মার্কারের কালি হাতে লেগে থাকা অবস্থায় ওযু ও নামাজের বিধান সম্পর্কে জানতে চাই?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4232
Questioner: No name
Question Asked: 20 Aug 2026, 10:49 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 10:54 PM
Views: 33
Tokens: 2,624
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
উস্তাজ আমার হাতে মার্কারের কালি লেগেছিলো। আমি জানিনা সেটা ওয়াটারপ্রুফ কিনা। মার্কারের গায়ে কিছু লিখা নেই। এখন আমি ওজু করার সময় সেটা সাবান দিয়ে অনেকবার ধোয়ার চেষ্টা করি কিন্তু সেটা উঠেনি। পরে আমি নামাজ পড়ে নিই। এখন আমার নামাজ কি শুদ্ধ হবে ?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মার্কারের কালি হাতে লেগে থাকা অবস্থায় ওযু ও নামাজ আদায়ের বিষয়ে ইসলামি বিধান জানানো হলো:

মার্কারের কালি সম্পর্কে ফিকহি বিধান:

মার্কারের কালি সাধারণত এমন একটি পদার্থ যা পানিতে দ্রবণীয় নয় (ওয়াটারপ্রুফ) অথবা পানিতে সহজে না গলতে পারে। ফিকহের পরিভাষায়, যদি কোনো জিনিস শরীরে লেগে থাকে এবং তা পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা ওযুর জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হবে।

হানাফি মাযহাবের মূলনীতি:

হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (আল-হাশিয়াহ) -এ উল্লেখ আছে:

"إذا كان على العضو شيء يمنع وصول الماء إلى البشرة كالشمع والعجين ونحوهما لا يصح الوضوء حتى يزيله"

অনুবাদ: "যদি অঙ্গের উপর এমন কিছু থাকে যা পানিকে ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, যেমন মোম, আটা ইত্যাদি, তবে তা অপসারণ না করা পর্যন্ত ওযু শুদ্ধ হবে না।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৮৫)

আপনার ক্ষেত্রে বিধান:

১. যদি কালিটি ওয়াটারপ্রুফ হয় (অর্থাৎ পানি প্রবেশ করতে বাধা দেয়) এবং তা সাবান দিয়ে ধোয়ার পরও না ওঠে, তাহলে আপনার ওযু শুদ্ধ হয়নি এবং সেই ওযু দিয়ে নামাজও শুদ্ধ হয়নি। কারণ ওযুর শর্ত হলো পানি ত্বকে পৌঁছানো।

২. যদি কালিটি ওয়াটারপ্রুফ না হয় (অর্থাৎ পানি ত্বকে পৌঁছায়, শুধু রং লেগে থাকে) তাহলে আপনার ওযু ও নামাজ শুদ্ধ হয়েছে। কারণ রং লেগে থাকা পানির পৌঁছাতে বাধা নয়।

আপনার করণীয়:

যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে কালিটি ওয়াটারপ্রুফ কিনা, এবং আপনি সাবান দিয়ে অনেকবার ধোয়ার পরও তা না ওঠায় এটি ওয়াটারপ্রুফ হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি, তাই:

  • আগে পড়া নামাজগুলো পুনরায় পড়তে হবে (যেগুলো আপনি এই অবস্থায় পড়েছেন)।
  • ভবিষ্যতে ওযু করার আগে কালিটি সম্পূর্ণ অপসারণের চেষ্টা করুন। যদি সাবান দিয়ে না ওঠে, তবে অন্য কোনো উপায়ে (যেমন নেইলপলিশ রিমুভার, অ্যালকোহল, তেল ইত্যাদি) অপসারণের চেষ্টা করুন।
  • যদি কোনোভাবেই অপসারণ করা না যায় এবং তা ত্বকের সাথে এমনভাবে মিশে যায় যে পানি ত্বকে পৌঁছায়, তাহলে ওযু শুদ্ধ হবে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি:

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, ওযুর মূল উদ্দেশ্য হলো পানি দ্বারা অঙ্গ ধৌত করা। যদি কোনো প্রতিবন্ধক পানির পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে ওযু শুদ্ধ হবে না। (আল-হিদায়া, ১/১৪)

উপসংহার:

আপনার উচিত: ১. আগের নামাজগুলো পুনরায় আদায় করা (যেগুলো কালি লাগা অবস্থায় পড়েছেন)। ২. ভবিষ্যতে ওযুর আগে কালি অপসারণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। ৩. যদি কালি অপসারণ করা সম্ভব না হয় এবং পানি ত্বকে পৌঁছায়, তাহলে ওযু শুদ্ধ হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.