ফেসবুকের গিভওয়ে গুলোতে অংশগ্রহণ করা জায়েজ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4226
Questioner: Mohammed Mahtab Hossain
Question Asked: 20 Aug 2026, 09:17 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 09:37 PM
Views: 11
Tokens: 2,652
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামু আলাইকুম।
ফেসবুকে বিভিন্ন গিভওয়ে দেয়া হয়। গিভওয়ে তে অংশগ্রহণ করার জন্য তাদের পেজ লাইক, ফলো, পোস্ট শেয়ার, কমেন্ট ইত্যাদি করতে বলা হয়, কিন্তু কোনো ফী নেয়না। এসব করে গিভওয়ে তে অংশগ্রহণ করে পুরস্কার নেয়া জায়েজ?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। ফেসবুকের বিভিন্ন গিভওয়েতে (Giveaway) অংশগ্রহণ করে পুরস্কার নেওয়ার বিধান সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি নিম্নরূপ:

মূলনীতি: ইসলামী ফিকহে লটারি বা জুয়ার মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন করা হারাম। তবে যদি কোনো প্রতিযোগিতা বা প্রচারণামূলক আয়োজনে কোনো প্রকার জুয়া বা শর্তযুক্ত বাজি না থাকে, এবং অংশগ্রহণকারীদের থেকে কোনো ফি (টাকা) না নেওয়া হয়, তাহলে সেটি জুয়া হিসেবে গণ্য হবে না।

হানাফি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ:

১. ফি না নেওয়ার শর্ত: যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গিভওয়েতে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে না, তাই এটি জুয়া (Qimar) এর আওতায় পড়বে না। জুয়ার মূল শর্ত হলো অংশগ্রহণকারীদের থেকে অর্থ বা মূল্যবান কিছু গ্রহণ করা এবং বিজয়ীকে সেই অর্থ প্রদান করা। (রদ্দুল মুহতার, ৬তম খণ্ড, ৪০৩ পৃষ্ঠা)

২. পেজ লাইক, ফলো, শেয়ার, কমেন্ট: এই কাজগুলো মূলত প্রচারণামূলক কার্যক্রম। অংশগ্রহণকারী যদি স্বেচ্ছায় পেজ লাইক, ফলো, শেয়ার বা কমেন্ট করে, এবং এর বিনিময়ে পুরস্কার জেতার সুযোগ পায়, তবে এটি একটি প্রচারণামূলক প্রতিযোগিতা (Promotional Contest) হিসেবে গণ্য হবে। এটি জুয়া নয়, বরং এটি একটি বৈধ ব্যবসায়িক কৌশল।

৩. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি: হানাফি ফিকহে এমন প্রতিযোগিতাকে বৈধ বলা হয়েছে যেখানে অংশগ্রহণকারীদের থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হয় না এবং বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এটি দান বা উপহার (Hibah) এর মতো গণ্য হয়। (বাদায়েউস সানায়ে, ৫ম খণ্ড, ১২৮ পৃষ্ঠা)

৪. শর্ত: তবে শর্ত হলো, পুরস্কার জেতার জন্য অংশগ্রহণকারীকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। শুধুমাত্র লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ইত্যাদি করলেই যদি অংশগ্রহণ সম্পন্ন হয়, তাহলে তা বৈধ। কিন্তু যদি অংশগ্রহণের জন্য কোনো টাকা দিতে হয় (যেমন: পণ্য কিনতে হয় বা ফি দিতে হয়), তাহলে সেটি জুয়া হয়ে যাবে এবং হারাম হবে।

মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম)-এর মত: তিনি বলেছেন, বর্তমান যুগের অনলাইন প্রতিযোগিতাগুলোতে যদি অংশগ্রহণকারীদের থেকে কোনো অর্থ না নেওয়া হয় এবং বিজয়ী নির্ধারণে কোনো প্রকার প্রতারণা না থাকে, তাহলে সেটি বৈধ। তবে বিজয়ী নির্ধারণের পদ্ধতি যদি সম্পূর্ণ এলোমেলো (Random) হয় এবং তাতে কোনো কৌশল বা প্রতারণা না থাকে, তাহলে তাও বৈধ। (ফিকহুল বুয়ূ, ২য় খণ্ড, ৫৪৮ পৃষ্ঠা)

সতর্কতা:

  • গিভওয়ের আয়োজক যদি প্রতারণা করে (যেমন: পূর্বনির্ধারিত বিজয়ী থাকে), তাহলে সেখানে অংশগ্রহণ করা এবং পুরস্কার নেওয়া জায়েজ নয়, কারণ এটি ধোঁকা বা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত।
  • গিভওয়েতে অংশগ্রহণের জন্য যদি কোনো পণ্য ক্রয় করতে বলা হয় বা কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়, তাহলে সেটি জুয়া হবে এবং হারাম।

সিদ্ধান্ত: যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে না, শুধুমাত্র পেজ লাইক, ফলো, শেয়ার, কমেন্ট করতে বলা হচ্ছে, তাই এই ধরনের গিভওয়েতে অংশগ্রহণ করা এবং পুরস্কার নেওয়া জায়েজ। তবে শর্ত হলো, আয়োজক যেন প্রতারক না হয় এবং বিজয়ী নির্ধারণে কোনো প্রকার কারচুপি না থাকে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.