টয়লেটের বাইরের দেওয়ালে, ময়লার জায়গায় বা দরজার উপরে আল্লাহ ও রাসূলের নাম রাখার হুকুম কী?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।আমাদের ম্যাচ বাসার ময়লা রাখার যায়গায় পিছনে একটা পোস্টার আছে সেখানে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লিখা আছে। সেটা সেখানে আগে থেকে ছিলো আমি উঠার আগে আমি যদি না সড়াই গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কিনা?
৩।শিড়ি দিয়ে উঠার সময় দেখি ফ্ল্যাটের দরজার উপরে সিমেন্ট বালু দিয়ে আল্লাহু আরবিতে লেখা শিড়ি দিয়ে উঠতে গেলে তো নিচে পরবে। অবশ্য পারা লাগে না সেটাতো দরজার উপরে থাকে। এভাবে উঠলে সেই বাসাতে থাকলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কিনা?
Answer
উত্তর:
প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়ার আগে একটি মূলনীতি জেনে নেওয়া জরুরি – আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাম বা পবিত্র ইসলামি বাণী এমন জায়গায় রাখা জায়েয নয়, যেখানে সেগুলোর অসম্মান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যেমন: টয়লেটের ভেতর, আবর্জনার স্থান, এমন জায়গা যেখানে মানুষ পায়ে হেঁটে চলে বা ময়লা পড়ে)। এটি ইমান নষ্ট করার কারণ না হলেও গুনাহ ও嚴ق (মাকরূহ তাহরীমী) হয়। নিম্নে প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেওয়া হলো।
১. টয়লেট/বাথরুমের বাইরের দেওয়ালে আল্লাহ, রাসূল (সা.) বা ইসলামি কিছু রাখা
উত্তর:
টয়লেট বা বাথরুমের ভেতরের দেওয়ালে আল্লাহ তাআলা বা রাসূল (সা.)-এর নাম রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (হারাম) এবং তা ইমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বাইরের দেওয়াল যদি সরাসরি টয়লেটের দরজার পাশে না হয় এবং সেখানে পবিত্রতা বজায় থাকে, তাহলে রাখা জায়েয আছে, তবে উত্তম হলো না রাখা। যদি এমন জায়গা হয় যেখানে পানি, ময়লা বা অশুচি জিনিস লাগার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে রাখা মাকরূহ তাহরীমী এবং গুনাহ হবে। ইমানের সমস্যা হবে না যতক্ষণ না কেউ এটিকে হালকা মনে করে বা অসম্মান করে।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফি মুজতাহিদগণের মতে, এমন জায়গায় পবিত্র বাণী লেখা থেকে বিরত থাকা উচিত (রদ্দুল মুহতার, ১/৫২১; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩১২)।
২. ময়লা রাখার জায়গায় বিসমিল্লাহ লেখা পোস্টার আগে থেকে থাকলে তা না সরানো
উত্তর:
এটি অত্যন্ত অসম্মানের বিষয়। আপনার যদি পোস্টারটি সরানোর সামর্থ্য থাকে (যেমন: আপনি যদি বাসার মালিক বা দায়িত্বশীল হন অথবা অনুমতি পেয়ে থাকেন), তবে অবশ্যই তা সরিয়ে ফেলা ফরজ। না সরালে আপনি গুনাহগার হবেন। যদি সরাতে অক্ষম হন (যেমন: এটি অন্য কারো সম্পত্তি এবং সরাতে দিচ্ছে না), তাহলে আপনি দায়ী নন, তবে আপনার উচিত যথাসম্ভব চেষ্টা করা। ইমানের সমস্যা তখনই হবে যদি আপনি মনে করেন যে এটা ঠিক আছে এবং কোনো অসম্মান নেই। ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) ফাতাওয়া শামীতে বলেন, “আল্লাহর নাম অশুচি স্থানে পড়ে থাকলে যে ব্যক্তি তা উঠাতে সক্ষম, তার জন্য তা উঠানো ওয়াজিব” (রদ্দুল মুহতার, ১/৬৫০)।
৩. ফ্ল্যাটের দরজার উপরে সিমেন্টে ‘আল্লাহ’ লেখা থাকলে এবং সেটার নিচ দিয়ে উঠলে গুনাহ হবে কি?
উত্তর:
দরজার উপরে আল্লাহ তাআলার নাম লেখা থাকলে এবং সেটির নিচ দিয়ে লোকজনের যাতায়াত হয় – বিশেষ করে যদি সেটা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পথে পড়ে (যেখানে পায়ে ধুলা-ময়লা লাগে), তাহলে এটি মাকরূহ তাহরীমী। কারণ, সাধারণত মানুষ জুতা বা অশুচি অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে, যা পবিত্র নামের অসম্মানের কারণ। আপনি যদি ওই ফ্ল্যাটে থাকেন, তাহলে আপনার দায়িত্ব হলো লেখাটি মুছে ফেলা বা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে আপনি যতটুকু পারবেন, সতর্ক থাকবেন – যেমন: উঠার সময় নাম না বলা বা পা দিয়ে না মাড়ানো। কিন্তু যদি আপনি সাধারণভাবে উঠানামা করতে থাকেন এবং এটি প্রতিরোধ না করেন, তাহলে গুনাহ হবে। ইমানের সমস্যা হবে না, তবে এভাবে থাকা অনুচিত।
আল-হিদায়া ও ফাতাওয়া আলমগিরীতে উল্লেখ আছে, যে স্থানে মানুষের চলাচল হয় বা অপবিত্রতা লেগেছে, সেখানে পবিত্র নাম লেখা নাজায়েয (আল-হিদায়া, ৪/৩৯২; ফাতাওয়া আলমগিরী, ৫/৩১২)।
উপসংহার ও পরামর্শ:
- যদি সম্ভব হয়, উল্লেখিত সব স্থান থেকে আল্লাহ ও রাসূলের নাম এবং পবিত্র বাণী সরিয়ে ফেলুন বা ঢেকে দিন।
- যদি সরানো আপনার পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে অন্য কারো মাধ্যমে সরানোর ব্যবস্থা করুন বা মালিককে অনুরোধ করুন।
- ইমান রক্ষার জন্য সর্বাবস্থায় পবিত্র বাণীর প্রতি সম্মান বজায় রাখা ফরজ। অজ্ঞতা বা উদাসীনতার কারণে যদি কোনো গুনাহ হয়, তবে তওবা ও ইস্তিগফার করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যথাযথ সম্মান ও আদব রক্ষা করার তাওফিক দিন।