নগদ একাউন্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হওয়া ১০ টাকার বিধান কী? সাদকা করলে কি একাউন্টের বাকি টাকা ব্যবহার করা যাবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4230
Questioner: Nurul Amin
Question Asked: 20 Aug 2026, 10:09 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 10:17 PM
Views: 18
Tokens: 4,746
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নগদ একাউন্টে ১০ টাকা এমনি এমনিই যোগ হয়ে গেছে।এই ১০ কি জন্য দিল তা জানিনা।যা ব্যাবহার করা সম্ভবত নাজায়েজ।এখন,
(ক) যদি আমি আমি ১০ টাকা সাদকা করে দেই তবে কি আমি একাউন্টে ১০ টাকা ব্যাবহার করতে পারবো?
(খ) যদি এই IslamQA Pro ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করার জন্য টাকা ভরতে গিয়ে যদি অনিচ্ছায় ৫০ টাকার সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া ১০ টাকা থেকে ৭৬ পয়সা যোগ হয়। তবে ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করা কি জায়েয হবে?(যদি আমি টাকাগুলো সাদকা করার নিয়ত রাখি)
(গ) ঐ ১০ টাকা যদি কোনো দাতব্য সংস্থাকে দেই যারা গরীবদের জন্য কাজ করে তাহলে কি আমি দায়মুক্ত হবো?

Answer

নগদ একাউন্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হওয়া ১০ টাকার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার নগদ একাউন্টে ১০ টাকা অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হয়েছে, যা সম্ভবত নাজায়েয উৎস থেকে এসেছে। আপনি জানতে চাচ্ছেন:

ক. ১০ টাকা সাদকা করলে একাউন্টের বাকি টাকা ব্যবহার করা যাবে কি? খ. IslamQA Pro ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করার জন্য টাকা ভরতে গিয়ে যদি সেই ১০ টাকার অংশ (৭৬ পয়সা) স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়, তবে প্রশ্ন করা জায়েয হবে কি? গ. ১০ টাকা দাতব্য সংস্থাকে দিলে দায়মুক্ত হবেন কি?


উত্তর

ক. ১০ টাকা সাদকা করলে একাউন্টের বাকি টাকা ব্যবহার করা যাবে কি?

হ্যাঁ, তবে শর্তসাপেক্ষে।

যদি ১০ টাকা নাজায়েয উৎস থেকে এসে থাকে এবং আপনি তা সাদকা করে দেন, তাহলে অবশিষ্ট টাকা ব্যবহার করা জায়েয হবে। তবে এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়:

১. সাদকার নিয়ত: আপনি যদি ১০ টাকা সাদকা করার নিয়ত করেন, তাহলে তা সাদকা হিসেবে গণ্য হবে এবং আপনি দায়মুক্ত হবেন।

২. সঠিক খাত: এই টাকা অবশ্যই এমন খাতে দিতে হবে যেখানে সাদকা প্রদান করা জায়েয, যেমন গরীব-মিসকীন, এতিমখানা ইত্যাদি।

৩. সওয়াবের নিয়ত নয়: নাজায়েয উৎস থেকে আসা টাকা সাদকা করলে এর জন্য সওয়াব পাওয়া যাবে না, তবে দায়মুক্তি পাওয়া যাবে।

দলিল:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি হারাম উপার্জন করে, অতঃপর তা সাদকা করে, তার জন্য এর কোনো সওয়াব নেই, বরং তার গুনাহ তার উপরই থাকবে।"

(সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৯০, সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩৩৮৩)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)在其著名的著作《রদ্দুল মুহতার》中写道:

"যদি কেউ হারাম মাল সাদকা করে, তবে সে দায়মুক্ত হবে, কিন্তু সওয়াব পাবে না।"

(রদ্দুল মুহতার, ৬তম খণ্ড, ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

আল-হিদায়াহ-তে উল্লেখ আছে:

"হারাম মাল থেকে সাদকা করা জায়েয, তবে এর দ্বারা সওয়াব অর্জিত হয় না।"

(আল-হিদায়াহ, ৩য় খণ্ড, ২১৪ পৃষ্ঠা)


খ. IslamQA Pro ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করার জন্য টাকা ভরতে গিয়ে ৭৬ পয়সা যুক্ত হলে প্রশ্ন করা জায়েয হবে কি?

