বাগদানের পর পাত্রীর সাথে ম্যাসেজ বন্ধ রেখে নোটপ্যাড বা ডায়েরিতে মনের কথা লিখে রাখা জায়েজ কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 4192
Questioner: Kitab Potro
Question Asked: 20 Aug 2026, 01:11 AM
Reviewed & Published: 20 Aug 2026, 02:19 AM
Views: 17
Tokens: 2,845
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে পাত্রীর সাথে ম্যাসেজে ব্যাক্তিগত যোগাযোগ বন্ধ রাখার পর যখন কথা বলতে ইচ্ছে করে তখন নোটপ্যাড অ্যাপ বা ডায়েরিতে কথাগুলো লিখে রাখা জায়েজ হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো: বাগদানের পর (বিয়ে ঠিক হওয়ার পর) পাত্রীর সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ (ম্যাসেজ) বন্ধ রেখে, কথা বলার ইচ্ছা হলে সেই কথাগুলো নোটপ্যাড বা ডায়েরিতে লিখে রাখা জায়েজ হবে কি না?

উত্তর: হ্যাঁ, নোটপ্যাড বা ডায়েরিতে নিজের মনের কথা বা ভাবনা লিখে রাখা জায়েজ আছে, তবে এর সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সতর্কতা জড়িত।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ:

১. নিজের মনের কথা লেখা মূলত জায়েজ: ইসলামে নিজের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি বা ডায়েরি লেখা নিষিদ্ধ নয়। এটি একটি ব্যক্তিগত কাজ। যতক্ষণ পর্যন্ত এতে কোনো গুনাহের কাজ বা হারাম বিষয়ের প্রতি উৎসাহ না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা জায়েজ। এটি লেখার মাধ্যমে আপনি আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং একটি বৈধ মাধ্যম (লেখা) ব্যবহার করছেন, যা প্রশংসনীয়।

২. উদ্দেশ্য ও নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ: আপনার নিয়ত যদি হয় যে, "আমি পাত্রীর সাথে হারাম পথে (ম্যাসেজ/ফোনে) কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখছি এবং এই ইচ্ছাগুলোকে আমি লেখার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি", তাহলে এটি একটি উত্তম কৌশল। এটি আপনার সংযমের পরিচায়ক। (সূরা আন-নূর, ২৪:৩০-৩১ এর আলোকে)

৩. সতর্কতা (যা অবশ্যই মানতে হবে):

  • লেখা যেন গোপন থাকে: এই লেখাগুলো যেন আপনার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে গোপন থাকে। অন্য কেউ যেন তা পড়ে ফেলতে না পারে, বিশেষ করে পাত্রী বা তার পরিবারের কেউ নয়। কারণ, বাগদানের পরও পাত্র-পাত্রী পরস্পরের জন্য বৈধ নয় (মাহরাম নয়)। তাই এই লেখা যদি পাত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বা তাকে দেখানো হয়, তবে সেটি আবার যোগাযোগেরই একটি রূপ হয়ে যাবে, যা আপনি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন।
  • লেখায় যেন হারাম কিছু না থাকে: লেখায় পাত্রীর প্রতি ভালোবাসার এমন কোনো প্রকাশ বা কামভাব (শারীরিক আকর্ষণ) যেন না থাকে, যা লেখার সময়ও গুনাহের কারণ হয়। মনে রাখবেন, চিন্তা ও কল্পনাও যদি খারাপ হয়, তবে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে সাধারণ "তার সাথে দেখা করার ইচ্ছা" বা "কথা বলার ইচ্ছা" লেখা গুনাহ নয়, যতক্ষণ তা মনে পোষণ করা হচ্ছে এবং কাজে পরিণত হচ্ছে না।
  • লেখা যেন বাস্তবে কাজে পরিণত না হয়: এই লেখাগুলো যেন আপনাকে আবার পাত্রীর সাথে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত না করে। লেখার উদ্দেশ্য হলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, উস্কে দেওয়া নয়।

৪. হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি: হানাফি ফিকহে (ফাতাওয়া আলমগীরী, রদ্দুল মুহতার) মূলনীতি হলো, যে কাজ নিজের জন্য করা হয় এবং তাতে অন্যের কোনো ক্ষতি বা আল্লাহর নাফরমানি না থাকে, তা জায়েজ। আপনার কাজটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এটি একটি বৈধ উপায়ে অবৈধ কাজ (হারাম যোগাযোগ) থেকে বিরত থাকার চেষ্টা। তাই এটি জায়েজ।

উপসংহার/পরামর্শ: আপনার এই পদ্ধতি (নোটপ্যাডে লেখা) একটি ভালো উদ্যোগ। তবে, আমি পরামর্শ দেবো, এই লেখাগুলোকে আপনি আপনার "ব্যক্তিগত ডায়েরি" হিসেবেই রাখুন। প্রয়োজনে লেখার পর সেগুলো ডিলিট করে দিতে পারেন, কারণ লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো মনের ভার হালকা করা, যা আপনি লেখার সময়ই পূরণ করেছেন। আর বাস্তবে পাত্রীর সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করুন বৈধ সম্পর্ক (নিকাহ) হওয়ার পর। নিকাহের পর পাত্রী আপনার জন্য হালাল হবে এবং তখন সরাসরি কথা বলা, ম্যাসেজ করা সবই জায়েজ হবে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.