একাউন্টে এটা আমার প্রথম অর্ডার যার কারণে আমাকে ২৫০৳ ডিসকাউন্ট দেয়া হয়েছে,এখন মা ও চাচির কাছ থেকে ডিসকাউন্টকৃত মূল্যই কি নেওয়া উচিত?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4379
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 24 Aug 2026, 12:37 AM
Reviewed & Published: 24 Aug 2026, 04:30 AM
Views: 22
Tokens: 3,057
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার মা ও চাচি ২জন আমাকে ৩টা একই তেলের বোতল অর্ডার করে দিতে বলেছেন, যেটা আমার একাউন্ট করতে হচ্ছে, এই একাউন্টে এটা আমার প্রথম অর্ডার যার কারণে আমাকে ২৫০৳ ডিসকাউন্ট দেয়া হয়েছে - যা আমি পরবর্তী অর্ডারে আর পাবোনা । এখন তাদের জন্য যে আমার সুযোগটা হারালাম এক্ষেত্রে কি করা যায়? এই ২৫০৳ তাদের থেকে নেয়া উচিৎ?

Answer

বিস্তারিত উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার মা ও চাচি আপনাকে ৩টি তেলের বোতল অর্ডার করতে বলেছেন। এটি আপনার প্রথম অর্ডার হওয়ায় আপনি ২৫০৳ ডিসকাউন্ট পেয়েছেন, যা পরবর্তী অর্ডারে আর পাবেন না। প্রশ্ন হলো, এই ডিসকাউন্টের সুবিধা হারানোর কারণে তাদের কাছ থেকে ২৫০৳ নেওয়া উচিত কিনা।

ইসলামী নীতি ও বিধান

১. আমানতদারিতা ও সততা

আপনি তাদের জন্য অর্ডার করেছেন, এটি একটি আমানতের কাজ। ইসলাম আমানতদারিতা ও সততাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও।" (সূরা আন-নিসা: ৫৮)

২. ডিসকাউন্টের প্রকৃতি

এখানে ২৫০৳ ডিসকাউন্টটি আপনার প্রথম অর্ডারের কারণে দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত আপনার ব্যক্তিগত সুবিধা, যা আপনি পেয়েছেন আপনার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ডিসকাউন্টটি কার প্রাপ্য?

৩. হানাফী ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ

ক. ডিসকাউন্টের মালিকানা: ডিসকাউন্টটি মূলত ক্রেতার (আপনার) প্রাপ্য। যেহেতু অর্ডারটি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে এবং ডিসকাউন্টটি আপনার অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত, তাই প্রাথমিকভাবে এই ডিসকাউন্টের সুবিধা আপনারই।

খ. তবে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: আপনি যদি তাদের (মা ও চাচির) পক্ষ থেকে ক্রয় করছেন এবং তারা আপনাকে সম্পূর্ণ মূল্য দিচ্ছেন, তাহলে আপনার উচিত তাদেরকে প্রকৃত মূল্য (যা আপনি পরিশোধ করেছেন) জানানো এবং তাদের কাছ থেকে সেই পরিমাণই নেওয়া। ডিসকাউন্টের কারণে আপনি কম মূল্যে পণ্য পেয়েছেন, তাই তাদের কাছ থেকে কম মূল্যই নেওয়া উচিত।

গ. ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর নীতি: ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর মতে, যদি কেউ কারো পক্ষ থেকে ক্রয় করে এবং ক্রেতা বিক্রেতাকে বলে "আমি আপনার পক্ষ থেকে ক্রয় করছি", তাহলে ক্রয়টি প্রিন্সিপালের (আসল মালিকের) পক্ষে হবে। এই ক্ষেত্রে ডিসকাউন্টসহ সকল সুবিধা প্রিন্সিপালের প্রাপ্য।

৪. ফাতাওয়া উসমানী ও অন্যান্য কিতাবের আলোকে

ফাতাওয়া উসমানী-তে উল্লেখ আছে:

"যদি কেউ কারো পক্ষ থেকে পণ্য ক্রয় করে এবং ক্রয়ের সময় ডিসকাউন্ট বা কমিশন পাওয়া যায়, তবে তা সেই ব্যক্তির (যার পক্ষে ক্রয় করা হয়েছে) প্রাপ্য, যদি না ক্রেতা নিজের অর্থ দিয়ে ক্রয় করে থাকে।"

রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:

"আমানতদার ব্যক্তি যদি আমানতের মাল দিয়ে ক্রয় করে এবং লাভ হয়, তবে লাভ আমানতের মালিকের প্রাপ্য।"

৫. আপনার করণীয়

আপনার ক্ষেত্রে করণীয় হলো:

১. সততা ও স্বচ্ছতা: আপনার মা ও চাচিকে জানান যে, আপনার প্রথম অর্ডারের কারণে ২৫০৳ ডিসকাউন্ট পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে প্রকৃত মূল্য (যা আপনি পরিশোধ করেছেন) নিন।

২. ডিসকাউন্টের সুবিধা: যেহেতু ডিসকাউন্টটি আপনার অ্যাকাউন্টের কারণে হয়েছে, আপনি চাইলে তাদের সাথে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন। তবে ইসলামী নীতি হলো, তাদের পক্ষ থেকে ক্রয় করলে ডিসকাউন্টের সুবিধা তাদেরই দেওয়া উচিত।

৩. উত্তম পন্থা: সবচেয়ে উত্তম হলো, আপনি তাদের কাছ থেকে ডিসকাউন্টকৃত মূল্যই নেওয়া (যেমন: ৩টি বোতলের মূল্য ১০০০৳ হলে ডিসকাউন্টের পর ৭৫০৳ নেওয়া)। কারণ আপনি তাদের পক্ষ থেকে ক্রয় করেছেন এবং ডিসকাউন্টটি পণ্যের মূল্যের অংশ।

৬. অতিরিক্ত নোট

  • যদি আপনি নিজের অর্থ দিয়ে অগ্রিম পরিশোধ করে থাকেন এবং পরে তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন, তাহলে আপনি ডিসকাউন্টের সুবিধা রাখতে পারেন, তবে উত্তম হলো তাদের জানিয়ে দেওয়া।
  • যদি তারা আপনাকে সম্পূর্ণ মূল্য দেওয়ার কথা বলে থাকে (ডিসকাউন্টের কথা না জেনে), তাহলে আপনার উচিত তাদের জানিয়ে দেওয়া এবং ডিসকাউন্টকৃত মূল্য নেওয়া।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার মা ও চাচির কাছ থেকে ২৫০৳ নেওয়া উচিত নয়। বরং তাদের কাছ থেকে ডিসকাউন্টকৃত মূল্যই নেওয়া উচিত। কারণ:

১. আপনি তাদের পক্ষ থেকে ক্রয় করেছেন, তাই ডিসকাউন্টের সুবিধা তাদেরই প্রাপ্য। ২. ইসলাম সততা ও আমানতদারিতার নির্দেশ দেয়। ৩. পরিবারের সদস্যদের সাথে লেনদেনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যাতে সম্পর্কের অবনতি না ঘটে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সততা ও আমানতদারিতার সাথে জীবনযাপন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.