এই ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবেচনা প্রয়োজন:

১. যদি আপনি সাদকা করার নিয়ত রাখেন: আপনি যদি দৃঢ় সংকল্প করেন যে, এই ১০ টাকা থেকে যতটুকু অংশ (৭৬ পয়সা) ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করার খরচে যুক্ত হয়েছে, তা পরে সাদকা করে দেবেন, তাহলে প্রশ্ন করা জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ।

২. মূলনীতি: ফিকহের মূলনীতি হলো, যদি কোনো মালের মধ্যে হালাল ও হারাম মিশ্রিত থাকে এবং হারাম অংশের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য হয়, তাহলে সামগ্রিকভাবে তা ব্যবহার করা জায়েয, তবে হারাম অংশ সাদকা করতে হবে।

দলিল:

ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, যদি কোনো ব্যক্তির মালে হালাল ও হারাম মিশ্রিত থাকে, তাহলে সে তা থেকে খেতে পারবে, তবে হারাম পরিমাণ সাদকা করা আবশ্যক।

(আল-মাবসুত, ২৪তম খণ্ড, ১৪৫ পৃষ্ঠা)

ফাতাওয়া আলমগীরী-তে উল্লেখ আছে:

"যদি কোনো ব্যক্তির নিকট হালাল ও হারাম মিশ্রিত মাল থাকে, তাহলে তার জন্য তা থেকে খাওয়া জায়েয, তবে হারাম অংশের পরিমাণ সাদকা করা ওয়াজিব।"

(ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫ম খণ্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেছেন:

"যদি কোনো মালের মধ্যে হালাল ও হারাম মিশ্রিত থাকে এবং হারাম অংশ নগণ্য হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েয, তবে হারাম অংশ সাদকা করতে হবে।"

(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪র্থ খণ্ড, ২১৫ পৃষ্ঠা)

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তির একাউন্টে নাজায়েয উৎস থেকে টাকা জমা হয় এবং সে তা সাদকা করার নিয়ত করে, তাহলে অবশিষ্ট টাকা ব্যবহার করা জায়েয।"

(ফিকহুল বুয়ু', ২য় খণ্ড, ৪৫৬ পৃষ্ঠা)


গ. ১০ টাকা দাতব্য সংস্থাকে দিলে দায়মুক্ত হবেন কি?

হ্যাঁ, দায়মুক্ত হবেন।

যদি আপনি ১০ টাকা এমন কোনো দাতব্য সংস্থাকে দেন যারা গরীব-মিসকীনদের জন্য কাজ করে, তাহলে আপনি দায়মুক্ত হবেন। তবে শর্ত হলো:

১. সংস্থাটি সত্যিই গরীব-মিসকীনদের জন্য কাজ করে ২. টাকাটি তাদের কাছে পৌঁছায় ৩. তারা তা গরীবদের জন্য ব্যয় করে

দলিল:

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেছেন:

"হারাম মাল সাদকা করার মাধ্যমে দায়মুক্তি পাওয়া যায়, যদি তা গরীব-মিসকীনদের দেওয়া হয়।"

(রদ্দুল মুহতার, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ আছে:

"যদি কেউ হারাম উপার্জন থেকে টাকা গরীবদের সাদকা করে, তাহলে সে দায়মুক্ত হবে, তবে সওয়াব পাবে না।"

(ফাতাওয়া উসমানি, ২য় খণ্ড, ২১৫ পৃষ্ঠা)


সারসংক্ষেপ ও সুপারিশ

১. ১০ টাকা সাদকা করুন: আপনি ১০ টাকা সাদকা করে দিলে একাউন্টের বাকি টাকা ব্যবহার করা জায়েয হবে।

২. ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করা: ৭৬ পয়সা যুক্ত হলেও, যদি আপনি সাদকা করার নিয়ত রাখেন, তাহলে প্রশ্ন করা জায়েয হবে। তবে উত্তম হলো, আগে ১০ টাকা সাদকা করে নেওয়া।

৩. দাতব্য সংস্থায় দান: ১০ টাকা দাতব্য সংস্থাকে দিলে দায়মুক্ত হবেন, যদি তারা সত্যিই গরীবদের জন্য কাজ করে।

মনে রাখবেন: এই টাকা সাদকা করলে সওয়াব পাওয়া যাবে না, তবে দায়মুক্তি পাওয়া যাবে। সওয়াব পাওয়ার জন্য নিজের হালাল উপার্জন থেকে আলাদাভাবে সাদকা করুন।


আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.