ইউটিউবে ট্রু ক্রাইম ডকুমেন্টারি দেখা কি গুনাহ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4438
Questioner: No name
Question Asked: 25 Aug 2026, 08:36 AM
Reviewed & Published: 25 Aug 2026, 10:12 AM
Views: 23
Tokens: 2,426
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
উস্তাজ অবসর সময়ে যদি ইউটিউবে ট্রু ক্রাইম ডকুমেন্টারি দেখি তাহলে কি গুনাহ হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। ইউটিউবে ট্রু ক্রাইম ডকুমেন্টারি দেখা সম্পর্কে ইসলামী বিধান জানার আগ্রহ প্রকাশ করায় আমরা আনন্দিত।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: অবসর সময়ে ইউটিউবে ট্রু ক্রাইম ডকুমেন্টারি দেখা সাধারণভাবে নাজায়েয এবং গুনাহের কাজ বলে গণ্য হবে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ:

১. কনটেন্টের প্রকৃতি: ট্রু ক্রাইম ডকুমেন্টারিতে সাধারণত হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, প্রতারণা, মাদক ইত্যাদি অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনা, অপরাধীর মনস্তত্ত্ব, অপরাধের দৃশ্য ইত্যাদি দেখানো হয়। এতে বাদ্য-বাজনার ব্যবহারও থাকে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে:

  • অশ্লীলতা ও খারাপ দৃশ্য: যদি ডকুমেন্টারিতে বাদ্য-বাজনার ব্যবহার থাকে,অশ্লীল দৃশ্য, নারীর পর্দাহীন চিত্র, সহিংসতার ভয়াবহ দৃশ্য ইত্যাদি থাকে, তবে তা দেখা হারাম হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে..." (সূরা আন-নূর: ৩০)

  • গীবত ও পরনিন্দা: অপরাধীদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলা বা তাদের দোষ বর্ণনা করা যদি গীবতের পর্যায়ে পড়ে, তবে তা নিষিদ্ধ। তবে অপরাধ সম্পর্কে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে তা জায়েয হতে পারে।

২. সময়ের অপচয়: অবসর সময়ে এমন কনটেন্ট দেখা যা কোনো উপকার বয়ে আনে না, বরং মনে ভয়, আতঙ্ক, অশান্তি সৃষ্টি করে, তা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে অনেকেই এমন আছে যে নেয়ামতের কদর করে না—সুস্থতা ও অবসর।" (সহীহ বুখারী: ৬৪১২)

৩. উপকারী উদ্দেশ্যে: যদি কেউ অপরাধ প্রবণতা বুঝতে, অপরাধ থেকে সতর্ক হতে, বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জ্ঞান অর্জনের জন্য (যেমন: পুলিশ, গোয়েন্দা, আইনজীবী, সাংবাদিক) দেখে, তবে তা জায়েয হতে পারে, যদি কনটেন্টটি পরিষ্কার থাকে এবং অশ্লীলতা না থাকে।

৪. হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি: হানাফী ফিকহে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা অলসতা, অশ্লীলতা বা গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর নীতি হলো, যে কাজে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো উপকার নেই, তা পরিত্যাগ করা উচিত।

৫. গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:

  • ডকুমেন্টারিতে যদি সঙ্গীত, গান, বাদ্যযন্ত্র থাকে, তবে তা দেখা হারাম হবে। (হাদীসে বাদ্যযন্ত্র হারাম)
  • যদি নারী-পুরুষের অশ্লীল চিত্র থাকে, তবে তা হারাম।
  • যদি মিথ্যা, অতিরঞ্জন, বা ইসলামবিরোধী প্রচারণা থাকে, তবে তা দেখা নিষিদ্ধ।

উপসংহার ও পরামর্শ:

১. সাধারণ দর্শকের জন্য: অবসর সময়ে ট্রু ক্রাইম ডকুমেন্টারি দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এতে বাদ্য-বাজনা, সময় নষ্ট, মনে অশান্তি, এবং অনেক সময় অশ্লীলতা বা হারাম উপাদান থাকতে পারে।

২. বিকল্প: অবসর সময়ে কুরআন তিলাওয়াত, হাদীস অধ্যায়ন, ইসলামী বই পড়া, পরিবারের সাথে সময় কাটানো, বা উপকারী জ্ঞান অর্জন করা উত্তম।

৩. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে: যদি কোনো পেশাগত প্রয়োজন থাকে (যেমন: আইন প্রয়োগকারী, গবেষক), তবে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশ দেখা যেতে পারে, তবে বাদ্য-বাজনা, অশ্লীলতা ও হারাম উপাদান এড়িয়ে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন।

দলিলসমূহ:

  • সূরা আন-নূর: ৩০-৩১
  • সহীহ বুখারী: ৬৪১২
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ৬/৩৯০
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩২১

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.