক" থেকে কিছু নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল ও ইসলামবিরোধী পরামর্শ। ইসলামে তান্ত্রিক, জ্যোতিষী, গণক বা ভন্ডদের কাছে যাওয়া এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হারাম ও শিরক। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

"যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে যায় এবং তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে, তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না।"
(সহিহ মুসলিম: ২২৩০)

সুতরাং, এ ধরনের পরামর্শ সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করুন এবং শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।


উপসংহার

আপনি সাপ স্বপ্নে দেখেছেন,এর অর্থ হলো,আপনার ঘনিষ্টজনদের মধ্য থেকে কেউ আপনার সাথে শুত্রতার চেষ্টা করতেছে।যেহেতু সাপ আপনাকে কামড় দিয়ে দিতে পারেনি, তাই শত্রুরা আপনার ক্ষতি করতে পারবেনা,ইনশাআল্লাহ।

তবে আপনার প্রতি নসিহা হল,আপনি ফরয ওয়াজিব বিধানকে গুরুত্বসহকারে পালন করবেন।সামর্থ্যানুযায়ী গরীব-মিসকিনকে কিছু দান করবেন।

আর নিম্নোক্ত দুআ পড়বেন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম,ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরুরিহিম।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.