নন-মাহরাম আত্মীয়কে মোটরসাইকেলে পৌঁছে দেওয়া কি জায়েয?
Halal and Haram · Hanafi
Question
প্রয়োজনে কোনো নন- মাহরাম আত্নীয় কে মটোরসাইকেল এ কোথাও পৌঁছে দেয়া যাবে?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
উত্তর: আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো—না, প্রয়োজনে কোনো নন-মাহরাম আত্মীয়কে (যেমন: চাচাতো/মামাতো/খালাতো ভাই-বোন, ফুফাতো ভাই-বোন ইত্যাদি) মোটরসাইকেলে কোথাও পৌঁছে দেওয়া জায়েয নয়। এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম) কাজ।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
১. পর্দার বিধান: ইসলামে নন-মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো প্রকার গোপনীয়তা, একান্তে মিলন (খালওয়াত) বা এমন অবস্থায় থাকা যা ফিতনার কারণ হতে পারে, তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মোটরসাইকেলে পিছনে বসা এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের স্পর্শ হওয়া প্রায় অনিবার্য এবং এটি সম্পূর্ণ খালওয়াতের (একান্তে মিলনের) পর্যায়ভুক্ত।
- কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২)
- এই আয়াতের নির্দেশনা হলো, যে সকল কাজ ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করে (যেমন: নন-মাহরামের সাথে একান্তে থাকা, স্পর্শ করা, কু-দৃষ্টি ইত্যাদি) সেগুলোর কাছেও যাওয়া যাবে না।
২. হাদীসের দলিল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সাবধান! কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে (খালওয়াত) না মিলে। কারণ, তৃতীয় জন তখন শয়তান ছাড়া আর কেউ থাকে না।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩০০৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৩৪১)
মোটরসাইকেলে নন-মাহরাম নারীকে পিছনে বসিয়ে একা রাস্তায় চলা সম্পূর্ণরূপে এই খালওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। শুধু আত্মীয় হওয়ার কারণে (যতক্ষণ না সে মাহরাম) এই বিধান শিথিল হয় না।
৩. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) তে উল্লেখ আছে, নারী-পুরুষের মধ্যে পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করা ফরজ এবং এমন কোনো কাজ করা জায়েয নয় যা ফিতনার কারণ হয়।
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) -এ স্পষ্ট বলা হয়েছে, নন-মাহরাম নারীর সাথে একান্তে থাকা, স্পর্শ করা বা এমন কোনো কাজ যা শরীরের স্পর্শ ঘটায় তা হারাম। (রদ্দুল মুহতার, ৬তম খণ্ড, পর্দার অধ্যায়)
- বাহিশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী) -এ পর্দার গুরুত্ব বর্ণনা করে বলা হয়েছে, নন-মাহরামের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, কথা বলা এবং একত্রে চলাফেরা করা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক।
ব্যতিক্রম ও বিকল্প ব্যবস্থা:
- যদি চরম প্রয়োজনে (যেমন: রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, প্রাণনাশের আশঙ্কা) কোনো নন-মাহরামকে নিতে হয়, তাহলে অবশ্যই মাহরাম কেউ সাথে থাকতে হবে (অর্থাৎ, তিনজন বা ততোধিক ব্যক্তি একসাথে যেতে হবে, যাতে খালওয়াত না হয়)। তবে শরীরের স্পর্শ এড়ানোর জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে।
- উত্তম পদ্ধতি হলো, নারীদের জন্য মাহরাম পুরুষ (বাবা, ভাই, চাচা, দাদা ইত্যাদি) দিয়ে এই কাজটি করানো। যদি সম্ভব হয়, তাহলে রিকশা, সিএনজি বা গাড়ির মতো এমন ব্যবস্থা করা উচিত যেখানে শরীর স্পর্শের আশঙ্কা নেই এবং ড্রাইভারের সাথে পর্দার ব্যবস্থা থাকে (যেমন: গাড়ির পেছনের সিটে বসা)।
সারকথা: নন-মাহরাম আত্মীয়কে মোটরসাইকেলে পিছনে বসিয়ে পৌঁছে দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ। এটি পর্দার বিধান লঙ্ঘন এবং শয়তানের প্ররোচনার কারণ। তাই এই কাজ থেকে বিরত থাকা এবং বিকল্প ব্যবস্থা করা আপনার জন্য আবশ্যক।
এক্ষেত্রে একটি সুরত আপনি অবলম্বন করতে পারেন, তা হল মোটরসাইকেলে আপনার পিছনে আপনার স্ত্রী বসবে, তার পিছনে সেই নন মাহরাম আত্মীয় পূর্ণ পর্দার সাথে বসবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে পর্দার সঠিক বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)