কুরবানী ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর যৌথ সম্পদ একত্র করে নিসাব ধরা হবে না পৃথক?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 412
Questioner: Roksana 0114
Question Asked: 20 May 2026, 02:40 PM
Reviewed & Published: 20 May 2026, 03:06 PM
Views: 36
Tokens: 4,485
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কুরবানী ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর সকল সম্পদ একত্রে হিসাব করে কি নিসাব ধরা হবে নাকি স্ত্রীর গহনা থাকলে সেটার জন্য স্ত্রী কে আলাদা আবার স্বামীর জমানো টাকা থাকলে সেটার জন্য আলাদা কুরবানী দিতে হবে?? আর কত ড়াকা জমানো থাকলে কুরবানী ওয়াজিব?? যার ওপর কুরবানী ওয়াজিব তাকে কি কি করতে হয় জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন। কিভাবে প্রস্তুতি রাখতে হয়??

Answer

প্রশ্ন:
কুরবানী ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর সকল সম্পদ একত্রে হিসাব করে নিসাব ধরা হবে, নাকি স্ত্রীর গহনা থাকলে সেটার জন্য স্ত্রীকে আলাদাভাবে কুরবানী দিতে হবে? আর স্বামীর জমানো টাকার জন্য আলাদা কুরবানী দিতে হবে? কত টাকা জমানো থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হয়? যার ওপর কুরবানী ওয়াজিব, জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন তাকে কী কী করতে হয় এবং প্রস্তুতি কীভাবে রাখতে হয়?

উত্তর:

১. স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ পৃথক গণনা ও কুরবানীর নিসাব

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন ও নিসাবের মালিক মুসলমানের ওপর কুরবানী ওয়াজিব। স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ একত্রে হিসাব করা হয় না; বরং প্রত্যেকের নিজস্ব সম্পদ পৃথকভাবে গণনা করা হবে।

  • যদি স্ত্রীর নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে (যেমন: গহনা, নগদ টাকা, ব্যবসায়িক পণ্য), তাহলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
  • স্বামীর জমানো টাকা ও অন্যান্য সম্পদ যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তার ওপর পৃথক কুরবানী ওয়াজিব।
  • স্ত্রীর গহনার বিধান: গহনা ব্যবহারের জন্যই হোক বা সঞ্চয়ের জন্য, যদি তার মূল্য নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তা সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে এবং স্ত্রীর ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। (হাদীস ও ফিকহে স্পষ্ট দলিল রয়েছে)

মাসআলা: স্বামী যদি একটি পশু কুরবানী করে, তা স্বামীর নিজের ওয়াজিব আদায় হবে, স্ত্রীর ওয়াজিব আদায় হবে না—যদি স্ত্রী নিসাবের মালিক হয়। তবে স্ত্রী তার নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী স্বামীর মাধ্যমেও করতে পারেন।

হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • "রদ্দুল মুহতার" (৬/৩১২) - “কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব শর্ত; আর নিসাব গণনা প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব সম্পদ অনুযায়ী হয়।”
  • "ফাতাওয়া উসমানী" (২/১৪৩) - “স্ত্রীর গহনা নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব।”
  • "ইমদাদুল ফাতাওয়া" (২/১৪৭) - “স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ আলাদা; একজনের সম্পদ অন্যের জন্য কার্যকর নয়।”

২. কোন সম্পদ কি পরিমাণ জমা থাকলে যাকাত এবং কুরবানী ও সদকায়ে ফিতির ওয়াজিব হবে?

মাল দুই প্রকার যথা, মালে নামী(বাড়ন্ত মাল) এবং মালে গায়রে নামী(অবান্তর মাল মালে নামী হল: যাকাত ফরয হওয়ার জন্য নিসাবের পরিমাণ সম্পদ হলো:

