ওয়াসওয়াসার কারণে নামাজ ছেড়ে দিলে কি গুনাহ?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
১.আমার মূলত ওয়াসওয়াসা সমস্যা নামাজে দাড়ালে নামাজ ছেড়ে দেই আপনি আগের প্রশ্নে বলেছিলেন যে মারাত্নক গুনাহ।আমার আগে পস্রাব এ সমস্যা থাকার কারনে বারবার অযু করতাম,তাই মানুষ কিছ কথাও বলছে এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে আমার নামাযে নিয়তের ওয়াসওয়াসা আরো অনেক ওয়াসওয়াসার কারনে নামাজ ছেড়ে দেই কিছু সময় দাড়ানো অবস্থায় থাকলে ওয়াসওয়াসা আসলে বসে যাই তার পড়ে সালাম ফিরাই মানুষ কি বলবে এর জন্য দাড়ানো অবস্থায় ফিরাই না এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে,
A.আমার কি শির্ক হয়ে গেছে?
B.কোনো কারন বসতই নামাজ না ছাড়লে মানুষ কি ভাববে তখন কি শির্ক হবে?
২.আমার ওয়াসওয়াসা সমস্যার কারনে কিছু কষ্ট ও হয়। তাই বলে চাচ্ছি যে suppose আমি লাইট জালাবো এখন ছুইচ দিবো এর মধ্যে ওয়াসওয়াসা আসলো নিইত এর, ওয়াসওয়াস টা এইরকম যে ছুইচ দেওয়ার সময় কি একটা চিন্তা আসলো পজেটিভ না নেগেটিভ সন্দেহ যদি পজেটিভ ও আসে আমি নিয়ত করে নেই যে এই নিয়তে আমি ছুইচ দিবো না এখন এই চিন্তা আসে যে বার বার এই নিয়তে কাজ করলে কি গুনাহ হবে মানে নিয়ত সত্য না। এখন আমার এই অবস্তায় কি করনীয়?
৩.পস্রাব এর কতটুকু বেগ নিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে? আমার একটু বেশিই পস্রাব পায়।
আসর এর সালাত এর পর পস্রাব না করে মাগরীব এর সালাত আদায় করা যাবে কি?সব ওয়াক্তের নামাজের আগে কি পস্রাব করা লাগবে?
৪.আগের একটা প্রশ্নে বলেছিলাম যে ফুটবল গেইমে মুজা দিয়ে সতর hide করা যায় এখন হাটুর উপরের অংশ দেখা যায় তাতে কি হারাম হবে? মানে পেন্ট সর্ট থাকার কারনে।
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে নিচ্ছি—ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) একটি মানসিক রোগ, যা শয়তানের কুমন্ত্রণা। ইসলামে এর প্রতিকার হলো এটাকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা। নিচে আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে দেওয়া হলো:
১. নামাজ ছেড়ে দেওয়া ও শির্কের প্রশ্ন:
A. আপনার শির্ক হয়ে গেছে কি?
উত্তর: না, আপনার শির্ক হয়নি। শির্ক হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য বানানো। ওয়াসওয়াসার কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া গুনাহ হলেও তা শির্ক নয়। তবে এটি মারাত্মক গুনাহ, কারণ নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ।
দলিল: কুরআনে আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা নিসা: ১০৩)।
তাই ওয়াসওয়াসা এলে নামাজ ছেড়ে না দিয়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা উপেক্ষা করে নামাজ চালিয়ে যেতে হবে।
B. মানুষ কী ভাববে, এতে কি শির্ক হবে?
উত্তর: মানুষের কথা ভয়ে নামাজ ছেড়ে দেওয়া শির্ক নয়, তবে এটি ভুল। মানুষের ভয় বা লজ্জার কারণে নামাজ ত্যাগ করা উচিত নয়। নামাজ আল্লাহর জন্য, মানুষের জন্য নয়।
দলিল: হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে, সে শির্ক করেছে।" (ইবনে মাজাহ)। অর্থাৎ রিয়া (লোক দেখানো) শির্কের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু মানুষের ভয়ে নামাজ ছেড়ে দেওয়া শির্ক নয়, বরং এটি গুনাহ।
২. ওয়াসওয়াসার কারণে নিয়তের সন্দেহ ও করণীয়:
উত্তর:
- আপনি যদি লাইট জ্বালানোর নিয়ত করেন, কিন্তু ওয়াসওয়াসার কারণে মনে হয় "নিয়ত সত্য হলো কি না"—এটা শয়তানের কুমন্ত্রণা।
- করণীয়: এই সন্দেহকে গুরুত্ব দেবেন না। আপনি যে কাজটি করছেন, তা স্বাভাবিকভাবে করুন। নিয়তের সত্যতা নিয়ে বারবার চিন্তা করা শয়তানের কাজ।
- দলিল: হাদিসে এসেছে, "তোমাদের কেউ যখন নামাজে থাকে, তখন শয়তান এসে বলে—তুমি অশুচি হয়ে গেছ। সে যেন তখন না ফেরে, যতক্ষণ না পানি (পেশাবের) শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়।" (বুখারি ও মুসলিম)।
অর্থাৎ ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেওয়া নিষিদ্ধ। আপনি কাজটি করবেন, আর মনে মনে বলবেন—"আমার নিয়ত সত্য, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করছি।"
৩. পেশাবের বেগ নিয়ে নামাজ পড়া:
উত্তর:
- পেশাবের বেগ এমন অবস্থায় নামাজ পড়া মাকরুহ। কারণ নামাজে মনোযোগ থাকে না।
- কতটুকু বেগ নিয়ে নামাজ পড়া যাবে? যদি বেগ এত তীব্র হয় যে নামাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না, তাহলে নামাজ পড়া জায়েজ নয়। আগে পেশাব সেরে নামাজ পড়বেন।
- আসরের পর পেশাব না করে মাগরিব পড়া: না, তা উচিত নয়। প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের আগে পেশাব সেরে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি বেগ থাকে।
- সব ওয়াক্তের নামাজের আগে পেশাব করা: যদি বেগ থাকে, তাহলে অবশ্যই করবেন। যদি বেগ না থাকে, তাহলে প্রয়োজন নেই।
৪. ফুটবল খেলায় প্যান্ট-শর্ট ও সতর:
উত্তর:
- ফুটবল খেলায় সাধারণত প্যান্ট-শর্ট পরা হয়, যা হাঁটুর উপরে থাকে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। তাই হাঁটুর উপরের অংশ (উরু) ঢেকে রাখা ফরজ।
- হাঁটুর উপরের অংশ দেখা গেলে: যদি প্যান্ট-শর্ট এমন হয় যে হাঁটুর উপরের অংশ (উরু) দেখা যায়, তাহলে তা হারাম।
- সমাধান: ফুটবল খেলার সময় লম্বা প্যান্ট পরুন, যাতে হাঁটু ও উরু ঢাকা থাকে। অথবা মোজার মতো লম্বা সক্স পরুন যা হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখে।
- দলিল: হাদিসে এসেছে, "উরু সতরের অন্তর্ভুক্ত।" (আবু দাউদ)। তাই উরু ঢেকে রাখা ফরজ।
সংক্ষিপ্ত করণীয়:
১. ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবেন না। নামাজে দাঁড়ালে শয়তানের কুমন্ত্রণা উপেক্ষা করুন।
২. নামাজ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. পেশাবের বেগ থাকলে আগে পেশাব সেরে নামাজ পড়ুন।
৪. ফুটবল খেলার সময় সতর ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনার ওয়াসওয়াসা দূর করে দিন এবং নামাজে মনোযোগ দান করুন। আমিন।