আসরের নামাজের সময়, ওযু ভঙ্গ, সালাম ফেরানোর পর নামাজে ফিরে আসা নিয়ে প্রশ্ন।
Salah-Prayer · Hanafi
Question
২// আরেকদিন আসরের নামাজে আমি তাশাহুদ পড়ে পুরোপুরি সালাম ফিরাই নি,,অর্ধেক ফিরিয়ে আমার মনে পড়ে আমি দরূদ শরীফ,দোয়া মাসুরা পড়িনি,,সাথে সাথে আবার আমি মাথা ঘুরিয়ে নামাজ পূর্ণ করে সালাম ফিরাই,, আমার নামাজ আদায় হয়েছে?
Answer
আসরের নামাজের সময় ও সালাম সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ১: আসরের নামাজের সময় শেষ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে
উত্তর: আপনার নামাজ আদায় হয়ে গেছে, কাজা পড়তে হবে না। কারণ, হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, আসরের নামাজের সময় মাগরিবের আজানের পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। মাগরিবের আজান হওয়ার পূর্বেই আপনি নামাজ শেষ করেছেন, তাই আপনার নামাজ আদায় হয়ে গেছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নামাজের মধ্যে ওযু ভঙ্গ হলে করণীয় কী?
হানাফি ফিকহের বিধান:
১. নামাজের মধ্যে ওযু ভঙ্গ হলে, ব্যক্তি নামাজ থেকে চলে যাবে, পবিত্র হয়ে নতুন করে ওযু করে নামাজ শুরু করবে। (আগের নামাজের সাথে মিলিয়ে নয়, বরং নতুন করে শুরু করবে)
২. তবে যদি নামাজের শেষ বৈঠকে (ক্বা'দায়ে আখিরাতে) তাশাহহুদ পড়ার পর ওযু ভঙ্গ হয়, তাহলে ওযু ভঙ্গের কারণে নামাজ ভঙ্গ হবে না, বরং সালাম ফিরিয়ে নামাজ সম্পন্ন করা যাবে।
দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (১/৪৫৩)-এ উল্লেখ আছে, নামাজের মধ্যে ওযু ভঙ্গ হলে নামাজ বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন করে নামাজ শুরু করতে হয়।
- আল-হিদায়া (১/৫২)-তে বলা হয়েছে, নামাজের মধ্যে হাদাস (ওযু ভঙ্গ) হলে নামাজ ফাসিদ হয়ে যায়।
আপনার ক্ষেত্রে: আপনি দুই রাকাত পড়ার পর ওযু ভঙ্গ হয়েছে, তাই আপনার প্রথম দুই রাকাত বাতিল হয়ে গেছে। এরপর আপনি পবিত্র হয়ে নতুন করে নামাজ শুরু করেছেন এবং মাগরিবের আজানের আগেই শেষ করেছেন। যেহেতু আসরের সময় মাগরিবের আজান পর্যন্ত থাকে, তাই আপনার নামাজ আদায় হয়েছে।
তবে সতর্কতা: ভবিষ্যতে সময় শেষ হওয়ার আগেই নামাজ শুরু করার চেষ্টা করুন, যাতে সময়ের মধ্যে নামাজ শেষ করতে পারেন। যদি সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ওযু ভঙ্গের পর নতুন করে নামাজ শুরু করার পরিবর্তে, সম্ভব হলে সময়ের মধ্যে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন।
প্রশ্ন ২: সালাম ফিরানোর পর মনে পড়া প্রসঙ্গে
উত্তর: আপনার নামাজ আদায় হয়ে গেছে। তবে এখানে কিছু বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
বিষয়টি বিশ্লেষণ:
আপনি তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাতে শুরু করেছেন। অর্ধেক সালাম ফেরানোর পর মনে পড়েছে যে, আপনি দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়েননি। এরপর আপনি আবার মাথা ঘুরিয়ে নামাজ পূর্ণ করেছেন এবং সালাম ফিরিয়েছেন।
হানাফি ফিকহের বিধান:
১. দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়া: হানাফি মাযহাবে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া ফরজ/ওয়াজিব। দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়া সুন্নত। তবে দরূদ শরীফ পড়া ওয়াজিব বলেও কোনো কোনো বর্ণনায় আছে।
২. সালাম ফেরানো: সালাম ফেরানো ওয়াজিব। ডান দিকে সালাম ফেরানো ওয়াজিব, বাম দিকে সালাম ফেরানো সুন্নত।
৩. সালাম ফেরানোর পর নামাজে ফিরে আসা: যদি কেউ সালাম ফেরানোর পর কোনো কাজ করে ফেলে (যেমন কথা বলা, চলাফেরা করা), তাহলে নামাজ বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু যদি সালাম ফেরানোর পর সাথে সাথে (কোনো কাজ না করে) মনে পড়ে যে কিছু বাকি আছে, তাহলে সে নামাজে ফিরে আসতে পারবে এবং বাকি অংশ পূরণ করে আবার সালাম ফেরাবে।
আপনার ক্ষেত্রে: আপনি অর্ধেক সালাম ফেরানোর পর (ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর) মনে পড়েছে। যেহেতু আপনি কোনো কাজ করেননি এবং সাথে সাথে নামাজে ফিরে এসেছেন, তাই আপনার নামাজ আদায় হয়ে গেছে। তবে আপনি দরূদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা না পড়ে সালাম ফেরানোর কারণে যদি দরূদ শরীফ ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে সিজদায়ে সাহু দিতে হতো। কিন্তু যেহেতু আপনি সাথে সাথে ফিরে এসে সেগুলো পড়ে নিয়েছেন, তাই কোনো সমস্যা নেই।
তবে একটি বিষয়: আপনি যদি ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর বাম দিকে সালাম ফেরানোর আগেই মনে করে থাকেন, তাহলে তো কোনো সমস্যাই নেই। কারণ ডান দিকে সালাম ফেরানোই ওয়াজিব, আর বাম দিকে সালাম ফেরানো সুন্নত। আপনি ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর বাম দিকে ফেরার আগেই মনে পড়েছে, তাই আপনি নামাজে ফিরে এসে দরূদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে নিয়েছেন এবং আবার সালাম ফেরিয়েছেন—এতে কোনো সমস্যা নেই।
রদ্দুল মুহতার (১/৫৬০)-এ উল্লেখ আছে: "যদি সালাম ফেরানোর পর কোনো দুনিয়াবি কাজ না করে থাকে, তাহলে সে নামাজে ফিরে আসতে পারবে এবং যা বাকি আছে তা পূরণ করতে পারবে।"
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
প্রশ্ন ১: আপনার নামাজ আদায় হয়েছে, কাজা পড়তে হবে না। কারণ মাগরিবের আজানের পূর্বেই আপনি নামাজ শেষ করেছেন এবং আসরের সময় মাগরিবের আজান পর্যন্ত থাকে।
প্রশ্ন ২: আপনার নামাজ আদায় হয়েছে। কারণ আপনি কোনো দুনিয়াবি কাজ না করেই সাথে সাথে নামাজে ফিরে এসেছেন এবং বাকি অংশ পূরণ করেছেন।