যোহরের কাযা নামায কি আসরের নামাযের আগে আদায় করা যাবে ওই ওয়াক্তে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
যোহরের কাযা নামায আসরের আগে পড়ার বিধান
উত্তর
আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: হ্যাঁ, আপনি আসরের নামাযের আগে যোহরের কাযা নামায পড়তে পারবেন। এটিই উত্তম পদ্ধতি।
আর আপনি যদি সাহেবে তারতিব হোন, অর্থাৎ আপনার জীবনে যদি পাঁচ ওয়াক্তের বেশি নামাজ কাজা না থাকে, সেক্ষেত্রে আসরের আগে যোহরের নামাজ এর কাজা আদায় করা আপনার উপর আবশ্যক।
১. কুরআন ও হাদীসের আলোকে
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا "নিশ্চয়ই নামায মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরয করা হয়েছে।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)
এই আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, প্রতিটি নামাযের নিজস্ব নির্ধারিত সময় রয়েছে। তবে যে নামায নির্ধারিত সময়ে পড়া সম্ভব হয়নি, তা কাযা করা আবশ্যক।
২. হাদীসের দলিল
হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا لَا كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذَلِكَ "যে ব্যক্তি নামায ভুলে যায়, সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নেয়। এর কোনো কাফফারা নেই, তবে এটাই (আদায় করা) তার কাফফারা।" (সহীহ বুখারী: ৫৯৭, সহীহ মুসলিম: ৬৮৪)
এই হাদীসের ভিত্তিতে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সহ সকল ইমামের মতে, যে নামায কাযা হয়, তা স্মরণ হওয়া মাত্রই আদায় করা ওয়াজিব।
৩. হানাফী ফিকহের দলিল
আল-হিদায়াহ গ্রন্থে উল্লেখ আছে:
ومن فاتته صلاة فليقضها إذا ذكرها، ولا يجوز له تأخيرها عن وقت الذكر "যে ব্যক্তির নামায কাযা হয়েছে, সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা কাযা করে নেয়। স্মরণ হওয়ার পর তা বিলম্ব করা জায়েয নয়।"
রদ্দুল মুহতার (শামী) গ্রন্থে ইবনে আবিদীন (রহঃ) বলেন:
يجب قضاء الفائتة على الفور عند الذكر "স্মরণ হওয়া মাত্রই কাযা নামায আদায় করা ওয়াজিব।"