উমরাহ-র ইহরাম না বেধে মক্কায় গেলে কোন মিকাতে বাধবো এখন?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
এককথায়, আমি উমরাহের নিয়তেই এসেছি তবে আমি হায়েজ অবস্থায় ছিলাম বলে ইহরাম বাধবো কি-না এটা নিয়ে কনফিউজড ছিলাম তাই আমি ইহরাম বাঁধিনি। এখন আমি কোথায় ইহরাম বাধবো? আয়েশা মসজিদে কি ইহরাম বাঁধতে পারবো? নাকি অন্য মূল মিকাতগুলোর একটিতে যেতে হবে?
Answer
উমরাহর ইহরাম কোথায় বাঁধবেন — হায়েজ অবস্থায় মিকাত অতিক্রমের বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনি হায়েজ অবস্থায় উমরাহর নিয়তে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু হায়েজ থাকার কারণে ইহরাম বাঁধা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন এবং ইহরাম বাঁধেননি। প্লেনে মিকাত অতিক্রমের সময়ও আপনাকে জানানো হয়নি। এখন জানতে চান—কোথায় ইহরাম বাঁধবেন? আয়েশা মসজিদে (তানঈমে) গিয়ে ইহরাম বাঁধতে পারবেন কি না, নাকি মূল মিকাতগুলোর একটিতে যেতে হবে?
উত্তর
১. হায়েজ অবস্থায় ইহরাম বাঁধার বিধান
হায়েজ অবস্থায় ইহরাম বাঁধা সম্পূর্ণ বৈধ। হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় নারী ইহরাম বাঁধতে পারেন। ইহরামের জন্য পবিত্রতা (তাহারাত) শর্ত নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মহিলারা হায়েজ অবস্থায়ও ইহরাম বাঁধতেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ তা থেকে নিষেধ করেননি।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ، فَحِضْتُ، فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا أَبْكِي، فَقَالَ: «مَا لَكِ؟» فَقُلْتُ: حِضْتُ، فَقَالَ: «إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَاغْتَسِلِي ثُمَّ أَهِلِّي بِالْحَجِّ»
হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বিদায় হজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমি উমরাহর ইহরাম বাঁধলাম। অতঃপর আমার হায়েজ শুরু হলো। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার কাছে এলেন, আমি কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: আমার হায়েজ শুরু হয়েছে। তিনি বললেন: এটা এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ আদম কন্যাদের উপর লিখে দিয়েছেন। তুমি গোসল করো এবং হজের ইহরাম বাঁধো। (সহীহ বুখারী: ৩০৫, সহীহ মুসলিম: ১২১১)
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত যে, হায়েজ অবস্থায় ইহরাম বাঁধা বৈধ এবং তা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তায়েফ বা অন্য কোনো মিকাতে গিয়ে ইহরাম বেধে আসতে হবে। অন্যথায় দম আবশ্যক হবে।
মসজিদে আঈশা থেকে ইহরাম যথেষ্ট নয়। এ সফরের ২য় ও পরবর্তী উমরাহ এর ক্ষেত্রে মসজিদে আঈশা থেকে ইহরাম বাধতে পারবেন। তবে ১ম উমরাহ এর ইহরাম নয়।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ، ثُمَّ قَالَ: «مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيُهْلِلْ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ، ثُمَّ لَا يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا» قَالَتْ: فَحِضْتُ، فَلَمَّا دَخَلْتُ مَكَّةَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي» قَالَتْ: فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا يَرْجِعُ النَّاسُ إِلَّا بِحَجَّتَيْنِ وَأَرْجِعُ بِحَجَّةٍ وَاحِدَةٍ؟ قَالَ: «إِذَا أَتَيْنَا مِنًى فَأَقِيمِي بِتَنْعِيمٍ فَأَهِلِّي بِعُمْرَةٍ» فَفَعَلْتُ
হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বিদায় হজে বের হলাম এবং উমরাহর ইহরাম বাঁধলাম। ... আমি হায়েজ অবস্থায় ছিলাম। যখন আমি মক্কায় প্রবেশ করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন: হাজীরা যা করে তুমি তা করো, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ করো না। ... অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন: যখন আমরা মিনায় পৌঁছব, তুমি তানঈমে (আয়েশা মসজিদ) গিয়ে উমরাহর ইহরাম বাঁধো। আমি তাই করলাম। (সহীহ বুখারী: ১৫৬১, সহীহ মুসলিম: ১২১১)
وَمَنْ جَاوَزَ الْمِيقَاتَ بِغَيْرِ إِحْرَامٍ ثُمَّ أَحْرَمَ مِنْ دُونِهِ، فَعَلَيْهِ الدَّمُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ
ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মতে, যে ব্যক্তি ইহরাম না বেঁধে মিকাত অতিক্রম করে এবং মিকাতের ভেতরে (হিল্ল এলাকায়) গিয়ে ইহরাম বাঁধে, তার উপর দম (কুরবানি) ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/১৮৮; আল-মাবসুত, ৪/১৭০)
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।