ব্যাংকের মাধ্যমে ফাইন্যান্সিয়াল সলভেন্সি শো করার কাজ করে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হালাল নাকি হারাম?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4128
Questioner: Opu Ahamed
Question Asked: 18 Aug 2026, 03:21 PM
Reviewed & Published: 18 Aug 2026, 03:41 PM
Views: 40
Tokens: 4,489
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীকে একটি ফাইন্যান্সিয়াল সলভেন্সি শো করতে হয় ওই দেশের ইমিগ্রেশনকে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের দেশের স্টুডেন্টদের সেই ফাইনান্সিয়াল সালভেন্সি টা নাই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো ও বিভিন্ন ব্যক্তি একটা সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে এই সার্ভিসটি দিয়ে থাকে। যেখানে তারা সার্ভিস চার্জ দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সলভেন্সি দেখাতে পারে।

সেক্ষেত্রে ব্যাংক এবং স্টুডেন্টদের সাথে সমঝতা করিয়ে দেয়া ও বিভিন্ন কাগজ রেডি করার জন্যে অনেকে হেল্প করে ও একটা চার্জ নেই। যে ব্যক্তি এই সার্ভিস চার্জ নিয়ে কাজটি করে দিল সে কি হালাল উপার্জন করল নাকি হারাম?

Answer

ব্যাংকের কাজ করে সার্ভিস চার্জ নেওয়ার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ফাইন্যান্সিয়াল সলভেন্সি প্রমাণ করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব সলভেন্সি না থাকায় ব্যাংক বা বিভিন্ন ব্যক্তি সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে এই সলভেন্সি দেখানোর ব্যবস্থা করে দেয়। প্রশ্ন হলো, এই কাজ করে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হালাল নাকি হারাম?

উত্তর

মূলনীতি

ইসলামী অর্থনীতিতে কোনো সেবা বা কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয, তবে শর্ত হলো কাজটি বৈধ হতে হবে এবং কোনো প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় না নিতে হবে।

কুরআন ও হাদীসের আলোকে

আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ "হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।" (সূরা আন-নিসা: ২৯)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

«الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا» "ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়।" (সহীহ বুখারী)

হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি

১. সলভেন্সি শো করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রদান:

যদি ব্যাংক বা ব্যক্তি মিথ্যা সলভেন্সি সার্টিফিকেট তৈরি করে দেয় বা জালিয়াতি করে, তবে তা সম্পূর্ণ হারাম এবং প্রতারণা। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, প্রতারণামূলক লেনদেন সম্পূর্ণ নাজায়েয।

২. বৈধ সেবা প্রদান:

যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীর জন্য বৈধ উপায়ে সলভেন্সির ব্যবস্থা করে (যেমন: বৈধ ঋণ, স্পনসরশিপ, বা প্রকৃত আর্থিক সহায়তা) এবং এর বিনিময়ে সেবা চার্জ নেয়, তবে তা জায়েয হতে পারে। কারণ এটি একটি বৈধ সেবা।

৩. দলিল প্রস্তুত করা:

শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা, ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা—এসব বৈধ কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)-এর বক্তব্য

ইবনে আবিদীন (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ "রদ্দুল মুহতার" এ উল্লেখ করেছেন:

"যে কাজে শরীয়তের কোনো নিষেধ নেই, সেই কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয। কিন্তু যে কাজে শরীয়তের লঙ্ঘন রয়েছে, তার বিনিময় গ্রহণ করা হারাম।"

ফাতাওয়া উসমানী ও ইমদাদুল ফাতাওয়া

মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম)在其 ফাতাওয়া উসমানীতে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো সেবা প্রদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয, তবে শর্ত হলো সেবাটি বৈধ হতে হবে এবং কোনো প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় না নিতে হবে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ

যে ক্ষেত্রে হারাম:

  • মিথ্যা সলভেন্সি সার্টিফিকেট তৈরি করা
  • জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে ইমিগ্রেশনকে বিভ্রান্ত করা
  • ব্যাংক স্টেটমেন্টে মিথ্যা তথ্য প্রদান
  • যে কাজটি সম্পূর্ণ মিথ্যার উপর ভিত্তি করে

যে ক্ষেত্রে হালাল:

  • প্রকৃত অর্থে সলভেন্সির ব্যবস্থা করা (বৈধ ঋণ, স্পনসরশিপ)
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে সাহায্য করা
  • ব্যাংক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বৈধ সমঝোতা করানো
  • ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বৈধ সহায়তা প্রদান

ফিকহী নীতিমালা

হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী:

"الْأَصْلُ فِي الْمُعَامَلَاتِ الْإِبَاحَةُ" "লেনদেনের মূলনীতি হলো বৈধতা।"

কিন্তু যদি কোনো লেনদেনে প্রতারণা বা মিথ্যা থাকে, তবে তা হারাম হয়ে যায়।

সারসংক্ষেপ ও ফতোয়া

উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়:

১. যদি কাজটি মিথ্যা সলভেন্সি দেখানো বা জালিয়াতির মাধ্যমে হয় অথবা এভাবে কাজ করে দেয়া যদি আইন বিরোধী হয় — তাহলে তা সম্পূর্ণ হারাম এবং এর বিনিময়ে নেওয়া অর্থও হারাম।

২. যদি ব্যাংকটি ইসলামী কোনো ব্যাংক হয়,সুদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকে, কাজটি যদি বৈধ উপায়ে সলভেন্সির ব্যবস্থা করা হয় (যেমন: স্পনসরশিপ) — কাজটি ও চার্জ নেয়া যদি আইন বিরোধী না হয় তাহলে সেবা চার্জ নেওয়া জায়েয।

৩. যদি কাজটি শুধুমাত্র কাগজপত্র প্রস্তুত করা, ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা হয় বিনিময় যদি নির্দিষ্ট হয়— তাহলে এটি বৈধ সেবা এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া হালাল।

৪. যদি কাজটি প্রতারণা বা মিথ্যার উপর ভিত্তি করে হয়,বা সুদী কাজে সহযোগিতা থাকে — তাহলে তা হারাম এবং উপার্জিত অর্থও হারাম।

বিশেষ নোট: বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যাংক ও ব্যক্তি মিথ্যা সলভেন্সি সার্টিফিকেট তৈরি করে দেয়, যা সম্পূর্ণ হারাম। কিন্তু যদি কেউ বৈধ উপায়ে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করে এবং প্রকৃত সেবা প্রদান করে, তাহলে তা হালাল।

বিঃদ্রঃ এক্ষেত্রে সুদী কারবারে সহযোগিতা হলে কোনোক্রমেই এই সেবা বৈধ হবেনা।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.