  • সোনা: ৮৭.৪৮ গ্রাম (সাড়ে সাত ভরি)
  • রূপা: ৬১২.৩৬ গ্রাম (সাড়ে বায়ান্ন ভরি)
    -নগদ টাকা বা ব্যবাসায়িক পণ্য: উপরোক্ত দুইয়ের সর্বনিম্নটি তথা রূপার নেসাব সমপরিমাণ বর্তমান বাজারমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য।
    -** যদি কারো কাছে স্বর্ণ এবং রূপা বা নগদ টাকা থাকে, তবে কোনোটিরই পরিপূর্ণ নেসাব না হয়, তাহলে সবকিছু মিলিত করে রূপার নেসাব পরিমাণ টাকা হয়ে গেলেই যাকাত ফরয হবে। উক্ত সবগুলো সম্পদকে মালে নামী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এগুলো কারো কাছে থাকলে যাকাত ফরয হবে। এবং সাথে সাথে কুরবানি ও সদকায়ে ফিতিরও ওয়াজিব হবে।

মালে গায়রে নামী: হল, প্রয়োজন অতিরিক্ত ঘরের আসবাবপত্র, এক বৎসরের খোরাকির অতিরিক্ত জমি,প্রয়োজন অতিরিক্ত গাড়ী বাড়ী ইত্যাদি যদি রূপার নেসাব তথা ৫২.৫ ভড়ির অতিরিক্ত হয়, তাহলে কুরবানি এবং সদকায়ে ফিতির ওয়াজিব হবে। শর্ত: এই সম্পদ মৌলিক প্রয়োজন (বাসস্থান, খাদ্য, পোশাক, ঋণ ইত্যাদি) অতিরিক্ত হতে হবে এবং কুরবানীর দিনগুলোতে (১০-১২ জিলহজ্জ) মালিক থাকতে হবে।

উদ্ধৃতি:

  • "আল-হিদায়া" (৪/৭০) - “কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব জাকাতের নিসাবের মতোই।”
  • "ফাতাওয়া আলমগীরী" (৫/২৯২) - “যার নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে, তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব।”

৩. জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের করণীয় (যার ওপর কুরবানী ওয়াজিব)

যে ব্যক্তির ওপর কুরবানী ওয়াজিব, তার জন্য জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে নিম্নোক্ত আমল ও প্রস্তুতি রাখা সুন্নত ও মুস্তাহাব:

ক. নফল ইবাদত

  • রোযা: বিশেষত ৯ জিলহজ্জ (আরাফার দিন) রোযা রাখা মুস্তাহাব। হাদীসে এসেছে, “আরাফার দিনের রোযা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।” (মুসলিম: ১১৬২)
  • তাকবীর ও যিকর: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ” বেশি বেশি পড়া।
  • নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং ইস্তিগফার করা।

খ. কুরবানীর প্রস্তুতি

  • নিয়ত: কুরবানীর পশু নির্বাচন ও ক্রয় করা।
  • চুল ও নখ না কাটা: যে ব্যক্তি কুরবানী করবে, তার জন্য জিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী দেওয়া পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটা মুস্তাহাব। (মুসলিম: ১৯৭৭)
  • পশুর যত্ন: পশুকে ভালো খাবার ও পানি দেওয়া।

গ. অন্যান্য আমল

  • গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা: জিহ্বা, চোখ, কান ইত্যাদির হেফাজত।
  • পরিবারকে কুরবানীর গুরুত্ব বোঝানো এবং প্রস্তুতিমূলক আলোচনা।

উদ্ধৃতি:

  • "বেহেশতী জেওর" (৩/২৪) - “জিলহজ্জের প্রথম দশকের আমল অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ; কুরবানী ওয়াজিব ব্যক্তির জন্য এসব আমল করা কর্তব্য।”
  • "মাআরিফুল কুরআন" (সূরা ফজরের তাফসীর) - “এই দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।”

সংক্ষিপ্ত উত্তর

  1. স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ আলাদা গণনা হবে। স্ত্রীর গহনা নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব।
  2. নিসাব: ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপা বা ৮৭.৪৮ গ্রাম সোনার মূল্যের সমপরিমাণ টাকা (মৌলিক প্রয়োজন অতিরিক্ত হলে)।
  3. জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন: রোযা (বিশেষত ৯ তারিখ), তাকবীর, যিকর, কুরআন তিলাওয়াত, দান, চুল-নখ না কাটা (কুরবানীদাতার জন্য) এবং ইবাদতে মগ্ন থাকা।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.