বিয়ের দুই দিন পর পালিয়ে অন্যত্র বিয়ে করলে করণীয় কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 4218
Questioner: Afrin Tuba
Question Asked: 20 Aug 2026, 07:29 PM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 07:44 PM
Views: 10
Tokens: 2,770
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার প্রথম বিয়ে হয় ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল। তারপর আমি দুইদিন পর পালিয়ে আমার প্রেমিক কে বিয়ে করি, আমার প্রথম স্বামির সাথে কোন শ্বারীরিক সম্পর্ক হয় নি। এখন আমার ২য় বিয়ে হালাল হয়েছে কি?

Answer

দ্বিতীয় বিবাহের বৈধতা সম্পর্কে ফতোয়া

প্রশ্ন: আমার প্রথম বিয়ে হয় ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল। তারপর আমি দুইদিন পর পালিয়ে আমার প্রেমিককে বিয়ে করি। আমার প্রথম স্বামীর সাথে কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। এখন আমার দ্বিতীয় বিয়ে হালাল হয়েছে কি?


উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ। আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। ইসলামী আইন অনুযায়ী এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

১. প্রথম বিবাহের বৈধতা

২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল আপনার প্রথম বিবাহ যদি শরীয়তসম্মতভাবে (অর্থাৎ, ইজাব-কবুল, সাক্ষী, এবং অভিভাবকের সম্মতিতে) সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে তা বৈধ হয়েছে। বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক না হলেও বিবাহের বন্ধন বহাল থাকে।

২. দ্বিতীয় বিবাহের বিধান

ইসলামী আইনে একজন বিবাহিত নারীর জন্য অন্য পুরুষকে বিবাহ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং অবৈধ। কুরআন ও হাদীসে এর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কুরআনের নির্দেশ:

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ "আর বিবাহিতা নারী (তোমাদের জন্য হারাম), তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত।" (সূরা আন-নিসা: ২৪)

হাদীসের নির্দেশ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لاَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا وَلاَ عَلَى خَالَتِهَا "কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহ করা যাবে না।" (সহীহ বুখারী: ৫১০৮)

তবে এখানে মূল বিষয় হলো, প্রথম বিবাহের বন্ধন অটুট থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

৩. হানাফী ফিকহের বিধান

ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৩০৩) তে উল্লেখ আছে:

"যদি কোনো বিবাহিত নারী অন্য পুরুষকে বিবাহ করে, তবে সেই বিবাহ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাতিল।"

রদ্দুল মুহতার (৩/৮৫) তে বলা হয়েছে:

"বিবাহিত নারীর জন্য অন্য বিবাহ করা হারাম এবং তা সম্পাদিত হলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।"

৪. আপনার দ্বিতীয় বিবাহের অবস্থা

যেহেতু আপনার প্রথম বিবাহের বন্ধন তখনও বহাল ছিল (শারীরিক সম্পর্ক না হলেও), তাই আপনার দ্বিতীয় বিবাহটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাতিল। এই বিবাহ ইসলামী দৃষ্টিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এটি গুনাহের কাজ। যদি প্রথম বিয়ে জোর পূর্বক দেয়া হয়, তাহলে আপনার জন্য প্রথম স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া বা খুলা করা নাজায়েয হবে না। জোর পূর্বক হলেও যেহেতু আপনি কবুল করেছেন, তাই আপনার বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

৫. করণীয়

১. প্রথম স্বামীর সাথে সম্পর্ক: আপনার প্রথম স্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক এখনও বহাল আছে। আপনাকে তার কাছে ফিরে যেতে হবে অথবা তালাকের মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

২. দ্বিতীয় বিবাহ থেকে বিরত থাকা: দ্বিতীয় বিবাহটি বাতিল হওয়ায় আপনাকে অবিলম্বে সেই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. তওবা করা: এই কাজের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।

৪. প্রথম স্বামীর সাথে সম্পর্ক স্থির করা: যদি প্রথম স্বামীর সাথে থাকতে না চান, তবে তালাক বা খুলার মাধ্যমে সম্পর্ক ছিন্ন করুন। তালাকের পর ইদ্দত (তিন মাসিক) পূর্ণ হলে তবেই আপনি অন্যত্র বিবাহ করতে পারবেন।

৬. গুরুত্বপূর্ণ নোট

শারীরিক সম্পর্ক না হওয়ার কারণে প্রথম বিবাহ ভেঙে যায়নি। ইসলামী আইনে বিবাহের বন্ধন শারীরিক সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং বৈধ আকদের (চুক্তির) উপর নির্ভরশীল।


আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.