হানাফি মাজহাবে বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিডিং করানোর সময় সীমা কত বছর?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
ব্রেস্টফিডিং এর সময়টা কি চন্দ্র বছরের হিসেবে হবে নাকি সৌর বছরের হিসেবে? আমার আপুর ছোট ছেলে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ১৯ তারিখে জন্মগ্রহণ করেছে। এখন তার দুই বছর পূর্ন হয়েছে। কিন্তু তাকে কোনোভাবেই ব্রেস্টফিডিং থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। এখন নির্ধারিত সময় সীমা অতিক্রম করার পর ব্রেস্টফিডিং করালে কি গুনাহ হবে?
Answer
ব্রেস্টফিডিং এর সময় সীমা সম্পর্কে ইসলামি বিধান
প্রশ্নের উত্তর
ব্রেস্টফিডিং (স্তন্যপান) এর সময় সীমা সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
কুরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
"মাতাগণ তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর স্তন্যপান করাবে, যারা স্তন্যপানের সময় পূর্ণ করতে চায়।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:
"আর আমরা মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরে হয়।" (সূরা লুকমান: ১৪)
হানাফি মাযহাবের মত
হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী:
১. পূর্ণ স্তন্যপানের সময়কাল: দুই বছর (২৪ মাস)। ২. সর্বোচ্চ সীমা: দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্তন্যপান করানো জায়েয নেই, যদি না শিশুর স্বাস্থ্যগত কারণে প্রয়োজন হয়। ৩. ন্যূনতম সীমা: কোনো বিশেষ কারণে (যেমন মায়ের অসুস্থতা) কম সময়েও দুধ ছাড়ানো যেতে পারে।
চন্দ্র বছর না সৌর বছর?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সময় গণনার ক্ষেত্রে চন্দ্র বছর (Islamic lunar year) গণনা করা হবে। কারণ ইসলামি শরিয়তের সকল বিধান চন্দ্র বছরের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।
আপনার আপুর সন্তানের ক্ষেত্রে হিসাব
আপনার আপুর ছেলের জন্ম ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট। এখন ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট। সৌর বছরের হিসেবে তার বয়স ২ বছর পূর্ণ হয়েছে।
কিন্তু চন্দ্র বছরের হিসেবে হিসাব করলে:
- ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়কাল
- এই সময়ে চন্দ্র মাস গণনা করলে দেখা যাবে, চন্দ্র বছরের হিসেবে এখনও ২ বছর পূর্ণ হয়নি (প্রায় ১ বছর ১১ মাস হবে)
অর্থাৎ, চন্দ্র বছরের হিসেবে এখনও দুই বছর পূর্ণ হয়নি, তাই এই সময় পর্যন্ত ব্রেস্টফিডিং করানো জায়েয আছে।
দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর করালে কি গুনাহ হবে?
দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর সাধারণভাবে ব্রেস্টফিডিং করানো জায়েজ হবেনা। তবে ওযর বশত সর্বোচ্চ আরো ৬ মাস ব্রেস্টফিডিং করানোর অনুমতি কিছু ইসলামী স্কলারদের মতে আছে।
১. শিশুর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন: যদি শিশুর শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মায়ের দুধের বিশেষ প্রয়োজন হয় এবং চিকিৎসক বাধ্যতামূলক পরামর্শ দেন, তাহলে করানো যেতে পারে। ২. শিশুর অসুস্থতা: যদি শিশু অসুস্থ থাকে এবং দুধ ছাড়ানো তার জন্য ক্ষতিকর হয়।
তবে সাধারণভাবে, দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর ব্রেস্টফিডিং করানো থেকে বিরত থাকা উচিত। শিশুকে ধীরে ধীরে দুধ ছাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।