রাগের সময় ভুলবশত "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলায় ঈমান বা নিকাহের ক্ষতি হয়েছে কিনা

Marriage and Divorce · Shafei

Question No: 4277
Questioner: Maisha Alam
Question Asked: 21 Aug 2026, 10:45 PM
Reviewed & Published: 21 Aug 2026, 11:12 PM
Views: 26
Tokens: 6,278
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,মুহতারাম, আমার একটি জরুরি মাসআলা জানার ছিল। কিছুদিন আগে আমি আমার স্ত্রীর ওপর ভীষণ রাগান্বিত ছিলাম। ওই অবস্থায় আমার মুখ থেকে "আস্তাগফিরুল্লাহ" (কাফ দিয়ে) শব্দটি বের হয়ে যায়।আমার যতটুকু মনে পড়ে, আমার মনে ইসলাম ধর্ম থেকে বের হওয়ার বা কুফরি করার বিন্দুমাত্র কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছিল না। তবে রাগের মাথায় এটি কি আমি সম্পূর্ণ ভুলবশত বলে ফেলেছি, নাকি ইচ্ছাকৃত মুখ থেকে বের হয়েছে—তা আমার এখন নিশ্চিতভাবে মনে পড়ছে না। স্ত্রীর ওপর রাগ থাকায় বৈবাহিক সম্পর্ক ভাঙার কোনো নিয়ত অবচেতনভাবে ছিল কিনা, তাও আমার স্পষ্ট মনে নেই; তবে মুখ দিয়ে তালাকের কোনো শব্দ আমি উচ্চারণ করিনি।পরবর্তীতে এই ভুল উচ্চারণের কারণে আমার মনে চরম ভয় ও খটকা তৈরি হয় যে—আমি কাফের হয়ে গেলাম কিনা বা আমার নিকাহর (বিয়ের) কোনো ক্ষতি হলো কিনা। এই ভয়ের কারণে আমি অন্য একজনের কাছে মাসআলা জানার জন্য প্রশ্ন করেছিলাম যে, "কেউ কাফের হলে তার নিকাহর ক্ষতি হয় কিনা?" এখন আমার মনে ভয় হচ্ছে, এই প্রশ্নটি করার কারণে আবার আমার ঈমানের বা বিয়ের কোনো ক্ষতি হলো কিনা।এই পরিস্থিতিতে হুজুরের কাছে আমার প্রশ্নগুলো হলো:
১.আমার ইমান এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো সমস্যা হয়েছে কি?
২. "কেউ কাফের হলে নিকাহর ক্ষতি হয় কিনা?"—এই প্রশ্নটি করার কারণে কি ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়েছে?
৩. বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার শরয়ী করণীয় কী?
দয়া করে কুরআন-হাদিসের আলোকে সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

Answer

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই/বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার উদ্বেগ ও ভয়টি স্বাভাবিক, তবে আশা করি নিম্নোক্ত উত্তরগুলো পড়ার পর আপনার মনে প্রশান্তি আসবে।

১. আপনার ঈমান ও বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো সমস্যা হয়েছে কি?

উত্তর: না, ইনশাআল্লাহ আপনার ঈমান ও বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ:

  • আপনি নিজেই বলেছেন যে, ইসলাম থেকে বের হওয়ার বা কুফরি করার কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য আপনার ছিল না।
  • "আস্তাগফিরুল্লাহ" শব্দটি মূলত একটি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) এর শব্দ, যা কুফরি শব্দ নয়। এমনকি রাগের অবস্থায় উচ্চারিত হলেও এটি কুফরি হিসেবে গণ্য হবে না।
  • ইমাম নববী (রহ.) তাঁর আল-মাজমু' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কুফরি শব্দ উচ্চারণে দোষী হওয়ার জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) শর্ত। যেহেতু আপনার কোনো কুফরি নিয়ত ছিল না, তাই আপনার ঈমান অক্ষত রয়েছে।

কুরআনের আলোকে: আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ "তোমাদের কোনো দোষ নেই সেই বিষয়ে যা তোমরা ভুল করে করে ফেলেছ; কিন্তু দোষ রয়েছে যা তোমাদের অন্তর ইচ্ছাকৃতভাবে করে।" (সূরা আল-আহযাব: ৫)

হাদিসের আলোকে: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যা করতে বাধ্য করা হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (ইবনে মাজাহ: ২০৪৫, সহীহ)

২. "কেউ কাফের হলে নিকাহর ক্ষতি হয় কিনা?" — এই প্রশ্নটি করার কারণে কি ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়েছে?

উত্তর: না, এই প্রশ্ন করার কারণে আপনার ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং এটি ছিল একটি ধর্মীয় মাসআলা জানার আগ্রহ, যা প্রশংসনীয়। ইসলামে জ্ঞানার্জন ও মাসআলা জানা একটি ইবাদত। প্রশ্ন করা কখনো ঈমান নষ্ট করে না, বরং দ্বীন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন:

طَلَبُ الْعِلْمِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةِ النَّافِلَةِ "জ্ঞান অর্জন করা নফল নামাজের চেয়েও উত্তম।"

৩. বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার শরয়ী করণীয় কী?

উত্তর: আপনার করণীয় নিম্নরূপ:

১. আল্লাহর কাছে তওবা করুন: রাগের সময় ভুলবশত যে শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।

২. রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন: রাসূলুল্লাহ (সা.) রাগ নিয়ন্ত্রণের উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

لَا تَغْضَبْ "রাগ করো না।" (বুখারী: ৬১১৬)

৩. দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসী হোন: আপনার ঈমান ও নিকাহ অক্ষত রয়েছে। কোনো পুনরায় নিকাহ বা নতুন কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই।

৪. ওয়াসওয়াসা (মনের খটকা) থেকে সতর্ক থাকুন: শয়তান প্রায়ই মুমিনদের মনে এমন খটকা সৃষ্টি করে। আপনি যখন নিশ্চিত যে আপনার কুফরি নিয়ত ছিল না, তখন এই ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন।

ইমাম নববী (রহ.) রিয়াদুস সালেহীন-এ উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায় হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং এ বিষয়ে চিন্তা না করা।

৫. নিয়মিত ইস্তিগফার করুন: "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলা একটি ভালো অভ্যাস। এটি আপনার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

সংক্ষিপ্ত উপসংহার

  • আপনার ঈমান ও নিকাহ সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
  • প্রশ্ন করার কারণে কোনো ক্ষতি হয়নি।
  • আপনার করণীয় হলো আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা।
  • ভবিষ্যতে রাগের সময় "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ার অভ্যাস করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.