হায়েজ হলে কুরআন শব্দে শব্দে ভেঙে ভেঙে পড়া কি জায়েজ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
হায়েজ অবস্থায় কুরআন শব্দে শব্দে ভেঙে পড়ার বিধান
উত্তর
হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় কিছু বিস্তারিত নিয়ম রয়েছে।
শব্দে শব্দে ভেঙে পড়া সম্পর্কে ফিকহী বিধান
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, হায়েজ অবস্থায় কুরআনের কোনো আয়াত সম্পূর্ণরূপে তিলাওয়াত করা জায়েয নয়। তবে নিম্নোক্ত শর্তে শব্দে শব্দে পড়া সম্পর্কে আলেমগণ মত দিয়েছেন:
১. শব্দে শব্দে ভেঙে পড়া: যদি কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষার উদ্দেশ্যে কুরআনের শব্দগুলো আলাদা আলাদা করে পড়ে (যেমন: "আল-হামদু", "লিল্লাহি", "রাব্বিল", "আলামীন") এবং প্রতিটি শব্দের মধ্যে এতটুকু বিরতি দেয় যাতে শব্দগুলো মিলে একটি পূর্ণ আয়াত না হয়ে যায়, তাহলে তা তিলাওয়াত হিসেবে গণ্য হবে না। এ অবস্থায় পড়া জায়েয হওয়ার কথা কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন।
২. ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত: ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, হায়েজ অবস্থায় এক শব্দের কম পড়া জায়েয। তবে এক শব্দ বা তার বেশি পড়া নিষিদ্ধ।
৩. ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত: তাঁদের মতে, অর্ধেক আয়াতের কম পড়া জায়েয। তবে অর্ধেক আয়াত বা তার বেশি পড়া নিষিদ্ধ।
আয়াতের অর্থের পরিবর্তন প্রসঙ্গে
শব্দে শব্দে ভেঙে পড়লে যদি অর্থের পরিবর্তন না হয় এবং পড়ার উদ্দেশ্য শিক্ষা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ সমস্যা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে:
- শব্দগুলোর মধ্যে এমন বিরতি দিতে হবে যাতে তা তিলাওয়াতের রূপ না নেয়
- পড়ার নিয়্যত তিলাওয়াতের না হয়ে শিক্ষার হতে হবে
- পূর্ণ আয়াত একসাথে পড়া যাবে না
শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ সমাধান
ক্লাসের পড়ার প্রয়োজনীয়তার কারণে যদি কুরআন পড়তে হয়, তাহলে:
১. মুশাফ স্পর্শ না করে মুখস্থ থেকে পড়া এবং শব্দে শব্দে ভেঙে ভেঙে পড়া ২. শব্দে শব্দে ভেঙে পড়া (প্রতি শব্দের পর বিরতি দিয়ে) ৩. অর্থ বা অনুবাদ পড়া - যা কুরআন তিলাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় ৪. দুআ বা যিকিরের নিয়তে পড়া
গুরুত্বপূর্ণ নোট
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, হায়েজ অবস্থায় কুরআনের কোনো আয়াত সম্পূর্ণরূপে তিলাওয়াত করা জায়েয নয়। তবে শব্দে শব্দে পড়া সম্পর্কে আলেমগণ মত দিয়েছেন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।